খেলা

লতা কার : অন্যরকম এক দৌড়বিদ

আরিফুল আলম জুয়েল: সামনের জীবনে কি অপেক্ষা করছে আপনি কি জানেন ? জানেন না, তবে চেষ্টা করলে অনেক কিছুই সম্ভব, এটা মানেন তো! আপনি মানেন আর না মানেন, ভারতের একজন ষাটোর্ধ্ব মহিলা দেখিয়ে দিয়েছেন চেষ্টা করলে সবই হয়। জ্বি, সবই হয়! তিনি লতা কার।

ষাটোর্ধ্ব বয়স, খালি পা, সুতি শাড়ি- এই তিনের সমন্বয়ে এই দৌড়বিদ মহিলার নাম উচ্চারিত হয়। সমগ্র বিশ্বের কাছে হয়তো পরিচিত মুখ নন, কিন্তু নিজ রাজ্যে তিনি একজন যোদ্ধা দৌড়বিদ হিসেবেই পরিচিত, যিনি জেলা ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় টানা তিনবার অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিবারই প্রথম স্থান অর্জন করেন। দিনমজুর লতা কার আর নিরাপত্তা প্রহরী ভগবান কারের দিন আনে দিন খাই সংসার, একমাত্র ছেলেটাও তেমন কিছু করে না। কোনোমতে খেয়ে-পরে চলে যাচ্ছিল দিন। গরীবের সংসারে অসুখ-বিসুখ বাড়তি ঝামেলা বৈ কিছু না। লতা কারের সংসারও তার ব্যতিক্রম না।

লতা কারের মাথায় আকাশ ভেঙে পরে স্বামীর আকস্মিক অসুস্থতায়। চিকিৎসা খরচ বাবদ পাঁচ হাজার রুপি দরকার হয় সে মুহূর্তে। অভাবের সংসারে পাঁচ হাজার তো অনেক, কে দিবে এত টাকা? এসব ভেবে লতা কারের যখন দিশেহারা অবস্থা, তখনই প্রতিবেশী তরুণরা তাঁকে ম্যারাথন প্রতিযোগিতাটির খোঁজ দেন। তারা বলে, ‘নানী, তুমি তো অনেক হাঁটতে পার, নাম দাও, জিতেও যেতে পার। জিতলে পুরস্কার হিসেবে পাঁচ হাজার রুপি দেওয়া হবে’।

এ কথা শুনে যেন অন্ধকারে আলোর আভা দেখতে পান লতা কার। কিন্তু দৌড়ের প্রতিযোগিতা তো দূর, বড় হবার পর কখনো দৌড়ও দেননি তিনি। আবার, স্বামীর চিকিৎসা খরচ যোগানোর দারুণ এই সুযোগও তো হেলায় যেতে দিতে পারেন না! অতঃপর দৌড়ের প্রতি কোনো ভালবাসা বা বিখ্যাত হওয়ার জন্য নয়, নিতান্তই চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতেই প্রতিযোগিতাটিতে নাম দেন তিনি।

তিনি বলেন- ‘আমি প্রতিদিন সকালে হাঁটতাম, কিন্তু দৌড়াইনি কখনো। যে কখনো দৌড়ায়নি, সে কোনো দৌড় প্রতিযোগিতায় কীভাবে প্রথম হলো তা এখনো ভেবে পাই না আমি, তবে আমি সত্যিই প্রথম হলাম। ভাগ্য আমার সাথে ছিল, আর আমি পেলাম পাঁচ হাজার রুপি।’

লতা কারের কাছে স্বামীর সুস্থতার আনন্দের সাথে বাড়তি পাওনা হিসেবে ছিল নিজ প্রতিভা দিয়ে উপার্জন করার খুশি।
সব মিলিয়ে, আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেল তার। তারই ধারাবাহিকতায় পরের বছর একই প্রতিযোগিতায় তিন কিলোমিটার ম্যারাথনে পুনরায় নাম দেন তিনি। এবং আবারও প্রথম হন।

তৃতীয়বারের মতো নাম দিয়েও প্রথম হোন! কি বিশ্বাস হয়, পয়ষট্টি বছর বয়সের লতা কার হারিয়ে দিয়েছেন হ্যারিয়ার, বিএমডব্লিউ, ল্যান্ডক্রুজার, পোরশে, হোন্ডা, টয়োটা, নিশান কিংবা পাজেরো বা বিলাসবহুল দামের সকল কারকে!

আপনি, সত্যিই ভাবতে পারবেন না সামনে আপনার জন্য কেমন দিন অপেক্ষা করছে যেটা ভাবতে পারেননি লতা কার!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker