জাতীয়টিপসহোমপেজ স্লাইড ছবি

উচ্চশিক্ষা: নিজের প্রোফাইল কীভাবে আকর্ষণীয় করবেন?

রাগিব হাসান: উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী কিন্তু আপনার আন্ডারগ্রাজুয়েটের জিপিএ কম? তাহলে কি সব আশা শেষ? ভর্তি কিংবা ফান্ডিং এর আশা নাই একেবারেই?

নাহ, হতাশ হবার কিছু নাই। আন্ডারগ্রাজুয়েটের জিপিএ অবশ্যই ভর্তির ক্ষেত্রে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় বটে, কিন্তু সেটাই একমাত্র নিয়ামক না, আর কম জিপিএ নিয়েও অনেকে ভর্তি এবং ফান্ডিং পাচ্ছেন। কীভাবে তাঁরা এই কম জিপিএ এর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করছেন? আসুন, দেখা যাক, কী কী জিনিষ আপনার দুর্বল জিপিএকে ঢেকে দিয়ে আপনাকে ভর্তি কমিটির কাছে আকর্ষণীয় শিক্ষার্থী হিসাবে উপস্থাপন করতে পারে।

১) টোফেল/আইএলটিএস ও জিআরই স্কোর: টোফেল এবং আইইএলটিএস পরীক্ষা দুটি ইংরেজি ভাষা জ্ঞানের প্রমাণ। আর জিআরই অনেকটা আপনার ভাষা, গণিত, এবং বিশ্লেষণী জ্ঞানের পরিমাপ। এই পরীক্ষাগুলোতে যদি অসাধারণ ভালো ফল করতে পারেন, তাহলে সেটা অবশ্যই ভর্তি কমিটির নজর কাড়তে সক্ষম হবে। কাজেই ছাত্রাবস্থাতেই এই দুইটি পরীক্ষার পড়া শুরু করে দিন। একবারে ভাল ফল না করতে পারলে আবার দিয়ে স্কোর বাড়াবার চেষ্টা করুন। অনেক বিষয়ে Subject GRE দেয়ার ব্যাপার থাকে, সম্ভব হলে সেটিও দিয়ে দিন।

২) পাবলিকেশন: আপনার কি পাবলিকেশন আছে কোনো জার্নাল বা কনফারেন্সে? আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে কেউ রিসার্চ করছে, ভর্তি কমিটি সেটা সব সময় আশা করে না। কাজেই ভর্তিচ্ছু কেউ যদি একাধিক পেপার স্নাতক পর্যায়েই লিখে ফেলে এবং সেগুলো নামকরা কনফারেন্স বা জার্নালে প্রকাশিত হয়, তাহলে কম জিপিএ এর ব্যাপারটা অনেকাংশেই চাপা পড়ে। পেপার লেখার জন্য আপনাকে গবেষণার কাজে জড়িত হতে হবে। যদি ছাত্রাবস্থাতে সম্ভব হয়, তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কারো সাথে কথা বলে ভলান্টিয়ার হিসাবে তাঁর রিসার্চে জড়িত হন।

৩) কোডিং/সফটওয়ার স্কিল: কোডিং স্কিল কেবল কম্পিউটার প্রকৌশলীদের জন্যই না — বরং সবার জন্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। নন-কম্পিউটার সাবজেক্টেও প্রোগ্রামিং জানা থাকলে নানা ডেটা প্রসেসিং করতে সুবিধা হয়। ডেটা অ্যানালাইসিসের নানা সফটওয়ার যেমন R, SPSS, SAS — এগুলো শিখে নিতে পারেন এবং সিভিতে উল্লেখ করতে পারেন।

৪) বাস্তব জীবনে কর্ম অভিজ্ঞতা: স্টাডি গ্যাপ নিয়ে অনেকে চিন্তিত থাকেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে কর্মক্ষেত্রে যা যা প্রজেক্ট করেছেন, সেগুলোর কথা গুছিয়ে উল্লেখ করুন আপনার সিভি-তে।

৫) প্রফেসরের সাথে রিসার্চ কোলাবরেশন: ভর্তির আবেদনের আগে থেকেই নানা প্রফেসরের সাথে রিসার্চ কোলাবোরেশন শুরুর চেষ্টা করে দিন। শুরুতেই ফান্ডিং বা ভর্তির কথা না বলে প্রফেসরের কোন কাজ করে দেয়ার প্রস্তাব দেন — যেমন ডেটা অ্যানালাইসিস বা এক্সপেরিমেন্ট করা ইত্যাদি। যদি কোন প্রফেসরের সাথে এমন কোলাবোরেশন সীমিত আকারেও করতে পারেন, তাহলে সেটা শুধু সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই না, বরং সব জায়গাতেই ভর্তির ক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইলকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।

বিষয় বা এলাকা পরিবর্তন করতে হলে কী করবেন?

ধরা যাক আপনার আন্ডারগ্রাজুয়েট ডিগ্রি হল “ক” বিষয়ে, কিন্তু আপনি পিএইচডি করতে চান “খ” বিষয়ে। এখানে একটা সমস্যা হবে, খ বিষয়ের নানা বেসিক কোর্স আপনি আন্ডারগ্রাজুয়েটে করেননি। এই ক্ষেত্রে কী করবেন? এই সমস্যা এড়ানোর সহজ উপায় হল প্রথমে খ বিষয়ে মাস্টার্স করে নেয়া। মাস্টার্সের সময়ে কিছু অতিরিক্ত কোর্স নিয়ে হলেও বেসিক কোর্সগুলো শেষ করে নিতে পারেন। এভাবে খ বিষয়ে মাস্টার্স থাকলে সেই বিষয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সময়ে খ বিষয়ে আন্ডারগ্রাড না থাকার সমস্যাটা কিছুটা হলেও এড়ানো যাবে। অনেক সময়ে কোন বিষয়ে কোর কোর্সওয়ার্কের ঘাটতি থাকলে সেই বিষয়ে কন্ডিশনাল বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তি দেয়া হয়। পিএইচডির কোর্সওয়ার্কের সাথে সাথে সেই ঘাটতি থাকা কোর্সগুলো করে নিতে হয়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker