শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭
webmail
Sun, 22 Oct, 2017 10:09:43 PM
নতুন বার্তা ডেস্ক

ইস্ট লন্ডন: সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে সফরকারী বাংলাদেশকে ২০০ রানের বড় ব্যবধানে হারালো স্বাগতিক বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিলো প্রোটিয়ারা। রান বিবেচনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। টাইগারদের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় ২০৬ রানে।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে টস জিতলেও ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্কে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পারলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস। ওপেনার হাশিম আমলাকে বিশ্রামে রেখে তেম্বা বাভুমা ও কুইন্টন ডি কককে দিয়ে ইনিংস শুরু করে প্রোটিয়ারা। এই নতুন জুটিও সফল। উদ্বোধণী জুটিতে ১০৭ বলে ১১৯ রান যোগ করেন তারা। বাভুমাকে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে থামিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নামা অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ।

দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় উইকেটের পতনও ঘটিয়েছেন মিরাজ। ৬৮ বলে ৭৩ রান করা ডি কককে নিজের ডেলিভারিতে ক্যাচ নেন মিরাজ। এরপর ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে ফেলার কাজটা সম্পন্ন করে ফেলেন অধিনায়ক ডু-প্লেসিস ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আইডেন মার্করাম। মাত্র ১১৪ বল মোকাবেলা করে ১৫১ রানের জুটি গড়েন তারা। জুটিতে মাত্র ৫৫ বল খেলে ৮৩ রান যোগ করেন ডু-প্লেসিস। আহত অবসর হবার আগে ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬৭ বলে ৯১ রান করেন ডু-প্লেসিস।

ডু-প্লেসিস ফিরে যাবার পর মার্করাম ও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবি ডি ভিলিয়ার্সকে তুলে নেয় বাংলাদেশ। ইমরুলের সরাসরি থ্রোতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন মার্করাম। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬০ বলে ৬৬ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেনের শিকার হবার আগে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২০ রান। এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৪৫ দশমিক ১ ওভারে ৪ উইকেটে ৩২৫ রান।

এরপর আরও দ্রুত আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৫০ রানের নীচে আটকে রাখার স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি হতে দেননি ফারহান বেহারদিয়েন ও কাগিসো রাবাদা। সপ্তম উইকেটে ১৮ বল অবিচ্ছিন্ন ৩৪ রান করেন তারা। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৬৯ রানের সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বেহারদিয়েন ২৪ বলে ৩৩ ও রাবাদা ১১ বলে ২৩ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও পেসার তাসকিন আহমেদ ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট নিয়েছেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন।

জবাবে পাহাড় সমান টার্গেটের পেছনে ছুটতে গিয়ে বাংলাদেশের টপ-অর্ডারের মুখ থুবড়ে পড়ে। দলীয় ৩ রানে প্রথম উইকেট হারানো পর ২০ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার ইমরুল কায়েস ১, ওপেনার সৌম্য সরকার ৮ ও তিন নম্বরে নামা লিটন কুমার দাস ৬ রান করে ফিরেন।

চতুর্থ উইকেটে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরি করার মুশফিকুর রহিম। কিন্তু জুটিতে ৩১ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি তারা। এই ৩১ রানের মধ্যে ২৫ রানই আসে সাকিবের ব্যাট থেকে। মুশফিক অবদান রাখেন মাত্র ৪ রান। ৮ রান করে মুশফিকুর বিদায় নিলে বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি।

মুশফিকের পর উইকেটে গিয়ে ৭ বলের বেশি করতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। নামের পাশে ২ রান রেখে ফিরেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে বড় জুটিই গড়েন সাকিব ও সাব্বির। এতে দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকা থেকে চিন্তামুক্ত হয় বাংলাদেশ। ৯৫ বলে ৬৭ রান যোগ করেন সাকিব ও সাব্বির। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৮২ বলে ৬৩ রান করেন সাকিব। তার ইনিংসে ৮টি চার ছিলো।

বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়ে ৩৯ রানে থামেন সাব্বির। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ৬টি বাউন্ডারি ছিলো। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের বিদায়ের পর শেষের দিকে ছোট্ট ছোট্ট ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ১৬৯ রানে নিয়ে যেতে পারেন মিরাজ ও মাশরাফি। মাশরাফি ১৭ ও মিরাজ ১৫ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্যাটারসন ৩টি ও তাহির-মার্করাম ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু-প্লেসিস।

আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে দুই ম্যাচের টুয়েন্টি টুয়েন্টি সিরিজে লড়াই শুরু করবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

নতুন বার্তা/এমআর


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close