ক্রিকেটখেলাট্রেন্ডিং খবর

স্বস্তির টেষ্ট জয়ে উদীপ্ত বাংলাদেশ

এস. কে. শাওন: পাকিস্তান সিরিজ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তীব্র সমালোচনা শুনতে হয়েছিল মুশফিককে। এমনকি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দল থেকে তাঁর বাদ পড়ে যাওয়ারও গুঞ্জন উঠেছিল। অথচ সেই মুশফিকই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের কাহিনীর প্রধান চরিত্র! এই ম্যাচে মুশফিকের ডাবল ও দলপতি মুমিনুলের ব্যক্তিগত নবম সেঞ্চুরিতে রানের অট্টালিকা গড়ে টাইগাররা। সেই অট্টালিকায় বসে জয়ের ছবি আঁকে টিম বাংলাদেশ!

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৬৫ রানে গুড়িয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। এই ইনিংসে জিম্বাবুয়ের প্রাপ্তি বলতে অধিনায়ক ইরভাইনের শতক(১০৭)। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই তিনি সেঞ্চুরি করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৮ রানেই স্কোর বোর্ডে নেই ১ উইকেট। নবীন সাইফ হাসান ৮ রানেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন।এরপর শান্ত আর তামিম মিলে ৭৮ রানের জুটি গড়েন। ৭ চারের সাহায্যে ব্যক্তিগত ৪১ রানে বিদায় নেন অভিজ্ঞ তামিম।ক্যাপ্টেন মুমিনুল নেমে উইকেটে থিতু হয়ে গেলে শান্ত ৭১ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি করার সুযোগ হাতছাড়া করেন।মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিক নামার পর ২ দিন আর উইকেট পড়েনি। ৩ উইকেটে ২৪০ রান করে মাঠ ছাড়ে টিম বাংলাদেশ।

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনটা যেন ছিল মুশকিল -মুমিনুলের। ২৮টি চারে ৩১৮ বলে ২০৩ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। ডাবল সেঞ্চুরির উদযাপনটা ছিল অভিনব কায়দায়! মুশফিক পুত্র মায়ানের ডায়নোসর পছন্দ বলেই এমন উদযাপন ছিল বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি এখন মুশফিকের। এ মূহুর্তে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিকও মুশফিক (৪৪১৩)।

এবার আসা যাক মুমিনুলের কথায়। অনেকদিন ধরেই রান খড়ায় ভুগছিলেন মুমিনুল। ১৪টি চারের মারে ১৩২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এই ইনিংসের মাধ্যমে রান খড়াটাও কাঁটলো মুমিনুলের। এই টেস্টে মুশফিক -মুমিনুলের ২২২ রানের জুটি বাংলাদেশকে লম্বা সংগ্রহ দাঁড় করাতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাস অর্ধশতক করেন(৫২)। ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৬ উইকেটে ৫৬০রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে। টেস্টের চতুর্থ দিনে চা বিরতির পূর্বেই মাত্র ১৮৯ রানে অলআউট ইরভাইনের দল। এই টেস্টে সর্বোচ্চ ৯ উইকেট শিকার করেন বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান। বলা যেতে পারে, সাড়ে তিন দিনের এই টেস্টে ইনিংস ও ১০৬ রানের জয় পায় মুমিনুলের দল। সহসাই বলে দেওয়া যায়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট জয়টা ছিল প্রত্যাশিত!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker