টেক গেজেটসপ্রযুক্তিহোমপেজ স্লাইড ছবি

বাজেট হেডফোন – জেবিএল টিউন ১১০ (JBL T110)

আবদুল্লাহ আল মুনতাসির: সব সময় তো আমরা কোন না কোন ফোন নিয়েই মেতে থাকি। কিন্তু হেডফোনের কথা কখনো বলা হয়নি। ২০১৯ সালে এসে ওয়ারলেস হেডফোনের দুনিয়ায় আমরা যারা এখন ৩.৫ mm জ্যাক এর ভালোবাসায় মগ্ন আজকের লেখাটি তাদের জন্যই। তবে আমাদের স্বল্প জ্ঞানের আলোকে আমরা অনেক বিশদ বিশ্লেষণে যাবো না। আজকে এমন কিছু নিয়ে আলোচনা করছি যা আমাদের শখের সঙ্গী ও হবে আবার পকেটে আঘাত না করে ইজ্জতের খেয়ালও রাখবে।

– কথা বলবো জেবিএল টিউন ১১০ বা JBL T110 নিয়ে

ডিজাইন

প্রথমেই বলে নেই হেডফোনটি প্লাস্টিক এর (হোয়াট এ সারপ্রাইজ)। তবে জেনে খুশি হবেন যে খুবই সুন্দর একটা গ্লসি ফিনিশ দেওয়া হয়েছে এই হেডফোনে যা আপনার স্টাইলের সাথে খুব সহজেই মানিয়ে যাবে। বাজেট ফ্রেন্ডলি হলেও দেখতে মোটেও কম দামি মনে হয়না হেডফোনটি। খুবি স্লিক দেখতে হেডফোনটি আপনার রেগুলার ইউজের জন্য আদর্শ হয়ে উঠবে বলে আমি মনে করি।

বিল্ড

বিল্ড কোয়ালিটি আমার কাছে ভালোই লেগেছে। তেমন ঠুনকো মনে হয়নি। হালকা চাপেই ভর্তা হয়ে যাবে এমন মনে হয়নি। ব্যাগের চিপায় বা পকেটে চাপ লেগে হালুয়া টাইট হয়ে যাবে বলেও মনে হয়নি। হেডফোনটি তে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্ল্যাট ক্যাবল যা আমার কাছে হেডফোনের জন্য আদর্শ বলে মনে হয়। না হলে করতে হয় যুদ্ধ। সাধারণ ক্যাবলের মায়াজালে জড়িয়ে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছেন অনেকে। তার ছিঁড়েছেন অনেকে হেডফোনের এবং কি নিজের মাথারও। কিন্তু নো ফিয়ার, ট্যাংগেল ফ্রী ফ্ল্যাট ক্যাবল ইজ হিয়ার।

৩.৫ mm জ্যাক এর ওপর গোল্ড প্লেটিং করা হয়েছে এর আয়ু দীর্ঘ করার জন্য। যদিও ৩-৪ মাসের নিয়মিত ব্যবহারে গোল্ড প্লেটিং অনেক খানিই উঠে যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে তাতে কি? দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাই তো বেশি।

বাজেট হেড ফোন তাতে কি একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছেনা? তারা তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালুর কথা চিন্তা করে হলেও সাথে এক্সট্রা ইয়ার বাডস দিয়ে দিয়েছে প্যাকেই। আপনি হেডফোনে মিডিয়াম সাইজের ইয়ার বাডস লাগানো অবস্থায় পাবেন এবং স্মল ও লার্জ সাইজ গুলো প্যাকেটের ভিতরে পেয়ে যাবেন।

ফিচার

হেড ফোনটিতে থাকছে ইন লাইন মাইক্রোফোনের ব্যবস্থা। তাই কল করা বা রিসিভ করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন অনায়াসেই। সিঙ্গেল একটি ট্যাকটাইল বাটন থাকছে যা মাল্টিপারপাস কাজে ব্যবহৃত হবে। একবার চাপ দিলে কল ধরা বা কাঁটা যাবে। গান শোনার সময় একবার চাপ দিয়ে গান প্লে বা পজ করা যাবে। পর পর দুবার চাপ দিলে পরবর্তী গানে চলে যাবে এবং পর পর তিনবার চাপ দিলে পূর্ববর্তী গানে চলে যাবে।

সাউন্ড কোয়ালিটি এই বাজেটে যথেষ্ট ভালো। খুবই ক্লিয়ার ভোকালস ও ট্রেবল মনে হয়েছে আমাদের। খুবই ব্যাল্যান্সড একটা হেডফোন, কোন রকম ডিস্টরশন আমরা পাইনি। কিন্তু এই হেডফোনের আসল ফিচারই হলো বেইজ। কথায় আছেনা, “বিকজ আই’ম অল অ্যাবাউট দ্যাট বেইজ, বাউট দ্যাট বেইজ, নো ট্রেবল” (সরি খুবই লেম জোক ছিল)। JBL এর নিজস্ব পিউর বেইজ টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে এতে যার ফলাফল আমরা লক্ষ্য করেছি। এক কথায় খুবই সুন্দর বিট উপভোগ করতে পারবেন আপনি এই হেডফোনে।

দাম

ভালো মোবাইলের মার্কেট গুলোতেই পাবেন হেডফোনটি তবে আমরা সাজেস্ট করবো কোন ভালো ব্র্যান্ডেড দোকান থেকে কিনতে। যেমন ধরুন গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারস এর যেকোনো শো রুম থেকেই আপনি এটি মাত্র ১১০০ টাকায় কিনতে পারবেন।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker