খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশের প্রত্যাশা

মঞ্জুর দেওয়ান: বিগত এক দশক কেবল তীরে এসে তরী ডুবেছে। কিন্তু আয়ারল্যান্ডে ট্রাইনেশন সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের মতো হতে দেয়নি টাইগাররা। এক দশকের শাপমোচন হয়েছে সৌম্য-মোসাদ্দেকদের বদৌলতে। তাই প্রথম কোনো মেজর ট্রফি জেতার রেশ এখনো কাটেনি বাংলাদেশের। আয়ারল্যান্ডে ট্রাইনেশন সিরিজের ফাইনালে ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে নির্মল আনন্দের এক উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে টাইগাররা। ব্রিটিশ মুলুকে টাইগারদের অনবদ্য ক্রিকেট নৈপুণ্য প্রশংসা কুড়িয়েছে সারাবিশ্বেই। হার না মানা এক বাংলাদেশকে দেখে ক্রিকেট পাগল বাঙালি এখনো বুঁদ হয়ে আছে টাইগারদের বন্দনায়। তবে শিরোপা জয় করে বুঁদ হয়ে থাকার সুযোগ নেই টাইগার ক্রিকেটারদের।

আয়ারল্যান্ডে শিরোপা উৎসব সেরে-ই লন্ডনের পথ ধরতে হয়েছে সাকিব-তামিমদের। বিশ্বকাপের আগে ভারত ও পাকিস্তানের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে মাশরাফিদের। লন্ডনে কয়েকদিনের অনুশীলন ক্যাম্প সেরেই কার্ডিফে রওনা হবে টিম বাংলাদেশ। ইংলিশ কন্ডিশনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই মূলত এই প্রস্তুতি ম্যাচ। যদিও আয়ারল্যান্ডে প্রস্তুতির সিংহভাগ নেয়া হয়েছে বাংলাদেশের। তারপরও শেষ মুহূর্তে নিজেদের ঝালাই করে নিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ টনিক হতে পারে বিশ্বকাপের জন্য। তাছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে বিশ্বকাপের একাদশ নির্বাচনের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না কোচ স্টিভ রোডস। সেরা টিম কম্বিনেশন খুঁজে পেতে ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচকে বেছে নিতে পারেন হেড কোচ।

বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কতটা ছিলো সে আলোচনায় আপাতত না যাওয়াই ভালো। তবে ট্রাইনেশনের শিরোপা যেমন আনন্দঘন মুহূর্ত এনে দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ নিয়ে আগের চেয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। আয়ারল্যান্ডে অপরাজেয় এক বাংলাদেশকে দেখে বিশ্বকাপে চওড়া স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কোটি ক্রিকেট ভক্ত। সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাশরাফি-মুস্তাফিজদের আগুনে বোলিং দেখতে চাইছে খোদ টিম ম্যানেজমেন্ট। ইংল্যান্ডে ভালো করতে হলে দলীয় এক শক্তিকেই চাইবে বিসিবি।

তর্কসাপেক্ষে টাইগারদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা দল নির্বাচন হয়েছে ২০১৯ বিশ্বকাপে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডব ছাড়াও আছেন সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাব্বির রহমানের মতো দ্রুতগতিতে রান তোলার মতো ব্যাটসম্যান। স্পিনার হিসেবে আছেন মোসাদ্দেক, মেহেদী হাসান মিরাজ। ২২ গজে ঝড় তোলার জন্য মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন কিংবা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের মতো ইনফর্ম পেসার।। বিশ্বকাপের নতুন চমক আবু জায়েদ রাহিও আছেন স্কোয়াডে। উপযুক্ত গেম প্লান সাজাতে পারলে বাংলাদেশ যেকোনো দলকে হারাতে পারবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

লন্ডনের দ্য ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা। প্রোটিয়াদের ম্যাচের ফলের উপর দ্বিতীয় ম্যাচের ফলও অনেকটা নির্ভর করবে। কেননা, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামতে পারবে টাইগাররা। কিংবা তিন নম্বর ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নামতে পারবে মাশরাফি বাহিনী। ‘অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে যদি ইংল্যান্ডকে রুখে দেয়া যায় তাহলে ইংল্যান্ডে কেনো নয়’ ; মানসিকতার বাংলাদেশকে পেতে প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে অনেকাংশে।

ছন্দে থাকা বাংলাদেশের ছন্দপতন না হলে এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু আশা করাই যায়। ১০ দলের বিশ্বকাপে এবার চেনা প্রতিপক্ষ আছে বাংলাদেশের। যাদের বিপক্ষে ভালো খেলার সুখস্মৃতি আছে টাইগারদের। প্রতিটি দলের সঙ্গে একবার করে গ্রুপ পর্বে খেলা পরবে বাংলাদেশের। মোট নয়টি ম্যাচে ঘুরে ফিরে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো চেনা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় পর্ব কিংবা সেরা আটের বালাই না থাকায় শুরু থেকেই পয়েন্ট, রানরেটের অগ্রাধিকার থাকবে। গ্রুপ পর্ব থেকে সরাসরি সেমিফাইনাল! দুইয়ে দুইয়ে চার মিললে বাংলাদেশ যে সেমিফাইনাল খেলবে তেমনটা প্রত্যাশা করাই যায়!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker