খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

ফিফা বর্ষসেরার দৌড়ে যারা এগিয়ে

মঞ্জুর দেওয়ান: ফুটবল দলগত খেলা হলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের খেলাও বটে। ১১ জনের দলে কেউ কেউ আলাদা করে আলো ছড়ান। নক্ষত্রের মতো আলোকিত করে রাখেন পুরো দলকে। আর ফুটবল প্রেমীরাও সে নক্ষত্রের পায়ের জাদুতে খুঁজে পান অমর সুধা! পুরো দলকে যিনি অক্সিজেন দিয়ে রাখেন সেই প্রাণভোমরা কে পুরস্কৃত করতে ভুল করেনা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রতিবছর সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় থাকেন হালের সেরা ফুটবলাররা। বছর ঘুরে এবারও সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দ্বারপ্রান্তে ফুটবল বিশ্ব। সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখে ঘোষণা করা হবে ২০১৯ সালের ফিফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার। সম্প্রতি ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। চলুন দেখে আসি বর্ষসেরার দৌড়ে কে এগিয়ে!
ভার্জিল ফন ডাইক: আধুনিক ফুটবলে স্ট্রাইকারদের সামনে দলের অন্য ডিপার্টমেন্টের নামই নিতে চায়না কেউ! অতিমানবীয় কিছু করলে গোলকিপারের নাম নেয়! তাছাড়া যে গোল করে তাকে নিয়েই যতো মাতামাতি। পুরষ্কারের রেসে গোল করুয়াদের ছাড়া তো কথাই নেই! সবশেষ কয়েকটি তালিকা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু ডিফেন্ডার হয়ে সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকা অবিশ্বাস্য-ই বটে। ভার্জিল ফন ডাইক এবারের আসরের এমনই এক নাম। প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন আগেই। এবার ফিফা বর্ষসেরার দৌড়ে আছে এই ডাচ ফুটবলার। আপনি ইউরোপীয়ান ফুটবলের খোঁজ খবর না রাখলে প্রশ্ন করতে পারেন, কি এমন করেছেন ফন ডাইক! উত্তরটি লিভারপুল আর
নেদারল্যান্ডসের হয়ে তার পারফর্মেন্স দিয়ে দেয়া যেতে পারে।
দেড় বছর আগে যখন অলরেডদের হয়ে নাম লেখান তখন লিভারপুলের রক্ষণ ছিলো ভঙ্গুর! রীতিমত পরিহাসের বিষয় হিসাবে গণ্য হতো লিভারপুল ডিফেন্স। তথৈবচ সে অবস্থা থেকে পরিত্রাণের অন্যতম স্তম্ভ ফন ডাইক। ডাচ সেন্টারব্যাকের বদৌলতে ইউরোপের অন্যতম সেরা রক্ষণ এখন লিভারপুলের। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৪ ম্যাচে ফন ডাইককে ড্রিবলে পরাস্ত করে কোনো ফুটবলার গোল করতে পারেনি। একটি তথ্যই বলে দেয় কতটা অবিশ্বাস্য ছিলেন এই সেন্টার-ব্যাক! লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পেছনে যে জমাট রক্ষণ ছিলো তার নেপথ্য নায়ক ছিলেন ফন ডাইক। ফুটবল বিধাতার ‘সুদৃষ্টি’ না থাকায় লিগ জেতা হয়নি। তারপরও নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। নেদারল্যান্ডসকে নেশনস লিগের ফাইনালে তোলার বড় কারিগরও অধিনায়ক ফন ডাইক।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: বর্ষসেরা পুরষ্কার এক বছরের খতিয়ান হলেও রোনালদোর আলোচনা করা উচিৎ দুই বছর মিলিয়ে! কেনোনা রোনালদো গেলো দুই বছরে নিজেকে নিয়ে গেছেন উচ্চ থেকে উচ্চতর এক শিখরে। কিন্তু আলোচনা যেহেতু এক বছরের খেরোখাতা নিয়ে তাই চলমান ইস্যু নিয়েই আলোচনা করা যাক। রিয়াল মাদ্রিদকে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে স্পেন ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন পর্তুগিজ যুবরাজ। নিজেকে আর পুরোনো ছন্দে ফিরে পাবেন না এমন সমালোচনা ছিলো বিস্তর। কিন্তু সব শঙ্কাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নতুন ক্লাবে সেই পুরোনো রোনালদো। পুরোনো ওয়াইনের মতো ফিরে এসেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। জুভেন্টাসকে সুপার কাপ জিতিয়ে মৌসুম শুরু সি আর সেভেনের। লিগে তার ২১ গোল আর ৮ অ্যাসিস্ট জুভেন্টাসকে এনে দিয়েছে টানা অষ্টম লিগ জয়ের গৌরব। ৪৩ ম্যাচে ২৮ গোল করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে বাঁচিয়েছেন। তবে ক্লাবের চেয়ে জাতীয় দলে উজ্জ্বল ছিলেন রোনালদো। পর্তুগিজ সেনাপতির নেতৃত্বে উয়েফা নেশনস লিগ জিতে পর্তুগাল। রোনালদোর অসাধারণ হ্যাটট্রিকে সেমিফাইনাল বাধা উতরে যায় পর্তুগাল।
লিওনেল মেসি: বরাবরের মতোই ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কেটেছে লিওনেল মেসির। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মৌসুমও বলা যায়। বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানোর পেছনে বড় ভূমিকা ছিলো আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরের। মৌসুমে ৫১ ম্যাচ খেলে অর্ধশত গোল করেছেন এই গোল মেশিন। ৩৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলের পুরষ্কার পিচিচি ট্রফি বগলদাবা করেছেন। বার্সার মোট গোলের ১৩ টির পেছনেও ছিলো মেসির অবদান। তবে মেসির এতো এতো গোল দলগত সাফল্য এনে দিতে পারেনি। মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়। বার্সার হয়ে ট্রেবল জেতার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিঙ্গেল নিয়েই তুষ্ট থাকতে হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ-কোপা দেল রে খোয়া যাওয়ার পর মেসির হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে বহুল আরাধ্য কোপা আমেরিকার শিরোপা। সেমিতে হেরে মেজর ট্রফি জেতার স্বপ্ন মিলিয়ে গেছে। দলের শিরোপা খরা না ঘুচানোয় কিছুটা পেছনে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার!
ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং: আয়াক্স রূপকথার অন্যতম কারিগর ছিলেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। মাত্র একুশ বছর বয়সে নিজেকে বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ঘরোয়া ডাবলের পাশাপাশি আয়াক্সকে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে তুলেছেন এই মধ্যমাঠের সেনানী। ডাচ লিগের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও ভূষিত হয়েছেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। সম্প্রতি বার্সেলোনায় যোগ দেয়া ইয়ং আছেন শীর্ষ দশের তালিকায়।
মোহাম্মদ সালাহ: গেলো আসরের শীর্ষ তিনে থাকা মোহাম্মদ সালাহ এবারও প্রত্যাশিত ভাবে আছেন সেরা দশে। লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর পিছনে ছিলো ইজিপশিয়ান কিংয়ের বড় অবদান। প্রিমিয়ার লিগেও সমান উজ্জ্বল ছিলেন সালাহ। ৩৮ ম্যাচে ২২ গোল করে লিভারপুলের ইতিহাসে দ্রুততম খেলোয়াড় হিশেবে অর্ধশত গোলের রেকর্ড করেছেন এই ফারাও। তবে ভার্জিল ভন ডাইক, রোনালদো, মেসির সাথে রেসের পাল্লায় অনেকটাই পেছনে সালাহ।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker