খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

মেসি-রোনালদো নয়, ইউরোপের সেরা ভন ডাইক!

মঞ্জুর দেওয়ান: কাকতালীয় না হলেও চমকপ্রদ তো বটেই। মেসি-রোনালদোর মতো তারকাকে পেছনে ফেলে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ব্যক্তিগত ট্রফি জেতা তো আর কম কথা না! ফুটবলে যেখানে স্ট্রাইকারদের জয়জয়কার; সেখানে কি না একজন ডিফেন্ডার হলেন ইউরোপ সেরা! মিডফিল্ডার শিরোপার দাবীদার হলেও ‘মানানসই’ ছিলো! ডিফেন্ডার হয়ে হালের সেরা ফুটবলারদের পেছনে ফেলা দারুন কীর্তি বৈকি!

২০১০-১১ মৌসুমের পর এই প্রথম কোনো ডিফেন্ডার ইউয়েফা বর্ষসেরার পুরষ্কার জিতলেন। এর আগের আটটি পুরষ্কারের মধ্যে মেসি রোনালদোর ঝুলিতে গেছে পাঁচটি। গতবছর লুকা মডরিচের ইউয়েফা বর্ষসেরা পুরষ্কারের কথা বাদ দিলে বিগত কয়েক মৌসুম ধরে পুরষ্কারটি ছিলো মেসি-রোনালদোর দখলে। বিশেষ করে স্ট্রাইকার কিংবা মিডফিল্ডারদের। সেই পুরষ্কারে নতুন করে ভাগ বসালেন এই ডাচম্যান।

এক অর্থে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী কারোও হাতেই ইউয়েফা বর্ষসেরার পুরষ্কার তুলে দিয়েছে সংস্থাটি। তবে সব ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা মাথায় না নিলেও ফন ডাইককে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ ছিলো না। লিভারপুল ও নেদারল্যান্ডসের হয়ে ফন ডাইক যা করে দেখিয়েছেন তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

লিভারপুলকে জিতিয়েছেন আরাধ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। অল্পের জন্য লিগ জেতা হয়নি। চেলসিকে হারিয়ে ইউয়েফা সুপার কাপ জেতার স্মৃতি এখনো অমলিন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমান পদচারণা ছিলো ডাচ অধিনায়কের। বিশ্বকাপ খেলতে না পারা নেদারল্যান্ডসকে নেশনস লিগের ফাইনালের মঞ্চে তোলার নেপথ্য নায়ক ছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক। প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হবার পর ইউয়েফা বর্ষসেরার পুরষ্কার জেতার লড়াইয়ে সমান তালে ছিলেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক।

ডিফেন্ডার হয়ে গোলকিপারের ভূমিকা পালন করেছেন কি না কে জানে! ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে পঞ্চাশোর্ধ ম্যাচে ফন ডাইককে ড্রিবলে পরাস্ত করে গোল করতে পারেনি কোনো ফুটবলার। দেড় বছর আগের লিভারপুলের ভঙ্গুর রক্ষণকে জমাট রক্ষণে রূপ দেয়ার মূল কারিগর ফন ডাইক। সালাহ-মানে-ফিরমিনো যেখানে গোল করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন; ফন ডাইক নিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের ‘ঝাটা’ মেরে নিরাপদ দূরত্বে তাড়ানোর! যার বদৌলতে ফন ডাইক চলে যান অনন্য উচ্চতায়।

ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটিয়েও সুবিধা করতে পারেননি মেসি। মৌসুম জুড়ে অর্ধশত গোল করেছেন। অনেক ম্যাচে বার্সেলোনাকে একাই খাদের কিনারা থেকে তুলেছেন। লা লিগা ও ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলের পুরষ্কার জিতেছিলেন আগেই। ব্যক্তিগত অর্জনে এগিয়ে থাকলেও মেসির পারফর্ম্যান্স দলগত ভূমিকায় কাজে দেয়নি। ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগুলেও কেবল লিগ শিরোপা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অন্যদিকে জুভেন্টাসের হয়ে লিগ ও পর্তুগালের হয়ে নেশনস লিগের শিরোপা জিতলেও বলার মতো উজ্জ্বল ছিলেন না রোনালদো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগের মোট ৮০ জন কোচ ও ৫৫ জন সাংবাদিক ভোটের মাধ্যমে মুকুট পড়িয়েছেন ভার্জিল ফন ডাইকের মাথায়।

ইউয়েফা বর্ষসেরার দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছেন মেসি। তৃতীয় রোনালদো। লিভারপুলের গোলকিপার অ্যালিসন বেকার সেরা গোলকিপারের পাশাপাশি হয়েছেন চতুর্থ। অন্যদিকে, নারীদের বর্ষসেরাও একজন ডিফেন্ডার, ইংল্যান্ডের লুসি ব্রোঞ্জ ইউরোপ সেরা হয়ে গড়লেন ইতিহাস। প্রথম কোনো ইংলিশ নারী ফুটবলার হিসেবে মর্যাদাকর এই পুরষ্কার জিতলেন লুসি ব্রোঞ্জ।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker