ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

অপরুপ সৌন্দর্যের দেশ নিউজিল্যান্ড

মৃন্ময়ী মোহনা: নিউজিল্যান্ড ওশেনিয়া মহাদেশের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র, যা অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।নিউজিল্যান্ড অসংখ্য ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। ‘স্টুয়ার্ট’ এবং ‘চাথাম’ এইদেশের প্রধান দুটি দ্বীপ। এ দেশটি ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন একটি দেশ,যা অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে তাসমাস সাগরের মধ্যে অবস্থিত। এদেশের পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  এবং প্রাণীকুল বৈচিত্র্যময় ও প্রাচুর্যপূর্ণ। প্রায় ৭০০ বছর আগে পলিনেশীয় বিভিন্ন জাতি নিউজিল্যান্ড আবিষ্কার করে ও এখানে বসতি স্থাপন করে। এরা ধীরে ধীরে একটি স্বতন্ত্র মাওরি সংস্কৃতি গড়ে তোলে।  একসময় নিউজিল্যান্ডে ব্যাপকভাবে ইউরোপীয় বসতি স্থাপন শুরু হয়। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হতে থাকে। বর্তমানে,এটি বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র। যেকোনো ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছেই নিউজিল্যান্ড একটি স্বপ্নের নাম।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়:

বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের হাই কমিশন না থাকায় ভারতের মুম্বাই অথবা কোলকাতা থেকে ভিসার কাজগুলো করতে হয়। নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণের  জন্য একজন ট্যুরিস্টকে সাধারণত তিন মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করা হয়। ভারত থেকে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ড আসতে হয়

নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণ: 

ডিসেম্বর – ফেব্রুয়ারি  মাসে  নিউজিল্যান্ডে গরমকাল চলে। এসময় তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থাকে। এসময় তাই ভ্রমণ করার উপযুক্ত সময়। দুটি প্রধান দ্বীপ ঘুরে দেখতে ১৫-২০ দিন সময় লাগে। নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী, সরকার এবং দেশের আইন -সবই সচেতনতায় পূর্ণ। অন্য দেশ থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ‘Bio Security’ -এর  নিয়ম মানতে হয়। বিমানে থাকাকালেই  ট্রাভেল হিস্ট্রি কার্ড সরবরাহ করা হয়। কার্ডটা ফিল-আপ করে এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার আগেই জমা দিতে হয়। নিউজিল্যান্ড ঘুরে দেখার জন্য দুটি উপায় আছে। প্রথমত, নিজে গাড়ি চালিয়ে ভ্রমণ করা এবং দ্বিতীয়ত টুরিস্ট বাসে গ্রুপ-ট্যুর

প্রধান প্রধান ভ্রমণের জায়গা:

অকল্যান্ড: নিউজিল্যান্ডের মধ্যে অকল্যান্ড সব থেকে বড় শহর, যাকে ‘City of Sails’ বলা হয়। এ শহরে আছে অনেক ঘোরার জায়গা। তারমধ্যে, একটি হলো  ‘Harbour area’ এখানে অল্প বয়সী ছেলেরা বিভিন্ন যান নিয়ে টুরিস্টদের নিয়ে ‘Harbour’ বরাবর ফুটপাথের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে আনে।’ ‘Waitakere  regional park’ অকল্যান্ড শহরের বৃহত্তম পার্ক।মনোরম এ পার্ক ভ্রমণপিপাসুদের সৌন্দর্য পিপাসা মিটাবে। অকল্যান্ডের আরেকটি দর্শনীয় স্থান ‘Museum of Transport and Technology’.ডিফেন্সের যাবতীয় জিনিস নিয়ে বানানো হয়েছে যাদুঘরটি। এছাড়া  অকল্যান্ডে আছে বিখ্যাত স্কাই-টাওয়ার। যার দৈর্ঘ্য,৩২৮ মিটার ।

কাইকোউরা: বিচিত্র বনজঙ্গল আর সামুদ্রিক খাদ্যপ্রেমীদের স্বর্গ এই জায়গাটি। দক্ষিণ দ্বীপের এই ছোট্ট উপকূলীয় অঞ্চলটি এ দুই কারনে বিখ্যাত।

নাপিয়ার আর্ট ডেকো: হাওকে বে’র দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব কোস্টে এটি অবস্থিত। এটি বিখ্যাত চোখ ধাঁধানো সব শিল্প ডেকো স্থাপত্যের জন্য।

আবেল তাসনাম ন্যাশনাল পার্ক: বিশাল এই উদ্যানটি  পর্বতময়। হাইকিং  উদ্যানটিতে ঘুরে বেড়ানোর প্রধান ও চমকপ্রদ উপায়।

করমেন্ডাল পেনিনসুলা: চমৎকার সৈকত, ছবির মতো গ্রাম। উষ্ণ পানির বিচের জন্য জায়গাটি বিখ্যাত।

রোটারুয়া: রোটারুয়া জায়গাটি ‘Geothermal Activity’, ‘Geysers’ এবং ‘Hot Mud Pool’ এর জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে সুবিশাল লেক এবং লেককে ঘিরে নানা বিনোদন ব্যবস্থা। রোটারুয়া একটি সক্রিয় অগ্নেয়াগিরির মধ্যে অবস্থিত,  জিওথার্মাল পার্কে গেলে যা বুঝতে পারা যায়। এছাড়া,রোটারুয়াতে আছে নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের আবাস।

ক্রাইস্টচার্চ: এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বোটানিক্যাল গার্ডেন। ১৮৬৩ সালে  তৈরি এ গার্ডেনটির বিস্তৃতি ২১ হেক্টর জায়গা জুড়ে।  বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশেই রয়েছে ক্রাইস্টচার্চের ক্যানটারবেরি মিউজিয়াম। এছাড়া আছে,ক্যাথিড্রাল চার্চ। ক্রাইস্টচার্চের একটি বড় আকর্ষণ ছাদহীন দোতলা বাসে করে শহর ঘোরা।

মাউন্টকুক: এটি সাউথ আইল্যান্ডের প্রাণকেন্দ্র।  ‘টেকাপো লেক’ এখানে অবস্থিত।লেকের পারেই গড়ে উঠেছে মানুষের বসবাসের জন্য ঘরবাড়ি আর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া এখানে ‘Church of the Good Sheperd’ রয়েছে। মাউন্টকুক নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সবথেকে উঁচু পাহাড়। যার উচ্চতা ১২,১২৮ ফুট।

কুইন্সটাউন: এ শহরের ‘টুইজেল’ নামের এলাকায় ‘Wrinkly Rams’ নামে এক ক্যাফে আছে যেখানে ভেড়ার লোম ছাঁটা দেখানো  হয়। শহরটাকে ঘিরে রয়েছে ‘ওয়াকাটিপু’ লেক। এছাড়া এই শহরে আছে ৪৫০ মিটার উপরে অবস্থিত স্কাইলাইন রেস্টুরেন্ট। এছাড়া রয়েছে পাহাড়ের প্রতিবিম্ব জলে দেখা যায় এমন জায়গা, যার নাম মিরর লেক। ‘মিলফোর্ড সাউণ্ড’ ‘লেডি বোয়েন ’ আর ‘স্টারলিন’ প্রভৃতি মনমাতানো সৌন্দর্যের জায়গাগুলোও এখানে অবস্থিত। এসব এলাকায়  বর্ষাকালে শতাধিক অস্থায়ী ঝর্ণা দেখা যায়। 

গ্লাসিয়ার: এই এলাকায় যেতে পথে পড়বে ঝাউ আর পাইন গাছের সারি, আঙুরের খেত আরও কত কি! ‘ওয়ানাকা’ এই এলাকার একটি বিশেষ ট্যুরিস্ট স্পট। ওয়ানাকাতে আছে বাঙ্গি জাম্পিং, জেটবোটিং, ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং, নদীতে সার্ফিং এর সুযোগ। হিমবাহ অঞ্চলটি মূলত দুইভাগে বিভক্ত।’Fox Glacier’ ও ‘Franz Josef Glacier’। প্রথমটির  বরফগলা পানি থেকে উৎপত্তি হয়েছে ‘Fox’ নদীর এবং  দ্বিতীয়   হিমবাহের বরফগলা পানি থেকে ‘Waiho’ নদীর উৎপত্তি।

এই হলো অপরূপ নিউজিল্যান্ডের সৌন্দর্যময় কিছু জায়গার বিবরণ। পয়সা কড়ি জমিয়ে তাই একবার ঘুরে আসুন এই সৌন্দর্যের দেশে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker