প্রযুক্তিহোমপেজ স্লাইড ছবি

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: মেড ইন বাংলাদেশ

মিজানুর রহমান টিপু: বাসায় অপরিচিত কোন মানুষ দেখলেই মালিককে আওয়াজ দিয়ে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য কুকুরের জুরি নেই। সময়ের সাথে সাথে কুকুরের এই জায়গা দখল করে নিয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। আপনার বাসা কিংবা বাসার সামনের রাস্তাটুকুর নিরাপত্তার জন্য যে কয়েকটা সিসিটিভি লাগিয়েছেন তার জন্য হয়ত আপনি কিংবা আপনার বাসার লোকজন যথেষ্ঠ। কিন্তু যখন বড় কোন অফিসের, শপিং মলের কিংবা ইন্ডাস্ট্রির জন্য হাজার হাজার সিসিটিভি থাকে, তখন কিভাবে সম্ভব সব কিছু সব সময় নিজেদের নজরদারিতে রাখা। এই সব বিষয় মাথায় রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মত বাজিমাত করতে যাওয়া কিছু প্রযুক্তি।

টোকিও অলিম্পিক ২০২০ এ জাপান ব্যবহার করতে যাচ্ছে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি। প্রায় ৩ লাখ অ্যাথলেট, সাংবাদিক, ক্রীড়া কর্মকর্তারা অবস্থান করবে জাপানে। আর এত বিশাল সংখ্যক মানুষকে  প্রত্যেকবার ভেন্যুতে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। টোকিওর ভেন্যুগুলোতে চেকিং আর অপেক্ষা করার মত এত জায়গা নেই। তাই জাপান ব্যবহার করতে যাচ্ছে ফেস রিকগনিশন এর মত প্রযুক্তি, যা তৈরি করেছে তাদের দেশের টেলিযোগাযোগ এবং  তথ্যপ্রযুক্তির বৃহৎ নির্মাতা NEC. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যেই পরিচালিত হবে এই কার্যক্রম, যার মাধ্যমে একই সাথে বৃদ্ধি পাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বেঁচে যাবে অনেক সময়।   

KAI-FU LEE তার বিখ্যাত বই AI SUPERPOWERS এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বলেছেন, “In the age of AI, data is the new oil, so China is the new Saudi Arabia.” সৌদি আরব, পৃথিবীর অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ। এই তেলের কারণেই জিএনপি  অনুসারে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশের একটি। তাহলে ভাবুন, চীন কে এগিয়ে নেবার জন্য AI এর ভূমিকা কোন পর্যায়ের হতে পারে। তবে চীন ইতিমধ্যেই অপরাধ ঠেকাতে প্রত্যেক নাগরিককে নজরদারিতে আনার চেষ্টা করছে। দেশটিতে এখন কারখানায় প্রবেশ, এয়ারপোর্টে চেকিং, এটিএম থেকে টাকা তুলার জন্য ব্যবহার হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফেসিয়াল রিকগনিশন। যা আপনাকে চিনে নিয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করবে বা কেনা-কাটায় পণ্য চিনে সয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নিবে।

পূর্ব এশিয়ার দেশ চীন যখন AI দিয়ে পৃথিবীতে তার অবস্থান শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে,  ঠিক তখন দক্ষিণ এশিয়ার আর একটি দেশ বাংলাদেশ নিজেদের মাঝে কেবলই মাত্র পরিচিত হচ্ছে AI ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির দ্বারা। নাগরিক জীবন আরও কিছুটা গতিশীল করার জন্য তাই কাজ করে যাচ্ছে gaze.technology নামক একটি প্রতিষ্ঠান।

তাদের তৈরী আলাভিয়া আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিকে দেখাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। ফেস রিকগনিশন, অবজেক্ট ডিটেকশন, স্কিন রিকগনিশন এর মত কাজে দক্ষতা নিয়ে আসছে আলাভিয়া। আর এই সব কিছুই আলাভিয়া করবে আপনার বাসা কিংবা অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।

তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, মেঘনা গ্রুপ, জি এস সোয়েটার এর সাথে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কিছু জায়গাতে শুরু করলেও তাদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ঢাকা এবং পরবর্তীতে সারা বাংলাদেশকে এই প্রযুক্তির আওয়াতায় আনা। জনবহুল ও যানবাহনের এই ঢাকা শহরের প্রায় ২১,০০০ (ডিসেম্বর ২০১৭) সিসিটিভি ক্যামেরার রিয়েল টাইম ট্র‍্যাকিং সিস্টেমে আনছে এই আলাভিয়া। যার মাধ্যমে খুব সহজেই অবৈধ যানবাহন, রুট পারমিট বিহীন গাড়ি সনাক্ত করতে পারবে আলাভিয়া। দেশের একটি বড় ইন্ডাস্ট্রি মেঘনা গ্রুপ তাদের ৭০০ একর ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করছে আলাভিয়ার সাহায্য। পণ্য যথাযথ সময়ে লোড হচ্ছে কিনা, ওজন ঠিক আছে কিনা, এবং গাড়ির রুটগুলি অপ্টিমাইজ করতে ব্যবহার হচ্ছে Gaze.technology এর প্রযুক্তি। এছাড়াও আলাভিয়া কাজ করছে GS sweater এর সাথে, তাদের কর্মীদের নজরদারিতে রাখার জন্য। একজন কর্মী কত ঘন্টা তার নিজ কাজে সময় ব্যয় করছে, কত ঘন্টা বাইরে কাটাচ্ছে তা সহজেই পরিমাপ করা যাবে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে।              

 কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত রাখতে চায়, তাহলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বাদে কেউ প্রবেশ করলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জানাবে আলাভিয়া। কোন গাড়ি যদি হারিয়ে যায় সেটা খুঁজে বের করতেও সাহায্য করবে আলাভিয়া। আর এর জন্য প্রথম থেকেই কাজ করে যাচ্চে বাংলাদেশী কিছু তরুণ নির্মাতা। এ নিয়ে gaze.technology এর সহ নির্মাতা মুতাসিম বীর রহমান জানান তারা আলাভিয়া তৈরীর পরিকল্পনা করেন কানাডায় অবস্থান করা অবস্থায়। বাংলাদেশের জন্য একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স “মেড ইন বাংলাদেশ” ট্যাগে তৈরী করার জন্যই তারা দেশে ফিরে আসেন।  

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker