খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

চ্যাম্পিয়নস লিগের সব রোমাঞ্চ সেমিফাইনালে

মঞ্জুর দেওয়ান: যারা ফুটবল খেলা দেখেন না কিংবা পছন্দ করেন না তাদেরকে অভাগা ভাবলে দোষের কিছু হবেনা। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দাড়ি পাল্লায় মাপলে কথাটির যথার্থ মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। ২০১৮/১৯ মৌসুম যে পরিমাণ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে আর কোনো মৌসুমের খেলা এতো উন্মাদনা ছড়িয়েছে কিনা তা বলতে রেকর্ড বইয়ে চোখ মেলতে মেলতে বছরখানেক সময় কেটে যেতে পারে! কি ছিলোনা ম্যাচে? অবিশ্বাস্য, ক্ষ্যাপাটে কিংবা পাগলাটে ম্যাচ যাই বলি না কেনো; কোনো কিছুতেই যেনো বিশেষায়িত করা সম্ভব হচ্ছেনা! মনে হচ্ছে, কিছু একটা কম পড়ে গেলো! এমন মনে হবার পেছনে কারণও রয়েছে বেশ।

কদিন আগেও গণমাধ্যমের শিরোনাম ছিলো, ‘বার্সেলোনার ফাইনালের পথ সুগম’ টাইপের। কেননা, প্রথম লেগে ৩-০ গোলে লিভারপুলকে হারানোর পর উড়ছিলো বার্সা। ঘরের মাঠে মেসিদের গোল উৎসব দেখে কেউই ভাবেনি, লিভারপুল কামব্যাক করতে পারবে। অল রেডদের আশার গুড়ে বালি পড়েছিলো লিভারপুলের তারকা মোহাম্মদ সালাহ আর রবার্তো ফিরমিনোর ইনজুরিতে পড়াতে। অলরেডদের মূল দুই ইঞ্জিন যখন মাঠের বাইরে; জয় আশা করাটা অনেকটা ‘অনৈতিক’ই ছিলো! কিন্তু হারার আগে হার না মানা কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। সালাহ-ফিরমিনোকে বাইরে রেখে একাদশ সাজালেও কৌশলে পরিবর্তন আনেন জার্মান কোচ। দূর্দান্ত গতি আর আক্রমণাত্বক ফুটবলে বারবার চিড় ধরান বার্সা রক্ষণে। যার ফল আসে ম্যাচের ৭ মিনিট বয়সে। ডিভক অরিগির গোলে স্কোরলাইন খুলে লিভারপুল। বিরতি থেকে ফিরে ৫৪ মিনিটে ভাইনালদডামের গোলে স্কোরলাইন ২-০! মিনিট দুই পরে আবার ভাইনালডাম ম্যাজিক। বার্সা কিছু বুঝে উঠবার আগেই স্কোরলাইন ৩-০ ! উপায়ন্ত না পেয়ে আক্রমণ বাড়ায় বার্সা। কিন্তু কাতালানদের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান আলিসন বেকার। ব্রাজিলিয়ান তারকার নৈপূণ্যে গোলপোস্ট অক্ষত থাকে অলরেডদের।

দুই দল যখন জটিল সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত; ৭৯ মিনিটে লিভারপুলের সিক্রেট ট্রিকস! কর্ণার না নেয়ার ভান করে সরে এসে কর্ণার নেন আলেক্সান্দার আর্নোল্ড! অপ্রস্তুত বার্সার জালে তখন বল জড়ান ডিভক অরিগি। ৭৯ মিনিটে ঠুকে দেয়া ওই পেরেক-ই বার্সাকে কফিন বন্দি করে দেয়। সালাহ-ফিরমিনো বিহীন লিভারপুল অবিশ্বাস্যভাবে পৌছে যায় স্বপ্নের ফাইনালে!

পুরো সিজনের কথা ভুলে গেলেও আপনার রোমাঞ্চের অভাব হবেনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের আয়াক্স-টটেনহ্যাম ম্যাচের দ্বিতীয় লেগ দেখলে পয়সা উশুল হয়ে যেতে পারে। বার্সা-লিভারপুলের চেয়ে কম উত্তাপ ছড়ায়নি আয়াক্স-টটেনহ্যাম। ফুটবল ঈশ্বর হয়তো সব উন্মাদনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের জন্য তুলে রেখেছিলেন। নাহলে এমন পাগলাটে ফুটবল ম্যাচ কিভাবে হয়! ঘরের মাঠে টটেনহ্যামকে ১-০ গোলে হারিয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলো আয়াক্স।টটেনহ্যামের গোলমেশিন হ্যারি কেইনকে ছাড়া স্পার্সদের ১-০ গোলের পরাজয় আয়াক্সকে দিয়েছিলো স্বস্তি। ঘরের মাঠে ড্র করলেই চলতো ডাচ ক্লাবের। কিন্তু ম্যাথিজ ডি লিট, হাকিম জাইখরা থেমে থাকেনি। ম্যাচের ৫ মিনিটে সেট পিস থেকে গোল করেন ম্যাথিজ।৩৫ মিনিটে হাকিম জাইখের আঘাত। ডি বক্সের ভিতর থেকে জাইখের বাকানো শটে পরাস্থ হন হুগো লরিস। অ্যামস্টারডাম অ্যারেনায় তখনও আয়াক্স বন্দনা।

অনেক ফুটবল বোদ্ধা এবার আয়াক্সের রূপকথা রচনাকে সময়ের অপেক্ষা বললেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। লুকাস মউরা নামক এক ঝড়ের সামনে উড়ে গেছে ভ্যান ডি বিক, ম্যাথিজ, হাকিম জাইখদের পরিশ্রম। টটেনহ্যামের মাঠে একটি অ্যাওয়ে গোল ও ঘরের মাঠে প্রথমার্ধের আগেই দুই গোল দেয়া আয়াক্সের হারিয়ে যাওয়া কাকতালীয়-ই বটে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেও লুকাস মউরার কাছে আত্মসমর্পণ করে সনস অব গডস!

বিরতি থেকে ফিরেই যেনো রূপ বদলে যায় টটেনহ্যামের। মরিসিও পচেত্তিনোর পরিবর্তিত কৌশলকে বাস্তবে রূপ দেন লুকাস মউরা। ৫৫ ও ৫৯ মিনিটে গোল করে টটেনহ্যামকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন এই ব্রাজিলিয়ান রাইট উইঙ্গার। যোগ করা সময়ে জয়ের অপেক্ষা বাড়ে আয়াক্সের। ৯৬ মিনিট চলতে থাকা ম্যাচের মাত্র কয়েক সেকেণ্ড আগে আয়াক্সের বুকে ‘ছুড়ি’ চালান মউরা। ডেলে আলির বাড়ানো বল থেকে গোল করেন লুকাস মউরা। স্কোরলাইন ৩-৩ হলেও বেশি অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে টটেনহ্যাম। আয়াক্সের কান্নায় ভেসে যাওয়া সবুজ ঘাসে আনন্দের বন্যায় ভাসে টটেনহ্যাম। ১মে প্রথমবারের মতো অল ইংলিশ ক্লাবের ফাইনাল দেখার সুযোগ করে দেন মারিসিও পচেত্তিনোর দল। এবারের মৌসুমের শেষ রোমাঞ্চ দেখার জন্য প্রস্তুত তো?

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker