খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

আমাদের একজন কিং ব্যাক মুন্না ছিলেন

আরমান হোসেন পার্থ:He was mistakenly born in Bangladesh” মোনেম মুন্নার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে কথাটি বলেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক জার্মান কোচ অটো ফিস্টার। ভালোলাগার ফুটবল ভালবাসায় রূপ নিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সিরাজুল্লাহ মাঠ থেকে। সেই মাঠ আজও আছে কিন্তু নেই সেই সোনালি দিন আর মোনেম মুন্না। যে মুন্নার নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম সাফল্য ধরা দিয়েছিল তাকে আজ কয় জন মনে রেখেছে? এমনকি কালের বিবর্তনে  ধানমন্ডি ৮ নম্বরের ব্রিজটির নাম-ফলক ও মুছে গেছে।

মোনেম মুন্না শুধু বাংলাদেশ নন, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলার। ক্যারিয়ারের মাঝামাঝিতে খেলেছেন কলকাতার ক্লাব  ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে।  এখন ও কাটা তারের ওপারের মানুষ গুলোর কাছে মুন্নার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।  বাংলাদেশ ফুটবলের কথা উঠলেই তারা স্মরণ করে মোনেম মুন্নাকে।

সাধারণত ফুটবলে যেটা হয় নিচের পজিশনে যারা খেলে তাদের দিকে খুব একটা আলো পড়ে না। কিন্তু তার বেলায়  মুদ্রার উল্টোপিঠ। স্টপার পজিশনে খেলেও সমস্ত আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। দলের নেতৃত্ব আর দুর্দান্ত পেশাদারিত্ব দেখিয়ে তিনি রীতিমতো ফুটবল আইকনে পরিণত হয়েছিলেন। আশির দশকের শেষ ভাগ আর নব্বই দশক জুড়ে দেশের ফুটবল ছিল মুন্নাময় এতে কোন সন্দেহ নেই। ১৯৯১ সালে আবাহনী থেকে মুন্না পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ২০ লাখ টাকা। যেটা ওই সময় কেবল বাংলাদেশের কোনও ফুটবলারের রেকর্ড পারিশ্রমিক নয়, উপমহাদেশে এটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হয়তো এখনকার ফুটবলাররা তার রেকর্ড ভেঙেছেন কিন্তু সেই ২০ লাখের আবেদন এখনও রয়েই গেছে। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা ডিফেন্ডার ভাবা হয় রক্ষণ ভাগের এই অতন্দ্র প্রহরীকে।

ঢাকার মাঠে  মুন্নার অভিষেক ১৯৮১ সালে পাইওনিয়ার লীগে পোস্ট অফিস ক্লাবের হয়ে। এরপর শান্তিনগরের হয়ে খেলেছেন দ্বিতীয় বিভাগ। পরের বছর  মুক্তিযুদ্ধা সংসদের হয়ে সাইন করেন। সে বছরই চ্যাম্পিয়ন হয় মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮৬ সালে যোগ দেন ব্রাদার্স ইউনিয়নে। এরপর ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান সবার প্রিয় মোনেম মুন্না। ১৯৮৭ থেকে ক্যারিয়ারের বাকি সময় কাটান আকাশী নীল শিবিরে। এর মাঝে ১৯৯১-৯২ সালে কলকাতার ইস্ট বেঙ্গল এর হয়েও মাতিয়ে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গ। ১৯৯৫ সালের চার জাতীর ফুটবলের শিরোপা আসে মুন্নার হাত ধরেই। ১৯৯৭ সালে  জাতীয় দল থেকে অবসর নেন। অবসরের পরও ছিলেন ফুটবলের সাথেই। এরপর কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০০৫ সালে মৃত্যুর কাছে হার মানেন কিং ব্যাক মুন্না।

দেশের ফুটবলের সেই সোনালি অতীত কিংবা মোনেম মুন্না সবই আজ অতীত। এর মাঝে কত কেউই ত এলো গেলো একজন মোনেম মুন্নার দেখা মিলল না। কিংবদন্তি আপনার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker