ক্রিকেটখেলা

কে হবে ক্রিকেটের নতুন চ্যাম্পিয়ন?

মঞ্জুর দেওয়ান: পৃথিবীতে ক্রিকেটের আবির্ভাব হয়েছে বহু বছর আগে। সেই ১৮৭৭ সালে অষ্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিলো। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের আনুষ্ঠানিক ক্রিকেট ম্যাচটির বয়স এখন ১৪২! এরপর কালের স্রোতে ক্রিকেট অনেক বদলেছে। সীমিত ওভারে এসে মানুষের বিনোদনের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। লাল বলের চেয়ে সাদা বলের ক্রিকেট দেখতে অনেকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন!

সাদা পোশাক থেকে রঙ্গিন পোশাকে আসতে ক্রিকেট সময় নিয়েছে ৯০ বছরেরও অধিক সময়! ঘুরে ফিরে সেই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ফিরে গিয়েছে। ১৯৭১ সালে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখেছে বিশ্ব। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের দেখা। একসময় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গড়ায় ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট। ১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডে আয়োজন করা হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপের।

ক্রিকেটের ৪৪ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনেক দলই নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকাপকে নিজেদের ব্যক্তিগত ট্রফি বানিয়ে ফেলেছিলো ক্যারিবিয়ানরা। ১৯৭৫ সালের ফাইনালের ম্যাচটি ১৭ রানে জিতে নিয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ক্যারিবিয়ানদের প্রতিপক্ষ ছিলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে খেলতে নেমেও দুর্ধর্ষ ক্যারিবীয়দের সামনে দাড়াতে পারেনি ইংলিশরা। ৯২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় ক্লাইভ লয়েডের দল! শুরুর আসর ও দ্বিতীয় আসর জিতে অনেকটা ধাধায় ফেলে দিয়েছিলো ক্রিকেট বিশ্বকে। পরের আসরেও রুদ্রমূর্তি নিয়ে বিশ্ব আসরে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের জন্য ফাইনালও নিশ্চিত করে। কিন্তু ভারতের ইতিহাস সেরা দলের কাছে হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে নতুন রাজা খুঁজে নেয় ক্রিকেট। অষ্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ধ্রুপদী ফাইনালে শিরোপা জিতে নেয় অজিরা। পঞ্চম বিশ্বকাপেও পোড়া কপাল সাথে নিয়ে আসে ইংল্যান্ড। ইমরান খানের পাকিস্তানের কাছে শিরোপা বঞ্চিত ইংলিশরা। আর বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন শক্তির জানান দেয় পাকিস্তান।

ফেভারিট ট্যাগ না নিয়েও কিভাবে চমক দেখানো যায় তার বহিঃপ্রকাশ দেখা দিয়েছিলো ১৯৯৬ সালে। তুলনামূলক দূর্বল দল নিয়ে কিভাবে প্রতিপক্ষকে ভরকে দেয়া যায় তা দেখিয়েছিলো অর্জুনা রানাতুঙ্গার দল। অষ্ট্রেলিয়াকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে লাহোরে বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সর্দারের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলো শ্রীলঙ্কা।

এরপর কেবলই অষ্ট্রেলিয়া যুগ। ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ টানা তিন বিশ্বকাপ জিতে বিশ্ব ক্রিকেটে এক অনন্য নজির স্থাপন করে অজিরা। মাঝে ২০১১ তে ভারতের বিশ্বকাপ জয় না থাকলে বিশ্বকাপ ছিলো কেবলই অষ্ট্রেলিয়াময়! এখন পর্যন্ত ৫ টি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের চুড়ায় অজিদের নাম। একটি বিশ্বকাপই যেখানে আরাধ্য ; অজিদের সেখানে পাঁচ পাঁচটি শিরোপা বাকিদের কাছে ঈর্ষনীয় বৈকি!

সময় পেরিয়ে ক্রিকেট দেবতা আজ খুঁজে নিচ্ছে তার নতুন চ্যাম্পিয়নকে! ক্রিকেটের তীর্থভূমিতে যে দুইদল খেলতে নামবে তাদের এর আগে কখনই বিশ্বকাপের শিরোপা ছুয়ে দেখা হয়নি। তিনবার ফাইনাল খেলেও শিরোপা জিতেনি ইংল্যান্ড। আর গত বিশ্বকাপে ফাইনালে গিয়েও অষ্ট্রেলিয়ার কাছে হতাশা উপহার পেয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। নতুন কোনো রাজাকে খুঁজে নেয়াও থাকবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘উদ্দেশ্য’।

সেই ১৯৯২ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলো ইংল্যান্ড। এরপর আর শিরোপার কাছাকাছি যাওয়া হয়নি। এবার ফেভারিট তকমা নিয়ে ফেভারিটের মতোই ফাইনালে এসেছে এউইন মরগ্যানের দল। সাজোয়া যানের মতো এক দল নিয়ে বিশ্বকাপে থ্রি লায়ন্স। ব্যাটসম্যান-অলরাউন্ডার-বোলার এ ঠাসা এক ‘মাল্টি উইপেন’! যেকোনো দিক দিয়েই আক্রমণ করার ক্ষমতা যে দলের। ‘কম্পাইল উইপেন’র শক্তির দেখা মিলেছে কয়েকবার। শেষ দেখা মিলেছে সেমিফাইনালে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের মতো ব্যাটিং স্তম্ভকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছিলো ইংলিশদের বোলিং লাইন। ৮ উইকেটের জয়ে ২৭ বছরের অপেক্ষা কাটানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইংল্যান্ড।

অন্যদিকে ঠান্ডা মাথায় এগুতে থাকা নিউজিল্যান্ডের দাবিও কম শক্ত নয়! বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত কিউইরা গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। ২০১৫ তে প্রতিরোধ গড়তে না পারা নিউজিল্যান্ডের সামনে প্রথম শিরোপা ছুয়ে দেখার হাতছানি। স্টিফেন ফ্লেমিং, ড্যানিয়েল ভেটোরি, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো তারকারা যা করে দেখাতে পারেননি, তা করে দেখানোর সুযোগ কেন উইলিয়ামসন, রস টেলর, ট্রেন্ট বোল্টদের সামনে।

অপেক্ষার প্রহর খুব বেশি দীর্ঘ হবেনা। আজ ১৪ জুলাই ক্রিকেট খুঁজে নেবে তার নতুন চ্যাম্পিয়নকে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker