ক্রিকেটখেলাট্রেন্ডিং খবর

বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-২০ সমীকরণ

এস.কে.শাওন: সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ চুড়ান্ত হয়েছে। প্রথমেই হবে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ। টি-২০ র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানের দল পাকিস্তান। আর নবম স্থানে আছে বাংলাদেশ। দু’দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে পাকিস্তানই এগিয়ে আছে। চলুন জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-২০ সমীকরণ।

২০০৭ সালে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে প্রথমবারের মতো টি-২০ খেলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। কেউ অর্ধশতক না করতে পারলেও ইমরান নাজির(৪৯ রান), ইউনুস খান(৪৮রান) ও আফ্রিদির (৩২রান) ব্যাটে ভর করে এ রান করে পাকিস্তান। বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট ছিল আশরাফুলের। টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৬১ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন এ ম্যাচে।কিন্তু অন্যান্যদের ব্যর্থতায় পরাজয় বরণ করতে হয় বাংলাদেশকে।

একই বছর টি-২০ বিশ্বকাপে দু’দল মুখোমুখি হয়।প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জুনায়েদ সিদ্দিকী ৭১ রান করলেও বাকিদের ব্যর্থতায় দলীয় স্কোরটা বড় হয়নি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১ ওভার হাতে রেখেই ৪ উইকেটে র জয় পায় পাকিস্তান। ম্যাচটিতে ইমরান নাজির ও আফ্রিদির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কাবু হয় বাংলার বোলিং ইউনিট।

২০০৮ সালে করাচিতে বাংলাদেশকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় পাকিস্তান। মিসবাহ্, ইউনুসের ব্যাটিং তান্ডবে ৫ উইকেটে ২০৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১০১ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

২০১০ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে আবারও দেখা হয় দু’দলের। এবারও জয় পাকিস্তানের। প্রথম ইনিংসে পাকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭২ রান।সালমান বাট ও কামরান আকমল সমান ৭৩ রান করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫১ রানে থামে টিম বাংলাদেশ। আশরাফুল ৬৫ ও সাকিব ৪৭ রান করলেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি।

২০১১ সালে মিরপুরে মুখোমুখি হয় দু’দল।বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটি গড়ায়, ১৪ ওভারে। শুরুতে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ১৩৫ রান করে।দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে মাত্র ৮৫ রান করে। এ ম্যাচটিতে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন বাংলাদেশের নাসির হোসেন।

২০১২ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে শ্রীলংকার ক্যান্ডিতে দেখা হয় দু’দলের। ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় পাকিস্তান। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ১৭৫ রান করে বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন সাকিব। টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান।

২০১৪ টি-২০ বিশ্বকাপে আবারও দেখা হয় তাদের। প্রথম ইনিংসে আহমেদ শেহজাদের সেঞ্চুরীতে ৫ উইকেটে ১৯০রান করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৪০ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে হোম সিরিজে প্রথবারের মতো টি-২০ তে পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে।জবাবে ব্যাট করতে নেমে সাকিব ও সাব্বিরের ফিফটিতে ৭ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা।

২০১৬ সালে এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে মাত্র ১২৯ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। ম্যাচটিতে আল-আমিন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। সৌম্য সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন। একই বছর বিশ্বকাপে দেখা হয় তাদের। সেখানে জয় পাকিস্তানের। ম্যাচটিতে ৫৪ রানের সহজ পায় পাকিস্তান। অর্থাৎ ১০ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ২ টি এবং হার ৮টি। তবে তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে এবার টি-২০
সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দলপতি মাহমুদউল্লাহ।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker