খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ পরিক্রমা

মঞ্জুর দেওয়ান: কি দুশ্চিন্তা নিয়েই না কোপা আমেরিকা মিশন শুরু করেছিলো ব্রাজিল। দলের প্রাণভোমরা নেইমারকে ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামা তো কম কথা না! লাতিন সেরা হওয়া অসাধ্য ছিলো বৈকি! কিন্তু সেই অসাধ্যকে একেবারে ডালভাত বানিয়ে ফেললো তিতের শিষ্যরা। জেসুস, ফিরমিনো, এভারটনদের দলীয় কম্বিনেশনে ঢাকা পড়লো সব। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু হওয়া দাপুটে পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের শেষ অবধি টেনে আনলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর তাতেই সাম্বার ছন্দে মোহিত হলো গোটা ফুটবল বিশ্ব।
পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ৯ নম্বর শিরোপা নিজেদের করে নিলো আলভেজ, জেসুস, ফিরমিনোরা। এবারের টুর্নামেন্ট শুরু আগে থেকেই হট ফেভারিটের তকমা ছিলো ব্রাজিলের গায়ে। পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা কিংবা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সবই ছিলো ব্রাজিলের পক্ষে। কনমেবল অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আয়োজন করে কখনো শিরোপা হাতছাড়া করেনি ব্রাজিল। সেলেসাও শিবিরে খেলতে এসে হালের আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ে কিংবা চিলি; কেউই শিরোপা বগলদাবা করতে পারেনি। এবারের আসর নিয়ে মোট পাঁচবার কোপার আয়োজক হয়েছে ব্রাজিল। এরমধ্যে পাঁচবারই হলুদ-নীলের উচ্ছ্বাস দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। তবে এবারের কোপার শিরোপা অনেকটা আরাধ্য কিছু-ই হয়ে উঠেছিলো ব্রাজিলের জন্য। ২০০৭ সালে শেষ কোপা জিতেছিলো সেলেসাওরা। মাঝে এক যুগের বিরতি গেলেও কোপা জেতা হয়নি ব্রাজিলের।
২০১৬ সালের কোপায় তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ! অন্যতম সেরা দল নিয়েও কাঁটা পড়েছিলো ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ এবারের ফাইনালিস্ট পেরু! ফাইনালের আগে সেই ২০১৬ সালের ম্যাচ নিয়ে তাই কম আলোচনা হয়নি। কাটাছেঁড়া হয়েছিলো ব্রাজিলের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট তো পুরোটাই ভিন্ন। আয়োজক যে ব্রাজিল! আর ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকার টুর্নামেন্ট মানেই শিরোপা ব্রাজিলের। শুরু থেকেই তাই পাত্তা পেলোনা কোনো দল! ভয় ছিলো আরোও একটি। এর আগে ব্রাজিল যতগুলো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে তার পেছনে কোনো একজন খেলোয়াড়ের ‘বাড়তি’ পারফরম্যান্স ছিলো। বিশ্বকাপ,কোপা কিংবা অলিম্পিক; প্রতিটি টুর্নামেন্টে-ই ব্রাজিল একজন খেলোয়াড়ের উপর আস্থাশীল হয়ে উঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিলোনা। ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন নেইমারকে ঘিরেই ছিলো কোপা জয়ের স্বপ্ন। যে নেইমারে ভর করে ঘরের মাঠে আরাধ্য অলিম্পিক জিতেছিলো ব্রাজিল। কিন্তু চোটের কারণে কোপা থেকে ছিটকে যান ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।
তাই টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই হতাশা গ্রাস করে সেলেসাও সমর্থকদের। কিন্তু আশাহত হয়নি ব্রাজিলের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। দলগত ফুটবল খেলেই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখে তিতের শিষ্যরা। হয়েছেও তাই। শুরু থেকেই ব্রাজিলের উড়ন্ত সূচনা। উদ্বোধনী ম্যাচে বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারায় ব্রাজিল। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ছন্দ হারালেও পেরুর বিপক্ষে রুদ্ররূপ ধারণ করে সেলেসাওরা। পেরুকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপার জোর দাবিদার হিসেবে জানান দেয় ব্রাজিল। ক্যাসেমিরো দিয়ে শুরু আর উইলিয়ান দিয়ে শেষ হয় সেলেসাওদের গোল উৎসব। শুধু যে গোল উৎসব করেই ব্রাজিল শিরোপা জিতেছে ব্যাপারটা এমন নয়। শিরোপার পিছনে ছিলো ব্রাজিলের জমাট রক্ষণ। সিলভা-মার্কিনহোস-আলভেজদের সমন্বয়ে গড়া রক্ষণে চির ধরাতে ব্যর্থ হয়েছে সবাই।
পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিল গোল খেয়েছে মাত্র একটি। তাও আবার পেনাল্টি থেকে! রক্ষণ আর গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী অ্যালিসন বেকারকে নিয়ে ‘চীনের প্রাচীর’ বানিয়ে রেখেছিলো ব্রাজিল। স্ট্রাইকাররা গোল না করতে পারলেও যেন সমস্যা নেই। গোল খাওয়া নিয়ে যে ভয় নেই ব্রাজিলের! ১৯৫০ সালে ঘটে যাওয়া ব্রাজিল ফুটবলের মারাকানা ট্রাজেডি এখনো অমলিন ব্রাজিলিয়ানদের কাছে। উরুগুয়ের কাছে বিশ্বকাপের ট্রফি খোয়ানো হয়তো আরেকটি বিশ্বকাপ না জিতলে ভুলতে পারবেনা সেলেসাওরা। কিন্তু মারাকানা স্টেডিয়ামে অলিম্পিক আর কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ে একটু হলেও ট্রাজেডির ‘মাত্রা’ কমবে!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker