ছুটি

রহস্যের অন্য নাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

মঞ্জুর দেওয়ান: পৃথিবীতে যতগুলো রহস্যে ঘেরা স্থান আছে তার মধ্যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের নাম সবার উপরে। সেই কলম্বাস থেকে শুরু হয়ে আজও মানুষের মনে সমান আগ্রহের স্থান বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। রহস্যময় এই স্থানটি সম্পর্কে সর্বপ্রথম ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মাধ্যমেই জানা গিয়েছিলো। ইতালিয়ান নাবিক তার অভিজ্ঞতায় লিখেছিলেন যে, তাঁর জাহাজের নাবিকেরা দিগন্তে আলোর নাচানাচি দেখেছেন। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের আকাশে ধোঁয়া দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া দিক নির্ণয়ের সময় কম্পাসের উল্টাপাল্টা নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিজের অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করেছিলেন কলম্বাস। 

আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চলকে ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মানুষদের আগ্রহের শেষ নেই। গুঞ্জন রয়েছে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে প্রবেশের পর এখন পর্যন্ত ৭৫ টি বিমান ও ১০০টির কাছাকাছি জাহাজের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। শয়তানের ত্রিভুজ খ্যাত এই জায়গাটি নিয়ে নানা মতানৈক্য রয়েছে। অনেকে মনে করেন, এখন পর্যন্ত যে সকল জাহাজ ও উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়েছে, তা নিছকই দূর্ঘটনা। আবার আর একদল মনে করেন, অতিপ্রাকৃত কোন শক্তির বদৌলতে আজব সব ঘটনা ঘটে চলেছে এই জায়গাটিতে। ভিনগ্রহের কোন প্রাণীর উপস্থিতিতে এমন বিপর্যয় ঘটেছে বলেও মনে করা হয়। 

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার এই যুগে এসে এমন অতিপ্রাকৃত জিনিসকে পাত্তা দিতে চায়নি এই বিষয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন সময়ে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কেউই। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে যারা কাজ করছেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছেন নরওয়ের গবেষক দল। উত্তর মেরুর ব্যারেন্টস সাগরের তলদেশে বেশ কিছু বড় গর্তের সন্ধান পেয়েছেন বলে দাবী করেছেন তারা। আর্কটিক ইউনিভার্সিটি অব নরওয়ের গবেষক দল জানান, তলদেশের ওই গর্তের মুখের ব্যাস ৩ হাজার ২৮০ ফুটের চেয়েও বেশি হতে পারে। গভীরতা হতে পারে ১৩১ ফুট পর্যন্ত! থ্রিডি সিসমিক ইমেজিং নামক একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করে গর্তগুলো সনাক্ত করেছেন গবেষক দল। কথিত সেই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে খনিজ তেল থেকে সৃষ্ট উচ্চ চাপের মিথেন গ্যাসের জন্য। যে গ্যাসের ‘বদহজম’ এর ফলে সমুদ্রের পানি ভয়ংকর রকম উত্তপ্ত হয়। আর মিথেনযুক্ত এই পানির সংস্পর্শে এসে জাহাজডুবি হয় বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া বিতর্কিত এই ট্রায়াঙ্গেলের উপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর থেকে উষ্ণ স্রোত বয়ে গেছে। তীব্র গতির স্রোতই এখন পর্যন্ত সকল জাহাজের ভরাডুবির কারণ। 

তাছাড়া এখানকার আবহাওয়া নির্ণয় করা জাহাজীদের পক্ষে সম্ভব হয়না। মুহুর্তেই বদলে যায় প্রেক্ষাপট। হঠাৎ করে ঝড় উঠে। পরমুহূর্তেই শান্ত! আপনি হয়তো মনে করতে পারেন, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের আকাশপথে কিংবা জলপথে যাতায়াত না করলেই হয়! কিন্তু এতো এতো দূর্ঘটনার পর অপয়া জায়গাটি ব্যবহারে বিরত থাকতে পারেনি পৃথিবীর মানুষ। কেননা, এই অঞ্চলটি বিশ্বের ভারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকারী পথগুলোর অন্যতম। যে জাহাজগুলোর গন্তব্য আমেরিকা, ইউরোপ ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়া এই অঞ্চলটি প্রচুর প্রমোদতরীর বিচরণ ক্ষেত্র। বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বিমান চলাচলের রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তিগত বিমান কিংবা যাত্রীবাহী বিমান উধাও হয়ে যাওয়ার খবর নিয়ে হইচই হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। এসব যানের রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার পেছনে ‘রাফ ওয়েভ’ বা ‘ভয়ঙ্কর ঢেউ’ কে দায়ী করেছেন।

‘চ্যানেল ৫’ তাদের ‘দ্য বারমুডা এনিগমা’ তথ্যচিত্রে জাহাজের গায়েব হওয়ার পেছনে ১০০ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯৯৭ সালে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলে এই ঢেউ লক্ষ্য করা যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এই ঢেউ সম্পর্কে আগে থেকে কোন আভাস পাওয়া যায়না। এতো সব ঘটনার পরও বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখা দাঁড় করিয়েছেন। ঘটে যাওয়া সব ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন। জানিয়েছেন, এই ট্রায়াঙ্গেলের সাথে অন্যান্য জায়গার কোন তফাৎ নেই। রংচটা খবর ছাপিয়ে কাটতি বাড়াতে চেয়েছেন অনেকে। যে খবর পড়ে জনমনে আগ্রহের জায়গা হিসেবে স্থান পেয়েছে বাড়মুডা ট্রায়াঙ্গেল!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker