ক্রিকেট

দুর্দান্ত মুশফিক, অবিশ্বাস্য জয় টাইগারদের

কলম্বো: তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৭২ রানের সুবাদে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় পেল বাংলাদেশ।

নিদাহাস ট্রফির তৃতীয় ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের উপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ৬ উইকেটে ২১৪ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। টি-টোয়েন্টিতে প্রেমাদাসার মাঠে এটাই সবচেয়ে বড় দলীয় সংগ্রহ।

শ্রীলঙ্কার করা ২১৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপুটে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতেই জমা করেছিলেন ৭৪ রান। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে অবশ্য দুজনেই ফিরেছেন সাজঘরে। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৭৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারিয়েছিল প্রথম উইকেট। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরেছিলেন লিটন। দশম ওভারে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন তামিম। তিনি খেলেছেন ২৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস।

তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে আরও খানিকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। ১৫তম ওভারে সৌম্য ফিরেছিলেন ২৪ রান করে। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ২০ রান। আর ৩৫ বলে ৭২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন মুশফিক। শেষপর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক।

এই জয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টির সীমিত ওভারে এই প্রথম দুইশোর বেশি রান করল টাইগাররা। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১৬ সালে খুলনায় ১৬৪ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। শুধু নিজেদের রেকর্ড নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ায় এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল পেরেরার ৭৪, কুশল মেন্ডিসের ৫৭, উপুল থারাঙ্গার ৩২ ও ধনুস্কা গুনাথিলাকার ২৬ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে ২১৪ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

উদ্বোধনী জুটিতে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ৪.৩ ওভারে ৫৬ রান তুলেন গুনাথিলাকা। তাদের এই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারের বলে স্টাম্প উড়ে যায় ধানুস্কা গুনাথিলাকার। সাজঘরে ফেরার আগে ১৯ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৬ রান করেন লংকান এই ওপেনার।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কুশল পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে ফের জুটি বাঁধেন মেন্ডিস। এই জুটিতে তারা ৮৫ রান যোগ করেন। ইনিংসের ১৪তম ওভারে বোলিংয়ে এসে চার বলে ২ উইকেট শিকার করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কুশল মেন্ডিস এবং দাসুন শানাকে সাজঘরে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে কিছুটা স্বস্তির পরশ এনে দেন ভারপ্রাপ্ত এ অধিনায়ক। এরপর নতুন ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমালের উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে বল শূন্যে তুলেন কুশল পেরেরা। মুশফিকের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৪৮ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৭৪ রান করেন কুশল পেরেরা। রানের খাতা খোলার আগেই থিসেরা পেরেরাকে পেরান কাটার মাস্টার।

বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুটি উইকেট গেছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ঝুলিতে।

দলকে জেতাতে অনন্য অবদান রাখায় খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

নতুন বার্তা/এমআর

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker