ক্রিকেটখেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

মাশরাফি : ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে মাপা যায় না যাকে!

এস.কে.শাওন:১৮ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ক্রিকেট রাজ্যের সব অভিজাত রাজপ্রাসাদ এজবাষ্টন, ওভাল, সিডনি, ক্রাইস্টচার্চ কিংবা অ্যাডিলেডে বাংলার হয়ে ঝান্ডা উড়িয়েছেন।সাত সাতবার ছুরি কাঁচির নিয়ে গিয়েছেন।তাঁর জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়তো কালবৈশাখীর মাতাল হাওয়ায় শুকনো পাতার মতো হারিয়ে ফেলতেন ক্রিকেট খেলার ভাগ্যটা! কিন্তু তিনি খেলে যাচ্ছেন মনের জোরে। আপনি ক্রিকেট ভক্ত হয়ে থাকলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন কার কথা এখানে বলা হচ্ছে! হ্যাঁ।বলছিলাম ক্রিকেটের মহানায়ক মাশরাফির কথা।

ক্রিকেটের তীর্থ ভূমি লর্ডসে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি খেলেছেন মাশরাফি।আগামী বিশ্বকাপ যে খেলবেন না সেটা পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন।কিন্তু বিশ্বমঞ্চের শেষ ম্যাচের ফলাফলটা যে তাঁর অনুকূলে আসলো না।সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ মাত্র তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে।কিন্তু ভাগ্যও যে সহায় ছিল না টাইগারদের।

মাশরাফি তাঁর শেষ বিশ্বকাপটা রাঙাতে পারেননি।বিশ্বকাপে ৮ ইনিংসে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ১ টি।যারা সমালোচনায় পারদর্শী তারা মাশরাফিকে নিয়ে সমালোচনা করতে ভুল করেননি।সমালোচনা করতে গিয়ে তারা হয়তো দলের জন্য মাশরাফির অতীত অবদানের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন।সেজন্য তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সমালোচনা করে গরম রেখেছেন!

২০১৪ সালের শেষদিকে ঢিমেতালে চলতে থাকা বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে আসেন ক্যাপ্টেন ফ্যানটাস্টিক।নেতৃত্ব নিয়েই জিম্বাবুয়েকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে যান।সেখানে প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির পাল্লাটাই যেন ভারী ছিল! প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব ডিঙিয়ে কোয়াটার ফাইনালে পা রাখে বাংলাদেশ। শেষ আট থেকে বিদায় নিলেও থেমে থাকেনি টাইগারদের পথচলা। মাশরাফির নেতৃত্বে ভারত,পাকিস্তান, সাউথ আফ্রিকার মতো দলকে সিরিজ হারিয়ে সাফল্যের সিঁড়ি বাইতে থাকা বাংলাদেশ ওডিয়াই র‍্যাংকিংয়ে ৭ নাম্বারে চলে আসে।এর ইতিবাচক ফলাফল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ।সেখানে মাশরাফির বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব আর দলের সহযোদ্ধাদের উত্তুঙ্গি পারফরম্যান্স! দুইয়ে মিলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায় টিম বাংলাদেশ। এছাড়াও ২০০৭ বিশ্বকাপে মাশরাফির চোখ ধাঁধানো বোলিং পারফরম্যান্সে ভারতকে হারিয়ে দেওয়ার গল্পটাতো কারও অজানা নয়। সে ম্যাচে ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন ম্যাশ।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২১৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে উইকেট পেয়েছেন ২৬৬টি। বর্তমানে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারও মাশরাফি। ২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টিকে হঠাৎ বিদায় বলেছেন! এই ফরম্যাটে ৫৪ ম্যাচে উইকেট কুঁড়িয়েছেন ৪২ টি। ‘ নাছোড়বান্দা’ ইনজুরির জন্য এখন টেস্ট ম্যাচে খেলতে দেখা যায় না বাংলার ক্রিকেটের এই কান্ডারিকে।তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারটা হয়তো সেজন্য আলোকিত নয়! ক্রিকেটের এই অভিজাত সংস্করণে ৩৬ ম্যাচে নিয়েছেন ৭৮ উইকেট।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বড় বড় সাফল্যগুলো এসেছে মাশরাফির হাত ধরে।এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা অধিনায়ক তিনি।৮৬ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জয় এনেছেন ৪৭ টি, হার ৩৬টি।তারপরও নিন্দুকদের মতে তিনি অধিনায়ক কোটায় খেলেন। বিশ্বমঞ্চে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেও ওয়ানডে ক্রিকেটকে এখনো বিদায় জানাননি ম্যাশ। তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে কবে বিদায় জানাবেন সেটা সময়ই বলে দিবে।

পরিসংখ্যান কিংবা ট্রফির সংখ্যায় একজন মাশরাফিকে মাপা যায় না! মাশরাফিকে মাপতে হলে কান পাততে হবে তাঁর সত্যিকারের ভক্তদের হৃদয়ে! ক্রিকেট মাঠের এই যোদ্ধা আজ ৩৬ বছরে পা রেখেছেন। নতুন বার্তার পক্ষ থেকে মাশরাফিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।শুভ জন্মদিন মাশরাফি!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker