ক্রিকেটখেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

রথী-মহারথীর সঙ্গে সাকিব

রিফাত এমিল: সাকিবের সমান টেস্ট ম্যাচ খেলে ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি অলরাউন্ডারদের অবস্থান কোথায় ছিল; কিংবা সাকিব তাদের সমান ম্যাচ খেলে থেমে গেলে কী অবস্থানে থাকতেন তা রান ও উইকেটের বিচারে দেখার চেষ্টা। এটি কারো সঙ্গে কারো তুলনা নয়, শুধুমাত্র সাকিবের সমান ম্যাচ সংখ্যায় তাদের অবস্থান দেখা মাত্র। এখানে কিংবদন্তি অলরাউন্ডার হিসেবে যাঁদের নাম অধিক চর্চা হয় তাদের নেওয়া। তারা যথাক্রমে স্যার গ্যারি সোবার্স, জ্যাক ক্যালিস, স্যার রিচার্ড হ্যাডলি, স্যার ইয়ান বোথাম, কপিল দেব ও ইমরান খান।

শুরুটা টেস্ট দিয়ে করি। সাকিব আজ অবধি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ৫৬টি। ৫৬ টেস্ট শেষে ৩৯ গড়ে সাকিবের রান ৩৮৬২ ও ৩১ গড়ে ২১০ উইকেট। ৫৬ টেস্ট শেষে বাকী ৬ জন কিংবদন্তি যেখানে ছিলেন:

স্যার গ্যারি সোবার্স ৫৬ টেস্ট শেষে ৬০ গড়ে রান করেছিলেন ৫০৯১, ৩৪ গড়ে উইকেট নিয়েছিলেন ১২৭। ৫৬ টেস্ট শেষে জ্যাক ক্যালিসের ছিল ৩৮ গড়ে ৩৭৫৯ রান ও ২৮ গড়ে ১০৫ উইকেট।

একই সংখ্যক টেস্ট শেষে স্যার রিচার্ড হ্যাডলি ২৫ গড়ে করেন ২০৫৬ রান। বল হাতে ২৩ গড়ে নেন ২৬২ উইকেট। ইয়ান বোথাম ৩৬ গড়ে ৩০৬৩ রান, ২৪ গড়ে ২৫৪ উইকেট।

উপমহাদেশের সেরা দুই অলরাউন্ডার ছিলেন কপিল দেব ও ইমরান খান। কপিল দেব ৫৬ টেস্ট শেষে ৩১ গড়ে ২২৯৯ রান করেছিলেন, বল হাতে ২৮ গড়ে নিয়েছিলেন ২১৮ উইকেট। ইমরান খান সমসংখ্যক টেস্ট ম্যাচ শেষে ৩০ গড়ে ২১০৭ রান, ২২ গড়ে ২৫৮ উইকেট।

৫৬ টেস্ট শেষে সাকিবের চেয়ে বেশি রান শুধু সোবার্সের, বাকীরা রানে সাকিব থেকে পিছিয়ে। সাকিব আবার সোবার্স থেকে উইকেট বেশি নিয়েছেন ৭৪টি। সাকিবের চেয়ে বেশি উইকেট হ্যাডলি, বোথাম, ইমরান ও কপিল দেবের। তবে তারা রানে বেশ পিছিয়ে।

সাকিব ২০৬ ওয়ানডে ম্যাচে ৩৭ গড়ে ৬৩২৩ রান করেন, বল হাতে ৩০ গড়ে নেন ২৬০ উইকেট।

ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সোবার্সের নামটা বাদ দিতে হচ্ছে, তিনি একটিমাত্র ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন বলে। অন্যদের মধ্যে সাকিবের চেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ক্যালিস ও কপিল দেব। সাকিবের ২০৬ ওয়ানডে ম্যাচের সমান ম্যাচে এই দুজনের অবস্থান দেখা যাক।

সাকিবের সমান ২০৬ ওয়ানডে ম্যাচে জ্যাক ক্যালিস ৪৫ গড়ে করেন ৭৩৩৮ রান ও বল হাতে ৩১ গড়ে ১৮৯ উইকেট। সাকিব ক্যালিসের থেকে ১০১৫ রান কম করলেও উইকেট বেশি নেন ৭১টি।

২০৬ ওয়ানডে ম্যাচ শেষে কপিল দেব ২৪ গড়ে ৩৬৬৮ রান ও ২৬ গড়ে নেন ২৪২ উইকেট। রান, উইকেট উভয়ক্ষেত্রে পিছিয়ে কপিল দেব।

ইমরান খান খেলেছেন ১৭৫ ওয়ানডে ম্যাচ। ৩৩ গড়ে করেছিলেন ৩৭০৯ রান, ২৬ গড়ে ১৮২ উইকেট। ১৭৫ ওয়ানডে ম্যাচ শেষে সাকিবের ৩৪ গড়ে ৪৮৫৪ রান ও ২৯ গড়ে ২২৪ উইকেট ছিল। রান, উইকেট উভয়ক্ষেত্রে সাকিব ইমরান খানের চেয়ে এগিয়ে।

 

 

স্যার ইয়ান বোথামের ওয়ানডে ক্যারিয়ার থেমেছে ১১৬ ম্যাচে। বোথাম ১১৬ ম্যাচে ২৩ গড়ে ২১১৩ রান করে এবং বল হাতে নেন ২৮ গড়ে ১৪৫ উইকেট। সাকিব ১১৬ ওয়ানডে ম্যাচ শেষে ৩৪ গড়ে রান করেন ৩২৬১, ২৯ গড়ে নেন ২২৪ উইকেট। বোথাম সাকিবের চেয়ে এক উইকেট বেশি নেন, সাকিব রান করেন ১১৪৮ বেশি।

রিচার্ড হ্যাডলি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ১১৫টি। ২১ গড়ে রান করেছেন ১৭৫১, ২১ গড়ে নিয়েছেন ১৫৮ উইকেট। ১১৫ ওয়ানডে ম্যাচ শেষে সাকিব ব্যাট হাতে ৩৪ গড়ে রান ৩১৮২, ২৯ গড়ে নেন ১৪২ উইকেট। সাকিবের রান ১৪৩১ বেশি হ্যাডলি থেকে উইকেট ১৬টি কম।

অন্যরা থেমেছেন। সাকিব এখনো ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে! অনেকদূর যাওয়ার বাকী যে এখনো। রথীমহারথীর সঙ্গে সাকিবের অবস্থান কোথায় সে জবাব আপনার কাছেই তোলা রইলো।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker