প্রযুক্তিহোমপেজ স্লাইড ছবি

সাইবার ক্রাইমের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বি.কে. আহমেদ: সময়ের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে পৃথিবী, মানুষ, জলবায়ু, জীবন, জীবনধারা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সেই সাথে অর্থ সম্পদের সংজ্ঞা। ঘরে বসে আপনার হাতের ফোন থেকেই এখন মিলিয়ন ডলার লেনদেন করতে পারেন মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে। হ্যাঁ আর এই সহজ লেনদেন এবং রিসোর্স শেয়ারিং-এর সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সাইবার ক্রিমিনালরা হাতিয়ে নিচ্ছে বিলিয়ন ডলার।

তাই বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ ক্রাইমের অন্যতম হচ্ছে সাইবার ক্রাইম। প্রতিবছর সারা পৃথিবীতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্রাইম হয় এই সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে এবং কোন কোম্পানিকে মুহূর্তেই পথে বসিয়েও দিতে পারে সাইবার ক্রিমিনালরা। আসলে কম্পিউটার ক্রাইমের পরিবর্তিত রুপই হচ্ছে সাইবার ক্রাইম। আসুন এবার দেখে নেই সাইবার ক্রাইমের অতীত-ইতিহাস।

সাইবার ক্রাইমের আদিম যুগ: ১৯৬০-১৯৭৯

শুরুর দিকে অসন্তুষ্ট এবং অসৎ চাকুরে অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাবসায়ীরা এই ক্রাইম শুরু করে। তবে তখনকার ক্রাইমের ধরন ছিল এখন থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন-ধর্মী, তখন কম্পিউটারের ফিসিক্যাল ড্যামেজ এবং টেলিকমিউনেকেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করাই ছিল কম্পিউটার ক্রাইম। ১৯৬০-১৯৭০ পর্যন্ত কম্পিউটারের ফিসিক্যাল ড্যামেজের জন্য ব্যবহার করা হতো পিস্তল, শটগান, অগ্নিবোম, ককটেলবোম সহ বিভিন্ন রকম অস্ত্র এবং বোমা।

সাইবার ক্রাইমের মধ্য যুগ: ১৯৮০-১৯৯০

এসময় শুরু হয় আরো নতুন ধরনের বিভিন্ন প্রকারের এট্যাক।
 Impersonation
 Credit Card Fraud
 Identity Theft Rises
 Phone Phreaking
 Data Diddling
 Equity Funding Fraud
 Salami Fraud
 Logic Bomb
 Extortion
 Trojan Horse
 Worms &
 Viruses

সাইবার ক্রাইমের আধুনিক যুগ: ১৯৯০-বর্তমান

১৯৯০ এর পর থেকে একের পর এক সাইবার ক্রাইমের অজস্র পথ ও পদ্ধতি তৈরী হতে থাকে। এসময় বিশ্বব্যাপী ইন্টার্নেটের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধির ফলে মুহূর্তের মধ্যেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে থাকে যেকোন ম্যালওয়ার বা ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম।
১৯৯০ সালে বানানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে ম্যাক্রো-ভাইরাস যা ১৯৯৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায়। এই ভাইরাসটি পৃথিবীর প্রথম বহুল ব্যবহৃত ভাইরাস যা মাইক্রসফট এর এমএস ওয়ার্ড(MS Word) নির্ভর এরা নিজেদের রেপ্লিকেট নিজেরাই বানাতে পারে এবং এক ডকুমেন্ট থেকে অন্য ডকুমেন্টে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই সমসাময়িক সময়েই তৈরী হয় কুখ্যাত ম্যালওয়ার র‍্যানসামওয়ার(Ransomware)। যা কোন কম্পিউটারের ফাইলস ইনক্রিপ্ট করে Ransom বা মুক্তিপণ দাবি করে এর  থাকেপেছনে ক্রিমিনাল বা হ্যাকার।
এরপর অসংখ্য ভাইরাস এবং ম্যালওয়ার তৈরী হতে থাকে একের পর এক।
 Datacomp Hardware Trojan
 Keylogger Trojan
 Haephrati Trojan
 Hardware Trojan
 Christmas Tree Worms
 Morris Worms
 Melissa
 I love You (email phishing)
 Stuxnet
 Spam
 Denial of Service or DoS
 Distributed Denial of Service or DDoS
 Social Engineering
 APTs
 Internal Threats
 BYOD
 Cloud Security
 HTML5
 Botnets
 Precision Targeted Malware
 Heartbleed
 Adware
 Spyware
 Grayware
 Rootkit
 Backdoor
 Exploit
 Downloader
 Carbanak
 Desert Falcons
 PoSeidon
 Mobile threats
 RAM Scrapers
 Botnets
 Crimeware

এরকম আরো অসংখ্য ম্যালওয়ার। তবে সম্প্রতি Ransomware থেকেও ভয়াবহ ম্যালওয়ার তৈরী হয়েছে *CoinMiner এটা মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনার। Bitcoin এর নাম নিশ্চয় শুনেছেন, এটা এক প্রকার ক্রিপ্টোকারেন্সি এরকম আরো বহু কারেন্সি আছে যেগুলা মাইন করতে প্রচুর কম্পিউটিং রিসোর্স দরকার হয়। আর কম্পিউটার ক্রিমিনাল বা হ্যাকাররা (Hacker) এই প্রচুর পরিমাণ রিসোর্সের জন্য গোপনে অবৈধভাবে দখল নেয় অন্য মানুষের কম্পিউটারের। কম্পিউটারের আসল ইউজার তা জানতেও পারে না তার কম্পিউটিং রিসোর্স ব্যবহার করছে অন্য কেউ। নিরাপদে থাকুন, নিরাপদে রাখুন আপনার ডিজিটাল ডিভাইসকে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker