ট্রেন্ডিং খবরপ্রযুক্তিহোমপেজ স্লাইড ছবি

মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করার জন্য কাজ করে যে প্রতিষ্ঠান

মঞ্জুর দেওয়ান: ইলন মাস্ককে অনেকে ভিনগ্রহের বাসিন্দা বলে ভেবে থাকেন। রক্ত মাংসে গড়া হুবহু পৃথিবীর মানুষের মতো দেখতে আবার ভিনগ্রহের হয় কি করে! আসলে মানুষের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। ইলন মাস্কের প্রতি এমন প্রতিক্রিয়ার জন্য অবশ্য যথেষ্ট কারণ আছে। ইউনিভার্সিটি অব পেনিসিলভানিয়া থেকে বিজনেস নিয়ে পড়াশুনা করা মাস্কের কথা ছিলো ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা। প্রথমে করেছেনও তাই। বিশ্বজোড়া পরিচিতি পাওয়া পেপাল নামক পিয়ার টু পিয়ার মানি ট্রানজেকশন সিস্টেম তৈরি করেছিলেন মাস্ক। নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পেপাল একসময় ছেড়ে দেন ।

বিখ্যাত টেসলা মোটরসেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তারপরও মন টেকেনি। পরবর্তীতে মনোনিবেশ করেছেন মহাকাশে। বর্তমানে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে পরে আছেন ইলন মাস্ক। অনেকে মজা করে বলেন, ইলন মাস্ক সব ছেড়ে মহাকাশ নিয়ে পরে আছেন, কারণ সে তার নিজ গ্রহে ফিরতে চায়! ২০০২ সালে চওড়া এক স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করে স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্পোরেশন। গোটা বিশ্বের মানুষ যাকে স্পেস এক্স নামে চিনে থাকেন। মহাকাশ ভ্রমণকে অনেক বেশি সহজলভ্য করতে যার যাত্রা। ইলন মাস্কের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি হলো মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করা।

২০৩০ সালের আগেই মঙ্গল গ্রহে মানুষের থাকার ব্যবস্থা করতে চান ইলন মাস্ক! এছাড়া স্পেস ট্রাভেল এবং এক্সপ্লোরেশনের খরচ কমিয়ে স্পেস ট্রাভেলিংকে সমৃদ্ধ করতে দৃঢ় প্রত্যয়ী এই স্বপ্নদ্রষ্টা। মূলত স্পেস ট্রাভেলিং খাতকে সকলের জন্য সস্তা করার জন্যই পথ চলা শুরু হয় স্পেস এক্সের। ক্যালিফোর্নিয়ার হ্যাথ্রোনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির একসময় মাত্র ৬০ জন কর্মচারী ছিলো। শুরুর দিকে ইলন মাস্কের পরিকল্পনা ছিলো রাশিয়া থেকে অল্প দামে রকেট কিনে মডিফাই করবেন। কিন্তু রাশিয়া থেকে কম দামে রকেট কিনতে সক্ষম না হওয়ায় নিজেরাই রকেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।

রকেটের কাচামাল সম্পর্কে ধারণা থাকায় ইলন মাস্ক বুঝতে পারেন, রকেট নিজেরা তৈরি করলে অনেক গুণ কম খরচ হবে। এছাড়া নিজেদের তৈরি রকেট বিক্রি করে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা লাভ করা সম্ভব হবে। ইলন মাস্কের এমন পরিকল্পনা ভালো লেগে যায় বিনিয়োগকারীদের। স্পেস এক্সের বিনিয়োগকারীদের থেকে রকেট প্লান্ট বানানো পুঁজি হাতে নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করে দেন মাস্ক। সফলতাও ধরা দেয়। বর্তমানে স্পেস এক্স থেকে বের হওয়া প্রতিটি রকেটের ৮৫ শতাংশ কাজ নিজেরাই করে আসছে স্পেস এক্স। এখন সাত হাজারেরও অধিক কর্মচারী কাজ করছেন। মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর কাজ যেখানে নির্দিষ্ট দেশের সরকার করে আসছিলো স্পেস এক্স সেখানে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হয়ে করে দেখিয়েছে। তাও আবার খুবই কম খরচে।

স্পেস এক্স-ই পৃথিবীর একমাত্র কোম্পানি যারা কম খরচে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রকেট পাঠাচ্ছে। স্পেস এক্স ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) নানারকম কার্গো পাঠাচ্ছে। তাছাড়া মহাকাশে উপগ্রহ স্থাপনের কাজও নিয়মিত করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস এক্সের ‘ফ্যালকন নাইন’ এ করে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু ১’ মহাকাশে পৌঁছায়।

মজার ব্যাপার হলো স্পেস এক্সের তৈরি রকেট ব্যতীত অন্য সব রকেট একবারের জন্যই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ইলন মাস্কের তৈরি রকেট সফল উড্ডয়নের পর লঞ্চপ্যাডে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। যা কি না পরবর্তী উৎক্ষেপণে ব্যবহারযোগ্য!

২০০২ সাল থেকে ১৭ বছরের পথচলায় স্পেস এক্স চারটি রকেট ইঞ্জিন ডেভেলপ করেছে। ইঞ্জিনগুলো হলো, Merlin, Kestrel, Draco এবং SuperDraco। চারটি ভিন্ন ইঞ্জিনের ব্যবহারও আলাদা আলাদা কাজে। ফ্যালকন সিরিজের সব ধরনের রকেটে Merlin ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা হয়। Kestrel ব্যবহার করা হয় ফ্যালকন রকেটের দ্বিতীয় স্টেজে। Darco এর ব্যবহার ড্রাগন নামক স্পেসক্রাফটে। আর Darco এর শক্তিশালী রূপ SuperDarco। স্পেস এক্স Rapter নামক নতুন একটি রকেট ইঞ্জিনের ডেভেলপিং করছে। মিথেন/লিকুউড অক্সিজেন পরিবারের এই ইঞ্জিনটি হবে স্পেস এক্সের পরবর্তী চমক!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker