খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

নারী ফুটবলের যত তারকারা

এস.কে.শাওন: ফুটবল সর্বদা পুরুষদের খেলা হিসেবে বিবেচিত। তবে সময়ের পরিক্রমায় নারীরাও ফুটবল খেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রমাণ করেছে যে তারাও ফুটবল যুদ্ধের লড়াকু সৈনিক! এমনকি কিছু নারী ফুটবলার চোখ ধাঁধানো ফুটবল খেলে ফুটবল প্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। চলুন আজ জেনে নেই পাঁচ জন বিখ্যাত নারী ফুটবলারের গল্প।

১.অ্যাব্বি ওয়ামব্যাচ: আমেরিকান এই নারী ফুটবলার অলিম্পিকে দু’বার স্বর্ণ পদক লাভ করেছেন। এমনকি ২০১২ সালে তিনি ফিফার বর্ষসেরা মহিলা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। অল আমেরিকান কলেজ ফুটবল লীগে খেলেছেন টানা তিন মৌসুম। তাছাড়াও ওয়াশিংটন ফ্রিডম,ম্যাজিকজ্যাক ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কের হয়ে খেলেছেন পেশাদার ফুটবল। ২০১১ মৌসুমে ম্যাজিকজ্যাকের হয়ে ১১ ম্যাচে ৯টি গোলের দেখা পেয়েছেন। আর ২০১৩-১৪ মৌসুম খেলেছেন ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কের হয়ে। দুই মৌসুমে ২৯ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১৭টি। ওয়ামব্যাচ তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সর্বমোট ২৩৯টি ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন ১৭৮ বার।

২.মার্তা: ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার মার্তা ২০০৬-২০১০ পর্যন্ত টানা ৫ বার ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের মুকুট অর্জন করেছেন। তাঁর এই রেকর্ড এখন পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি। এমনকি ২০০৭ সালে মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপে মার্তা একসাথে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডোন বল জিতেছেন। ব্রাজিল জাতীয় দলের এই ফুটবলার ১৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১১০টি গোল করেছেন। এমনকি ক্লাব ফুটবলেও মার্তার জয়জয়কার। ২০১২-১৪ মৌসুমে টায়রেসোর হয়ে ৩৫ ম্যাচে ২৪টি গোলের দেখা পেয়েছেন। রোসেনগার্ডের হয়ে টানা তিন মৌসুম মাঠ মাতিয়েছেন। ৪৩ ম্যাচে করেছেন ২৩টি গোল।

৩.অ্যালেক্স মরগান: বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মহিলা ফুটবলারের নাম অ্যালেক্স মরগান। তিনি আমেরিকান জাতীয় ফুটবল দলে ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলে থাকেন। ২০১০ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া এই নারী ফুটবলার ৮৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৫১টি। ক্লাব ফুটবলে তিনি খেলেছেন সেটেল সাউন্ডার্স ও পোর্টল্যান্ড থ্রোন্সের হয়ে।বর্তমানে খেলছেন আমেরিকান ক্লাব অরল্যান্ডো প্রাইডে। বিখ্যাত এই ফুটবলার ২০১২ সালে আমেরিকান ফুটবলের নারী ‘অ্যাথলেট অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন।

৪.নাদাইন অ্যাঙ্গারার: জার্মানের সাবেক এই গোলরক্ষক সর্বশেষ খেলেছেন পোর্টল্যান্ড থ্রোন্সের হয়ে। ২০০৭ মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপে কয়েকটি ম্যাচে সর্বমোট ৫৪০ মিনিট খেলে কোন গোল না খাওয়ার রেকর্ড করেন নাদাইন। এমনকি সেই বিশ্বকাপে তিনি সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন জার্মানি মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা এই গোলরক্ষক ২০১৩-১৪ সালে টানা দু’বার ফিফার বর্ষসেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

৫.বিরগিট প্রিঞ্জ: সাবেক জার্মানি এই মহিলা ফুটবলার ৫টি ফুটবল বিশ্বকাপ ও ৪টি অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেছেন।সর্বমোট ৯টি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ৪৩ ম্যাচে গোল করেছেন ২৪টি। জার্মান জাতীয় দলকে সেবা দিয়েছেন দীর্ঘ ১৭ বছর।আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২১৪ ম্যাচে করেছেন ১২৮টি গোল। ক্লাব ফুটবলে টানা ৮ বছর খেলেছেন ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে। এই ক্লাবের হয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসিয়েছেন! সর্বমোট ১১৪ টি ম্যাচ খেলে ১৩৬টি গোলের দেখা পেয়েছেন।মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৪টি গোলের রেকর্ড এখনও বিরগিটের দখলে।

 

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker