খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি অথবা ক্রিকেটের জটিল আইন

এস.কে.শাওন: ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি। সংক্ষেপে বলা হয় ডি/এল মেথড। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিকে ক্রিকেটের জটিল আইন বলেও আখ্যায়িত করা হয়। এটি ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি পদ্ধতি। সর্বপ্রথম ১৯৯৬ সালে এ পদ্ধতিটি ইংল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে ম্যাচে ব্যবহার করা হয়। সে ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ে ৭ রানে জয় পায়। ডি/এল মেথড এর প্রবক্তা হলেন দুই ব্রিটিশ পরিসংখ্যানবিদ ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ ও গনিতজ্ঞ টনি লুইস। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ অথবা আলোকস্বল্পতাজনিত কারণে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচে ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য ডি/এল মেথড ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিটি কোন দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কোন দলের জন্য হয় আশীর্বাদ।

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হলে দুই দলকেই কমপক্ষে ২০ ওভার ব্যাটিং করতে হবে। আর টি-২০ হলে উভয় দলকেই কমপক্ষে ৫ ওভার ব্যাটিং করতে হবে। নইলে ডি/এল মেথড ব্যবহার না করে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।

ডি/এল মেথড যেভাবে প্রয়োগ হয়: * ইনিংসের শুরুতে রিসোর্স পার্সেন্টেজ যত ছিল। * বিরতির ফলে যেটুকু রিসোর্স নষ্ট হবে। * বাকি যা রিসোর্স থাকবে। কিন্তু পরে ব্যাটিং করতে নামা দলের রিসোর্স যদি প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা দলের থেকে কম হয়, তাহলে দুই দলের বাকি থাকা রিসোর্সের আনুপাতিক হিসাব করতে হবে। তারপর পরে ব্যাটিং করতে নামা দলের টার্গেট হবে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা দলের স্কোরকে সেই অনুপাত দিয়ে ভাগ করে। যদি পরে ব্যাটিং করা দলের রিসোর্স প্রথমে ব্যাটিং করা দলের রিসোর্সের থেকে বেশি হয় তাহলে প্রথম দলের রিসোর্সকে ২য় দলের রিসোর্স থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে। তারপর এটাকে ২২৫ এর পার্সেন্টেজ বানাতে হবে। তথাপি সেটাকে প্রথমে ব্যাট করা দলের রানের সাথে যোগ করে পরে ব্যাট করা দলকে টার্গেট দিতে হবে।

নিম্নে একটি উদাহারণ উপস্থাপন করা হল। ২য় দলের ইনিংসের মাঝে যদি ওভার কার্টেল হয়: প্রথমে ব্যাট করতে নেমে টিম ‘ক’ ২৫০ রান করলো। টার্গেট তাড়া করতে নেমে টিম ‘খ’ ৪০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান করলো। তারপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে গেল। এখানে টিম ‘ক’ পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করেছে।সেজন্য তাদের রিসোর্স ১০০%। টিম ‘খ’ এর শুরুতে রিসোর্স ১০০% ছিল। ৪০ ওভার শেষে টিম ‘খ’ ৫ উইকেট হারিয়েছে। সেই অনুযায়ী তাদের রিসোর্স বাকি ২৬.১%। সুতরাং টিম ‘খ’ এর ব্যবহৃত রিসোর্স ৭৩.৯%। এখানে টিম ‘খ’ এর রিসোর্স টিম ‘ক’ থেকে কম। সুতরাং ‘খ’ এর টার্গেট হবে মূল টার্গেটের ৭৩.৯/১০০ গুণ। টিম ‘ক’ এর স্কোর ছিল ২৫০। তাহলে টিম ‘খ’ এর টার্গেট হবে ২৫০*৭৩.৯/১০০=১৮৫।

যেহেতু খেলা আর মাঠে গড়ায়নি,সেহেতু বিজয়ী ঘোষণা করা হবে টিম ‘খ’ এই টার্গেট অতিক্রম করেছে কিনা এটা দেখে।যেহেতু টিম ‘খ’ ১৯৯ রান করেছে, সেহেতু টিম ‘খ’ ১৪ রানে বিজয়ী হয়েছে পরে ব্যাট করা স্বত্তেও। আইসিসি ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ডি/ এল মেথডে খানিকটা পরিবর্তন এনেছে। পরিবর্তনটি হলো প্রথমে ব্যাট করতে নামা দল যদি ৪২৮ রান করে এবং সেই সময়ে যদি বৃষ্টি আসে। তাহলে প্রতিপক্ষ দলকে ৭০০রানের টার্গেটে ব্যাট করতে হবে। এ জটিল নিয়ম নিয়ে ক্রিকেট বোদ্ধাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। কোন ম্যাচে এ নিয়ম অবলম্বন করলে কারও ভাগ্য সহায় হতে পারে,আবার কারও কপাল পুরতে পারে! আইসিসির ভাষ্যমতে, সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই তারা এ নিয়ম চালু করেছেন। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিটা আসলেই জটিল। তবে বর্তমানে ডি/এল মেথডের ক্যালকুলেটর রয়েছে। ক্যালকুলেটরে রান,ওভার সংখ্যা এবং উইকেট বসিয়ে দিলেই তারা টার্গেট নির্ধারণ করে দেয়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker