খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

হ্যাজার্ড বৃত্তান্ত

মঞ্জুর দেওয়ান: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার সময়ই আলো কেড়েছিলেন এডেন হ্যাজার্ড। বছরজুড়ে ফুটবল খেলা দেখা ফুটবল প্রেমীদের নজরে থাকলেও ‘আম জনতা’র কাছে পৌছাতে খানিকটা সময় লেগেছে বেলজিয়ান সুপারস্টারের। রাশিয়া বিশ্বকাপ দিয়ে হ্যাজার্ডের পায়ের জাদু পৌছে গিয়েছিলো সকলের দোরগোড়ায়। বেলজিয়ামের হয়ে অবিশ্বাস্য পারফর্ম করা হ্যাজার্ডকে তখন থেকেই সবাই একনামে চিনে গেছেন। রেড ডেভিলসদের ফাইনালে তুলেছিলেন ২৮ বছরের এই টগবগে যুবক। দীর্ঘদিনের ঠিকানা চেলসি ছেড়ে সম্প্রতি শতাব্দীর সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন হ্যাজার্ড। নতুন বার্তার এই আয়োজনে থাকছে হ্যাজার্ডনামা।

১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করা হ্যাজার্ডের ছোটবেলা থেকেই ছিলো ফুটবলের প্রতি ঝোঁক। বেলজিয়ামের লা লুভিয়েরের ছোট্ট হ্যাজার্ডের ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছবি নিজের বেড রুমে রাখতেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পাড় সমর্থক ছিলেন মিডফিল্ড স্টার হ্যাজার্ড। মনে প্রাণে সাপোর্ট করে গেছেন প্রতিবেশী দেশকে। নিজ দেশ ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে না থাকায় ফ্রান্সের জার্সি গায়েই কেটেছে হ্যাজার্ডের ৯৮ বিশ্বকাপ!

হ্যাজার্ডের ফুটবলার হয়ে উঠার পেছনে পারিবারিক সাপোর্ট রয়েছে বেশ। জিনগত কারণে হ্যাজার্ডের রক্তে মিশে ছিলো ফুটবল। বাবা-মা দুজনেই ফুটবলার থাকায় সবুজ গালিচার প্রতি একটু বেশি-ই আকর্ষণ ছিলো বেলজিয়ান সুপারস্টারের। বেলজিয়ান মহিলা ফার্স্ট ডিভিশনে খেলতেন হ্যাজার্ডের মা। গর্ভবতী হওয়ার পর আর ফুটবলে ফিরে আসা হয়নি। কিন্তু ছেলেদের সমর্থন জুগিয়ে গেছেন সমানে। ‘পারিবারিক টিম’ গঠন করে হ্যাজার্ডের বাগানেই চলতো ফুটবল ম্যাচ! ফুটবলের প্রতি অসীম ঝোঁক দেখে পরিবারের সম্মতিতে চার বছর বয়সেই রয়েল স্টেড ব্রেইনওয়েসের হয়ে খেলতে শুরু করেন হ্যাজার্ড।

তবে পেশাদার চুক্তিতে যেতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয় সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে। ২০০৭ সালে ফরাসি ক্লাব লিলের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বছর পাঁচেক কেটে যায় লিলের হয়ে খেলে। তবে লাইমলাইটে আসতে আরোও সময় নেন। ২০১২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নাম লেখান হ্যাজার্ড। ৩২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি তে চেলসির অফিশিয়াল ফুটবলার বনে যান এই মিডফিল্ডার।

সিনিয়র ক্যারিয়ারে লিলে ও চেলসির হয়ে খেলা হ্যাজার্ডের ট্রফির ঝুলি নিখাদ কম নয়। লিলের হয়ে ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়ন ও ১টি ফ্রেঞ্চ কাপ জিতেছেন হ্যাজার্ড। চেলসিতে এসে আরোও সফলতার দেখা পেয়েছেন। ২০১৫ তে ইংলিশ লিগ কাপ জিতেছেন। ২০১৫ ও ২০১৭ তে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন। ২০১৮ তে জিতেছেন এফএ কাপ।

এছাড়া চেলসির হয়ে দুটি ইউরোপা লিগের ট্রফি-ই প্রমাণ করে হ্যাজার্ডের সক্ষমতার। ছোটবেলা থেকে যার খেলা দেখে বড় হয়েছেন তার অধীনে নতুন ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন। ১০০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি তে রিয়াল মাদ্রিদে এসেছেন হ্যাজার্ড। রিয়াল বস জিনেদিন জিদানের চাওয়া আর হ্যাজার্ডের স্বপ্ন, দুইয়ে দুইয়ে চার হয়েছে। তবে ট্রফিবিহীন এক মৌসুম কাটানো রিয়ালকে কতটা দিতে পারেন তা সময়ের হাতে তুলে দেয়াই শ্রেয়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker