খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

মঞ্জুর দেওয়ান: অবশেষে ১০ বছরের অপেক্ষা ফুরোল বাংলাদেশের। সেই ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার কাছে ফাইনালে হার দিয়ে শুরু হয়েছিলো। এরপর আরোও পাঁচটি ফাইনালে হেরেছিলো টিম টাইগার। কিন্তু এবার আগের ছয়টি ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেয়নি মাশরাফিরা।

মালাহাইডে বাংলাদেশের বীরত্ব দেখলো পুরো বিশ্ব। ফাইনালে হেরে যাওয়া তকমা দূরে ঠেলে ইতিহাস রচনা করলো টিম টাইগার। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ট্রাইনেশন সিরিজের শিরোপা জিতলো মাশরাফি বাহিনী। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে কার্টেল ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালো পাঁচ উইকেটে। মোসাদ্দেক-সৌম্যের ব্যাটিং নৈপুণ্যে লাল সবুজের পতাকা উড়লো সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর দূরদেশ আয়ারল্যান্ডে!

আগের দুই দেখায় বোতলবন্দী ওয়েস্ট ইন্ডিজ চোখ রাঙানি দিচ্ছিলো ফাইনাল ম্যাচে। বৃষ্টি শুরুর আগে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং আধিপত্য সহ্য করতে হয়েছে মুস্তাফিজদের। ২০ ওভার এক বল মাঠে গড়ালেও কোনো ব্রেক থ্রু এনে দিনে পারেননি টাইগার বোলাররা। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সৈকত-মিরাজ-সাব্বিরদের বোলিং করালেও শাই হোপ ও সুনিল আমব্রিসের সাথে পেরে উঠেনি ক্যাপ্টেন ম্যাশের কৌশল। খরচে বোলিংয়ে কুড়ি ওভার এক বলেই ১৩১ রান বোর্ডে তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টির রুষ্টতায় থেমে যায় খেলা।

বৃষ্টি পরবর্তী সময়ে ২৪ ওভারের খেলায় ১৫২ রান করতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বৃষ্টি আইনের মারপ্যাঁচে সহজ লক্ষ্য কঠিন হয়ে যায়। ২১০ রানের ‘বড়’ টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তামিম-সৌম্য জুটি ভালো শুরু এনে দিলেও ব্যক্তিগত ইনিংস বড় করতে পারেননি তামিম। একবার জীবন পেলেও দলীয় ৫৯ রানের মাথায় শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে জেসন হোল্ডারের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফিরেন।

তামিম ফিরলেও হাল ছেড়ে দেননি সৌম্য সরকার। শিরোপা খরা কাটাতে এক প্রান্ত আগলে ব্যাট করেন টাইগার ওপেনার। তিনে নামা সাব্বির ব্যর্থ হলেও আশা জাগানিয়া ব্যাটিং শুরু করেন মুশফিকুর রহিম। সৌম্য-মুশির ৪৯ রানের জুটি উইনিং ট্র‍্যাকে রাখলেও বাংলাদেশের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিলোনা। ১৪৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের জন্য কঠিন সমীকরণ-ই অপেক্ষা করছিলো। ৪৮ বলে যখন ৬৫ রান দরকার; তখনই ২২ গজে আসেন মোসাদ্দেক সৈকত। ছোট গড়নের মোসাদ্দেকের কাছ থেকেই শুরু হলো বড় ঝড়। যে ঝড়ের শুরু হয় ইনিংসের ১৯ তম ওভারে। ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডরকে লেগে উড়িয়ে মেরে হাত খুলতে শুরু করেন মোসাদ্দেক। ২১ তম ওভারে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে উঠেন এই ডানহাতি। ২৪ বলে ৩৯ রানের ‘কঠিন’ সমীকরণকে পরের ওভারে ২৭ এ নিয়ে আসেন ! ২২ তম ওভারে ফ্যাবিয়েন অ্যালানকে তুলোধুনো করে ২৪ রান আদায় করে বাংলাদেশকে বিজয়ে সুবাস মেখে দেন মোসাদ্দেক। গড়েন ব্যক্তিগত রেকর্ডও। মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেলে ওয়ানডেতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড নিজের করে নেন এই অলরাউন্ডার। যোগ্য সঙ্গী মাহমুদুল্লাহর সৌজন্যে বাংলাদেশকে এনে দেন ‘চির অধরা’ শিরোপা।

মজার ব্যাপার হলো, ১৭ মে ছিলো বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের দিন। ১৯৯৮ সালের ১৭ মে ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ। ২১ বছর আগের দিনে ফিরে যেতে পারেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। মালাহাইডকে হায়দরাবাদ ভেবে নস্টালজিক হয়ে যেতে পারেন আকরাম খানও। তবে স্থান-কাল কিংবা প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেনো; এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপে ভালো করবে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি জিতে বিশ্বকে নতুন বার্তা দিলো টিম বাংলাদেশ!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker