খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

জাতীয় খেলা কাবাডির ইতিবৃত্ত

এস. কে. শাওন: বিশ্বজুড়ে ফুটবল -ক্রিকেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও এই খেলাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন সুবিধার জন্যে আমাদের দেশের লোকসমাজে এককালে খেলাটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এটি আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী খেলা। যদিওবা খেলাটির উৎপত্তিস্থল ভারতের পাঞ্জাবে। বলছিলাম হা-ডু-ডু খেলার কথা। যার পোশাকি নাম কাবাডি। আমাদের দেশের অধিকাংশ স্থানেই এই খেলাটি হা-ডু-ডু নামে বেশ পরিচিত।

১৯৭২ সালে হা-ডু-ডু খেলাকে কাবাডি নামকরণ করা হয়। একই সময়ে খেলাটিকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলার মর্যাদাও দেওয়া হয়। ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও লোকায়ত ঐতিহ্যের জন্যে এই খেলা আমাদের দেশের জাতীয় খেলার মর্যাদা পেয়েছে।বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলাটিকে আঞ্চলিক নামে অভিহিত করা হয়। যেমন:কপাটি, কাপাটি, ছি-খেলা, কবাটি ইত্যাদি। কাবাডি উপস্থিত বুদ্ধি, শক্তি, সাহস,দম ও ক্ষিপ্রতার খেলা। দুটি পক্ষের আক্রমণ ও দম ধরে নানারকম ব্যঙ্গাত্নক ও রসাত্মক ছড়ার কারণে খেলাটি দর্শকদের মনে আনন্দ দেয়। ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি যেকোন জায়গায় যেকোন সময় আয়োজন করা যায়। শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে খেলাটির উপযোগিতা অনেক। গ্রামাঞ্চলে খেলাটি অধিকতর জনপ্রিয় হওয়ায় খেলাটিকে গ্রামবাংলার খেলাও বলা হয়।

আমাদের দেশে প্রথম কাবাডি খেলা শুরু হয় ফরিদপুরে। খেলাটি অধিক জনপ্রিয় হলেও সঠিক নিয়মকানুন না থাকায় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নিয়মে অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৭৩ সালে গঠিত বাংলাদেশ অ্যামেচার ফেডারেশন কাবাডি খেলার বিভিন্ন নিয়ম তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বাধীনতা দিবস কাবাডি প্রতিযোগিতা, বিজয় দিবস কাবাডি প্রতিযোগিতা, জাতীয় যুব কাবাডি প্রতিযোগিতা, জাতীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯৯ সাল থেকে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় কাবাডিকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে।

১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে জাতীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে কাবাডি খেলা নিয়মিত ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। আর তখন থেকেই খেলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখে। ১৯৯০ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো কাবাডি অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ তাতে অংশ নিয়ে রৌপ্য পদক লাভের গৌরব অর্জন করে। কাবাডি খেলাটি সাফ গেমস ও এশিয়ান গেমস- এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় খেলোয়াড়দের জন্য এর ব্যাপক অনুশীলনেরও সুযোগ মিলেছে।

আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন উৎসবের অনুষ্ঠানে আমোদ -প্রমোদের জন্য কাবাডি খেলার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে ঈদ,পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস উপলক্ষে কাবাডি খেলার আয়োজন করা হয়। বর্তমানে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি প্রায় হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে! কাবাডি খেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে খেলাটির চর্চা ও দক্ষতা অর্জনের জন্য ব্যাপকভাবে খেলা আয়োজন করার কোন বিকল্প নেই।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker