খেলা

ম্যানসিটির শিরোপা উল্লাসের রাতে লিভারপুলের আক্ষেপ

মঞ্জুর দেওয়ান: ফাইনাল কিংবা শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ বলতে দুই দলের লড়াই বুঝালেও, এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে খেলেছে চার দল! কি উদ্ভট শোনাচ্ছে? একটু খোলাসা করে বলি। মৌসুমের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত নিশ্চিত ছিলোনা, কার ঘরে যাচ্ছে এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। লিগ টাইটেল নির্ধারণী দিনে ম্যানচেস্টার সিটি আর লিভারপুল একই সময়ে মাঠে নেমেছিলো। ম্যানচেস্টার সিটি অতিথি হয়ে গিয়েছিলো ব্রাইটনের মাঠে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে উলভারহ্যাম্পটনকে আতিথ্য দিয়েছিলো লিভারপুল। জেতার উদ্দেশ্যে নামা দুই দলই কাঙ্খিত জয় পেয়েছে।

সাদিও মানের জোড়া গোলে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। তারপরও বিষাদের ভায়োলিন বেজেছে অ্যানফিল্ডে। কেনোনা শিরোপা জিততে শুধু জয় না, সিটির হার কিংবা ড্র দরকার ছিলো লিভারপুলের। কিন্তু অদম্য সিটি ব্রাইটনের মাঠে গোল উৎসব করেছে। গুনে গুনে চার গোল দিয়েছে সিটিজেনরা। ম্যানসিটির গোল ব্রাইটনের জালে জড়ালেও দিনশেষে গোল খেয়েছে লিভারপুল! কেননা ব্রাইটনের জাল-ই ছিলো লিভারপুলের অঘোষিত গোলপোস্ট। ব্রাইটন রক্ষা পেলেই ২৯ বছরের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার খরা কাটতো লিভারপুলের। কিন্তু আগুয়েরো-মাহরেজরা লিভারপুলের আক্ষেপকে ২৯ থেকে ৩০ এ নিয়ে গেছেন! পেপ গার্দিওলা হয়তো মনে মনে বলেছেন, ‘আবার সুযোগ নিন’ !

লিভারপুলের কপাল খারাপই বটে। নাহলে ৯৭ পয়েন্ট নিয়েও কিভাবে লিগ শিরোপা হাতছাড়া হয়! এবারের প্রিমিয়ার লিগে ৩৮ ম্যাচের মাত্র একটি ম্যাচে হেরেছে লিভারপুল। ‘ভুল করে’ অই একটি ম্যাচ হারা-ই যেনো কাল হয়ে দাঁড়ালো ইয়ুর্গেন ক্লপের সামনে। সুন্দরতম ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করেও খালি হাতে থাকতে হলো লিভারপুলের। আর মৌসুম জুড়ে রোমাঞ্চ ছড়ানো ইপিএলের সমাপ্তি ঘটলো ম্যানচেস্টার সিটির হাত ধরেই। টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগ জিতলো পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের নাম লিখলো নতুন করে। গত মৌসুমে পয়েন্টের সেঞ্চুরি করেছিলেন গার্দিওলা। ১০০ পয়েন্ট নিয়ে সিটিকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন পেপ। গত মৌসুমের অবিশ্বাস্য সেই ফর্মই যেনো টেনে এনেছিলেন এবারের মৌসুমে। প্রিমিয়ার লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগে উড়তে থাকা লিভারপুলকে থামিয়ে দিলেন আগুয়েরো-মাহরেজরা। প্রিমিয়ার লিগ জিততে হলে ড্র করলে চলবে না; ক্লপকে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন গার্দিওলার শিষ্যরা।

সাধারণত ৩৫/৩৬ নম্বর ম্যাচের মধ্যেই শিরোপা নিষ্পত্তি হয়ে যায়। আর তা না হলেও, আন্দাজ করা যায়; কার ঘরে যাচ্ছে শিরোপা। কিন্তু এবারের প্রিমিয়ার লিগের যারা খোঁজ খবর রেখেছেন তারা প্রেডিকশনে যেতে চাননি। লিভারপুল-সিটির অঘোষিত দৈরথ চলেছে এবারের মৌসুমের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। ফুটবল পাণ্ডিত্য একটুও কাজ করেনি! পেন্ডুলামের মতো দুলেছে দুই দলের শিরোপা ভাগ্য। এক পয়েন্ট এগিয়ে থেকেও হাফ ছাড়তে পারেননি গার্দিওলা। শিরোপা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষান্ত হননি টাক মাথার স্প্যানিশ ভদ্রলোক! অবশেষে সমানে সমানে পাল্লা দেয়া লিভারপুলকে হতাশ করেই শিরোপা উল্লাস করলো সিটিজেনরা।

ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতোটা বেড়ে চলেছে একটা উদাহরণ দিলে হয়তো কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে। ১৯৯২ সালে যখন ইংল্যান্ডের প্রথম বিভাগের ফুটবলের নাম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ করা হয়, তখনকার জামানায় শিরোপা জিততে এতো এতো পয়েন্টের বালাই ছিলোনা। ৮০ পয়েন্টই ছিলো ঢের ‘বেশি’! তৎকালীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন কম পয়েন্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমকে বলা হয় ম্যানইউ’র সবচেয়ে ‘কষ্টের’ শিরোপা। কেননা, সেবার ৯১ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতেছিলো রেড ডেভিলসরা। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন যুগে ম্যান ইউ এর ১৩ টি ট্রফির মধ্যে ৯১ পয়েন্ট ওয়ালা ট্রফিটিই ছিলো সাধনার! তাছাড়া খুব বেশি খাটতে হয়নি ফার্গি শিষ্যদের। কিন্তু সময় এতোটাই বদলেছে যে, ৯৭ পয়েন্ট নিয়েও শিরোপা হাতছাড়া হয়! টিভিতে এবারের প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখে থাকলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তির হয়তো বিশ্বাস করতে কষ্টই হবে। অবশ্য সিটি-লিভারপুলের শিরোপার রেস দেখে রোমাঞ্চিত হতে পারেন ফার্গুসন দ্য গ্রেট!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker