ক্রিকেট

এখন বিরাট মহাতারকা! একসময় বিরাটও বাদ পড়েছিল

মুম্বাই: বিরাট কোহলি! বর্তমান ক্রীড়াদুনিয়ায় স্বপ্নপূরণের এক নাম। ব্যাট হাতে বিরাটের বিশ্বশাসন দেখছে ক্রিকেট বিশ্ব। মাঠের বাইরেও বিরাট কোহলি সর্বদা সংবাদের শিরোনামে। বান্ধবী অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে তাঁর হাইপ্রোফাইল ‘শাদি’ শুধু উপমহাদেশে নয়, গোটা বিশ্বের প্রচারমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে। বিজ্ঞাপনী দুনিয়াতেও একচ্ছত্র আধিপত্য কিং কোহলির।

বিয়ের পরেই বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বিরাট। বিদেশের বাউন্সি উইকেটে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রমাণ করার সফর কোহলির। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, কোহলিকেও একবার জাতীয় দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল!

অবশ্য ঘটনাটি প্রায় এক দশকের পুরনো। সেই সময়ে বিরাট উঠতি প্রতিভা। বিরাটের অধিনায়কত্বে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। তার কয়েকমাসের মধ্যেই জাতীয় দলে খেলার জন্য বিবেচিত হয় বিরাটের নাম। সুযোগ পেয়েওছিলেন। তবে প্রথম একাদশ বড় দুষ্কর ঠাঁই! বেশির ভাগ সময়েই রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল।

এর পর ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেট দলে নেওয়া হয়। দলের নির্বাচকরা ঠিক করেছিলেন, সিরিজ়ের শেষ দুটো ম্যাচে বিরাটকে প্রথম একাদশে খেলানো হবে। তবে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে কোহলি সুযোগ পাওয়ার আগেই মুম্বইয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়। সিরিজ মাঝপথেই স্থগিত করে দেওয়া হয়। দল থেকেও বাদ পড়তে হয় কোহলিকে। কোহলি মনে করেন, ওটাই তাঁর কেরিয়ারের সবথেকে খারাপ সময় ছিল।

সর্বভারতীয় এক প্রচারমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিরাটকে নিয়ে বোর্ডেও নেতিবাচক ধারণা ছিল। বলা হয়, খেলার তুলনায় বিরাট সেই সময় নিজের চুলের স্টাইল এবং ট্যাটুর উপর বেশি সময় দিতেন।

সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই তাঁর বই “ডেমোক্রেসি ইলেভেন”-এ দাবি করেছেন যে, ভারতীয় ক্রিকেট দলের এক প্রাক্তন নির্বাচক নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল চলাকালীন বিরাট মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। সে কারণেই তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও বিরাট এমন দাবি মানেননি।

কেরিয়ারের ঘোর দুঃসময়ে বিরাটের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যুবরাজ সিংহ। নিজের ভাইয়ের মতোই আগলেছিলেন বিরাটকে। যুবির পরামর্শেই ঘুরে দাঁড়ান কোহলি।

যুবি কী টিপস দিয়েছিলেন কোহলিকে? জানা যায়, যুবরাজ সিংহ কোহলিকে বলেছিলেন, ‘‘জীবনে যদি উন্নতি করতে হয়, তা হলে আমাকে নয়, সচিনকে প্রেরণা হিসেবে বেছে নাও। সচিনের শৃঙ্খলায় নিজেকে বেঁধে ফেলো।’’

তারপর? বাকিটা ইতিহাস…

নতুন বার্তা/এমআর

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker