প্রযুক্তি

ফেসবুক ডিলিট করারকি সময় এসেছে?

“আমরা সবাই মাইস্পেস থেকে সরে এসেছি। ফেসবুক থেকেও আমরা সরে যেতে পারি।” – এরকম বার্তা চোখে পড়ছে আরেক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে।

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ কোটিরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্যে ব্যবহার করা হয়েছিলো- এই অভিযোগ উঠার পর এধরনের আহবান চোখে পড়ছে।

অভিযোগটি উঠেছে লন্ডন-ভিত্তিক ব্রিটিশ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে। অভিযোগ হলো এই প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে ব্যবহার করা হয়েছিলো।

এই অভিযোগটি খবর হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যারা ব্যবহার করেন তারা হ্যাশট্যাগ দিয়ে একটি প্রচারণা চালাতে শুরু করেন। যেমন #ডিলিটফেসবুক কিম্বা #বয়কটফেসবুক।

এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ব্রায়ান একটনও।

ফেসবুক ১৯ বিলিয়ন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেওয়ার তিন বছর পর তিনি ওই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান।

টুইটার ব্যবহারকারীদের একজন এই প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিবিসির গত বছরের একটি স্টোরিও টুইট করেছেন। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সাথে জড়িত ছিলেন এরকম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার থেকে তিনি চারটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মি. ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার ব্যাপারে ফেসবুকের ভূমিকা সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্যে। যেমন তিনি বলেছিলেন, “ফেসবুক আমাদের একটি পার্টনার”, এবং “ফেসবুক ছাড়া আমরা জিততে পারতাম না।”

কেউ কেউ বলছেন, এই ঘটনার পর থেকে অনেকেই হয়তো ফেসবুক ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারেন। যারা হ্যাশট্যাগ দিয়ে “ডিলিট ফেসবুক” প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা প্রচুর লাইকও পাচ্ছেন।

আবার অনেক বলছেন, একটি সামাজিক মাধ্যমে আরেকটি সামাজিক মাধ্যমের এরকম নিন্দা করার বিষয়টিও গ্রহণযোগ্য নয়।

একজন কৌতুক করে মন্তব্য করেছেন, “ফেসবুক ডিলিট করতে অনেকে বলছেন যেটা টুইটারে হ্যাশট্যাগ দিয়ে চলছে- আরেকটি সোশাল মিডিয়া তার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।”

আরেকজন বলেছেন, “যেহেতু ফেসবুক ইন্সটাগ্রামেরও মালিক, একটি ডিলিট করলে আপনাকে তো অন্যটিও ডিলিট করতে হবে।”

তবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত যেভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সেরকম কোন অভিযোগ টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রামের নামে এখনও আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এসব তথ্যের গোপনীয়তার ব্যাপারে যে উদ্বেগ সেটা শুধু ফেসবুকের মধ্যেই সীমিত নেই। কারণ “আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সবসময়ই ব্যবহার করা হচ্ছে।”

আরেকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ফেসবুক ডিলিট করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ অনলাইনে এসব তথ্যকে এখনও পর্যন্ত খুব একটা সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।

নতুন বার্তা/কেকে

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker