খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

শুভ জন্মদিন, ক্রিকেটের বিস্ময় বালক!

এস.কে. শাওন: আপনি কখনও প্রেমে পড়েছেন? একাধিক মানুষের প্রেমে পড়লে হয়তো সবার কথা আপনার মনে থাকবে না! আবার মনে থাকতেও পারে! তবে জীবনের প্রথম প্রেমের কথা কী আপনি ভুলতে পারবেন? কথাগুলো পড়ে এতোক্ষণে হয়তো আপনার চোখ কপালে উঠে গেছে! এবার আসি মূল আয়োজনে। বর্তমান বিশ্বের যেকোন ক্রিকেট দলের কাছে বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ। পূর্বে অস্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড,দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারত, পাকিস্তানের মতো দলগুলো বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত জেনেই মাঠে নামতো। পূর্ববর্তী সময়ে এই বড় দলগুলোর বিপক্ষে মুষ্টিমেয় জয়গুলোতে বিরাট অবদান রয়েছে ক্রিকেটের বিস্ময় বালক মোহাম্মদ আশরাফুলের।
২০০১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অভিষেক টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে আশরাফুল সেঞ্চুরী করেন, যা বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে সেঞ্চুরীর রেকর্ড। সেই রেকর্ড আজও সগৌরবে বিদ্যমান রয়েছে। ১৩০ বছরের ইতিহাসে এই কীর্তি কেউ ভাঙতে পারেনি। ২০০৫ সালের ১৮ জুন কার্ডিফের সুফিয়া গার্ডেনে মহাকাব্যিক এক সেঞ্চুরী হাঁকিয়ে ইতিহাস হয়ে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই প্রথম সুপারস্টার। তাঁর শতকে ভর করেই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া বধের রূপকথা রচিত করে বাংলাদেশ। তারপর থেকে যতোবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছে ততোবারই ঘুরে ফিরে আসে সোফিয়া গার্ডেন আর আশরাফুলের নাম। কারণ এখন পর্যন্ত ওডিয়াইতে অস্ট্রেলিয়াকে যে দ্বিতীয়বার হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। অজিদের হারানোর পরবর্তী ম্যাচটি হয় ইংল্যান্ডের সাথে। যদিওবা সেই ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে আশরাফুলের স্কুপ, ড্রাইভ ও পুল শটে ৫২ বলে ৯৪ রানের ইনিংস সেদিন ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভনের বুকে রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল।
টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ১৫৮ রানের ইনিংসটি ক্রিকেট প্রেমীদের যুগ যুগ ধরে মনে থাকবে। কারণ ক্রিকেটে বাংলাদেশ তখন চুনোপুঁটি। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আশরাফুলের ৮৩ বলে ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে জিতে যায় বাংলাদেশ। একই বছর টি-২০ তে উইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন ব্যাটিং জিনিয়াস আশরাফুল। যদিওবা তার কিছুদিন পর যুবরাজ সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলেন। এক যুগেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে বহু উথান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। অফ ফর্মের জন্য দল থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে দলে ফিরেছেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে ফিক্সিং কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ারে নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া। ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সর্বশেষ বিপিএলে সুযোগ পেলেও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি আশরাফুল।
কিন্তু ভক্তদের প্রত্যাশা আবারও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফিরবেন আশরাফুল। কারণ আশরাফুল মানেই যে আশায় বুক বাঁধা! বাংলাদেশও জিততে পারে এই মানসিকতার বীজ বপন করে গেছেন আশরাফুল। যতোগুলো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম জয় পায় তার বেশিরভাগ ম্যাচেই ছিল আশরাফুলের নান্দনিক ইনিংস। যখন সাকিব,তামিম,মুশফিক,রিয়াদরা ছিলেন না তখন বলতে গেলে পুরো দলকে একাই টেনে নেন আশরাফুল। এজন্যই বলতে হয় যে, আশরাফুল বাংলার ক্রিকেটের প্রথম প্রেম। সেই প্রথম প্রেম আশরাফুলকে কখনও ভুলা যাবে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট আশরাফুলকে মনে রাখবে আজীবন! আজ আশরাফুলের ৩৫তম জন্মদিন। নতুন বার্তার পক্ষ থেকে আশরাফুলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker