খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

সোনালি অতীতের তিন ফুটবল নক্ষত্র

এস. কে শাওন: আপনাকে যদি প্রশ্ন জুড়ে দেওয়া হয়, বর্তমানে বাংলাদেশর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা কোনটি? নিশ্চিত আপনি ক্রিকেটের নামটাই বলবেন! যদি প্রশ্ন করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা কোনটি? তখন হয়তো অকপটে বলে দিবেন ফুটবলের নাম! আমাদের দেশে বর্তমানে ক্রিকেট জনপ্রিয় হলেও আশির দশকে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।কিন্তু বর্তমান সময়ে ক্রিকেটের তুলনায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। জনপ্রিয়তা কমবে নাই বা কেন! ১৯৯৬ সালে র‍্যাংকিংয়ে ছিল ১১০ আর এখন ১৮২। অর্থাৎ আশি নব্বইয়ের দশক হলো ফুটবলের সোনালি অতীত। আজকে আপনাদেরকে জানাবো সোনালি অতীতের তিন জন বিখ্যাত ফুটবলারের গল্প।

কাজী সালাউদ্দিন: তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুটা ১৯৬৯ সালে ওয়ারী ক্লাবের হয়ে। তার ১ বছর পর সুযোগ পান মোহামেডানেরর হয়ে খেলার। সেখানে বেশি সময় না খেলে যোগ দেন আবাহনীতে। টানা ১২ বছর(১৯৭২-১৯৭৪) আবাহনীর হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন বাংলার এই কিংবদন্তি ফুটবলার। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে চার বছর জাতীয় দলকে নেতৃত্বও দেন সালাউদ্দিন। বিদেশী লিগে খেলা প্রথম বাংলাদেশী ফুটবলারও কাজী সালাউদ্দিন। তিনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম একজন সদস্য। ফুটবলের সবুজ গালিচাকে বিদায় জানিয়েছেন ১৯৮৪ সালে। তবে এখনও ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। টানা তিনবার বাফুফে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।বর্তমানেও বাফুফে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন কাজী সালাউদ্দিন।

মোনেম মুন্না: বাংলাদেশের ফুটবলের সেরা ডিফেন্ডারদের মধ্যে অন্যতম মোনেম মুন্না। তাঁর ফুটবল জীবনের শুরুটা ছিল ১৯৮১ সালে পোস্ট অফিস দলের হয়ে। তারপর ৩ বছর ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও ২ বছর মুক্তিযোদ্ধা সংসদে খেলে ১৯৮৭ সালে যোগ দেন আবাহনীতে। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান ১৯৮৬ সালে। জাতীয় দলের হয়ে অধিনায়কত্ব করেন একাধিকবার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ট্রফি জয়ী বাংলাদেশী প্রথম অধিনায়ক মোনেম মুন্না। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ঢাকা লীগে আবাহনীর হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। এছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্লাব ইস্ট বেঙ্গলের হয়েও খেলতেন এই ডিফেন্ডার।

অমলেশ সেন: বাংলাদেশের ফুটবলের কিংবদন্তী এই খেলোয়াড়ের বড় পরিচয় তিনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে আবাহনীর দল গঠনের শুরু থেকেই ছিলেন অমলেশ সেন। ১৯৭৩ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী -মোহামেডান প্রথম ম্যাচের প্রথম গোলটি ছিল তাঁর। জাতীয় দলের হয়ে খেলেন ১৯৭৮ পর্যন্ত। আকাশি-হলুদ জার্সি গায়ে অবসর নেন ১৯৮৪ সালে। অমলেশকে বলা হতো আবাহনীর ‘ঘরের ছেলে’। খেলা ছাড়ার পর আবাহনীরই কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন আবাহনীর প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। পেশাদার লিগে আবাহনীকে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতান। অমলেশ তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আবাহনীর সাথে ছিলেন। ফুটবলে অবদান রাখায় ১৯৯৮ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker