ক্রিকেট

৩১শে সাকিব

ঢাকা: বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ৩১তম জন্মদিন আজ । ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই তারকা ক্রিকেটার।

বাবা মাশরুর রেজা ফুটবলের ভক্ত হলেও ছেলে বড় হতে থাকেন ব্যাট-বল নিয়ে। মাগুরার স্থানীয় একটি ক্লাবে খেলে ক্রিকেট রপ্ত করতে থাকেন সাকিব। বাঁহাতি ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দ্রুতই সমবয়সীদের ছাড়িয়ে যেতে থাকেন এই ক্রিকেটার। ক্রিকেটের প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে বাবা তাকে ভর্তি করে দেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)।

পরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে দ্যুতিময় পারফরম্যান্সই সাকিবকে নিয়ে আসে পাদপ্রদীপের আলোয়। ২০০৬ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাকিবের।

তবে ভক্তদের নিয়ে একদিন আগেই অর্থাৎ শুক্রবার নিজের জন্মদিন পালন করলেন এই অলরাউন্ডার। আজ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকবেন তিনি। তাই একদিন আগেই সমর্থকদের সময় দিলেন। মিরপুর এক নম্বরে সাকিব’স ৭৫ কনভেনশন হলে হয়েছে অনুষ্ঠানটি।

রবিউল প্লাজায় দ্বিতীয় ফ্লোরে সাকিব যখন পা রাখেন, তখন রাস্তায় সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। নিচে থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন সাকিব। শামীম আল হাসান নামে এক সমর্থক জানান, ‘আমাদের গ্রুপের নাম ফ্যান’স অব সাহ৭৫। এছাড়া আরও ৮-১০টি গ্রুপ এই অনুষ্ঠানে এসেছিল। প্রতি বছর আমরা তার জন্মদিন পালন করে থাকি। কিন্তু এবার সাকিব নিজে থেকেই আমাদের ডেকেছেন।’ সাকিব আল হাসানের জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্ম ‘লিংকআস’।

২০০৯ সালে একমাত্র বাংলাদেশি অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়ানডে অলরাউন্ডার র্যাং কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন। এরপর টেস্টেও নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে সেরা অলরাউন্ডারের আসন দখল করেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটের তিন বিভাগের সেরা অলরাউন্ডার হন এই ক্রিকেটার।

ওয়ানডে অভিষেকের পরের বছরই ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে টেস্টে অভিষেক হয় সাকিবের। আর ২০০৬ সালে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ম্যাচ খেলেন তিনি।

সাবিক তার পারফরম্যান্সের প্রামাণ দিয়েছে প্রায় প্রতিটি দেশ থেকে শুরু করে প্রতিটি টুর্নামেন্টে। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে এ যুগের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-২০ লিগেও দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন। খেলেছেন বিশ্বের প্রায় সবগুলো লিগে।

জন্মদিনের প্রোগ্রামে সাকিব বলেন, নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠে আমরা দেখিয়েছি এই ফরম্যাটেও পারে বাংলাদেশ। এখন এটা ধরে রাখতে হবে। টি ২০তে ভালো করতে হলে বিপিএলের পাশাপাশি আরও একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হলে ভালো হয় বলে মনে করছেন সাকিব। তিনি বলেন, শুনেছিলাম বিপিএলের পাশাপাশি ঢাকা লিগের ছয়টি দল নিয়ে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হবে। সেটা করতে পারলে এই ফরম্যাটে দলের জন্য ভালো হবে।

এখন পর্যন্ত ৫১ টেস্টের ৯৬ ইনিংসে ব্যাট করে সাকিব ৪০.৩৮ গড়ে ৩৫৯৪ রান করেছেন।রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ২২টি হাফসেঞ্চুরি। সাদা পোশাকে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৭। এটি আবার বাংলাদেশের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ। সমান টেস্টে ৮৬ ইনিংসে বল করে পেয়েছেন ১৮৮টি উইকেট।
যেখানে বোলিং গড় ৩২.৩৭ ও ইকোনোমি ৩.০১। ১০ উইকেট পেয়েছেন দু’বার। আর ৫ উইকেট পেয়েছেন ১৭বার।এক ম্যাচে তার সেরা বোলিং ফিগার ১২৪ রানে ১০ উইকেট। আর এক ইনিংসে ৩৬ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট।

ওয়ানডেতে সাকিবের ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ। ১৮৫ ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ১৭৪বার। যেখানে ৩৪.৯৫ গড়ে করেছেন ৫২৪৩ রান। রয়েছে ৭টি সেঞ্চুরি ও ৩৭টি হাফসেঞ্চুরি। এক ম্যাচে তার সেরা ১৩৪ (অপরাজিত)। আর ১৮২ ইনিংসে বল করে ২৯.৪৬ গড় ও ৪.৪৪ ইকোনোমিতে নিয়েছেন ২৩৫টি উইকেট। ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন একবার। সেরা বোলিং ফিগার ৪৭ রানে ৫ উইকেট।

৬৩টি টি-২০ খেলে ১২০.৬৮ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১২৩৭ রান। রয়েছে ৬টি হাফসেঞ্চুরি। আর ৬২ ইনিংসে বল ঘুরিয়ে নিয়েছেন ৭৫ উইকেট। ইকোনোমি ৬.৭৮। সেরা বোলিং ফিগার ১৫ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট।

নতুন বার্তা/কেকে

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker