বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

কি আছে নেটওয়ার্কের বাইরে?

হৃদয় সাহা: চার বন্ধুর গল্প, আবির, মুন্না, সিফাত আর রাতুলের বন্ধুত্বের গল্প। পড়াশোনা শেষ করে যে যার মত ব্যক্তিজীবনে বাস্তবিক ভাবে জড়িয়ে পড়বে, তবে তার আগে নিজেদের খুঁজে পেতে আর অনাবিল আনন্দের জন্য ঘুরে আসতে চায় সমুদ্রের ধারে। সমুদ্র স্নানে নিজেদের শুদ্ধ করতে। একদিনের সিদ্ধান্তেই তারা রওনা দেয় সমুদ্রের উদ্দেশ্যে। খুনসুঁটি মাখা পথ পেরিয়ে তারা এক সুন্দর সকালে উপস্থিত হয় সমুদ্রের ধারে। উপভোগ করে সমুদ্রের বিশালতা, এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল সঙ্গে তাদের জীবনের প্রেম, পারিবারিক ক্রাইসিস, জীবন কে ভাবা আর আনন্দ সব সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছিল!

বন্ধুত্বের গল্প সব সময় ই দর্শকদের আগ্রহের শীর্ষে, তরুনদের জন্য হলে তো কথাই নেই। এই উপমহাদেশেই এই ধারার ছবি কাল্ট ক্ল্যাসিক হয়ে আছে, সেখানে মুগ্ধ করাটা কঠিন ই বটে। তবে এই কঠিন কাজ টা নিজের সহজ সুন্দর ছিমছাম চিত্রনাট্যে ভালো লাগার অনুভূতি দিয়েছেন মিজানুর রহমান আরিয়ান ও যোবায়েদ আহসান, দেখা শেষে এক অন্যরকম তৃপ্তি নিয়ে অশ্রুভেজা হাসি দিবেন। চার বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করা সবাই কম বেশি ভালো করেছেন। খায়রুল বাসার বেশ সাবলীল,তার প্রেমে পড়ার অংশটুকু মজা দিয়েছে কিংবা পরিবারের গল্প।

ইয়াশ রোহানের অভিনয় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে, শেষের দিকে তার জন্য খুব মন খারাপ হয়, এখানেও তার সংলাপ প্রক্ষেপণ বরাবরের মত নজর কাড়ে। তবে সেরাটা বোধহয় দিলেন শরিফুল রাজ, প্রথম থেকেই তার অভিনয় প্রতিভা উজ্জ্বল, এই ধরনের চরিত্র তার সঙ্গে খুব ভালো মানিয়ে যায়। শেষের দৃশ্যে তার মুখ অবয়ব আর সংলাপ আমার এখনো চোখে ভাসছে,অনেকদিন মনে থাকবে। সেই তুলনায় জুনায়েদ বোগদাদী কিছুটা পিছিয়ে,তার উপস্থিতি আকর্ষনীয় কিন্তু বাকিদের মত সংলাপ প্রক্ষেপণে সাবলীল নন,আশা করি কাটিয়ে উঠবে।

চার নায়িকার চরিত্রে নাজিফা তুষির গ্ল্যামারস উপস্থিতি,তাসনিয়া ফারিনের স্নিগ্ধতা, অর্ষার প্রানবন্ততা আর তাসনুভা তিশার আকর্ষনীয় উপস্থিতি আরো জমিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে। অন্যান্য অভিনয়শিল্পী নির্বাচনেও ছিল চমক, অনেকদিন পর মানস বন্দ্যোপাধায়- মুনিরা ইউসুফ মেমীর জুটি, মাহমুদ সাজ্জাদ, শামীমা নাজনীন এমনকি শিশুশিল্পী এমেলিয়া দারুণ। অতিথি হিসেবে আছেন তিন নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল, চয়নিকা চৌধুরী ও এস এ হক অলিক। আনন্দ খালেদ ও আছেন। ভালো লেগেছে স্থানীয়দের আঞ্চলিক ভাষার সংলাপের জন্য। অনিন্দ্যসুন্দর সিনেমাটোগ্রাফির জন্য রাজু রাজের জন্য সাধুবাদ দেয়াই যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যতাকে আরো বিশালতায় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন,উনার কাজ ম্লান হলে মুগ্ধতা কমে যেত। সম্পাদনায় সিমিত রায় অন্তরের ছিল ভালো প্রচেষ্টা,ঝুলে যায় নি কোথাও, বেশ ঝকঝকে। গান গুলো অনেকদিন শ্রোতাদের মনে থাকবে।

সোমেশ্বর অলির কথায় সাজিদ সরকারের সঙ্গীতায়োজন দারুন, গান দুইটির মধ্যে ‘রূপকথার জগতে’ গেয়েছেন রেহান রসূল ও অবন্তী সিঁথি, ‘চল বন্ধু চল’-এর কণ্ঠ ইব্রাহিম কামরুল শাফিন। সবশেষে আবার মিজানুর রহমান আরিয়ানের কথা। গল্পটা উনার ই লেখা, একটা সত্য কাহিনী থেকে শুধু মূক নির্যাস টা নিয়েছেন। চিত্রনাট্যের কথা তো আগেই বললাম,সংলাপ গুলোও প্রাঞ্জল।

নিজের প্রথম ওয়েব ফিল্মে নির্মাণের মুন্সিয়ানাটা দারুণ ভাবে করেছেন, সেরা নির্মাণ বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। কিছু দুর্বলতম দিক আছে, এত এত ভালো দিকের মধ্যে সেইগুলো না হয় তোলা রইলো। একটা জিনিস ব্যক্তিগত ভাবে অপছন্দের,তবুও আজকাল থাকে। যদিও এই গল্পে অযথা নয়, সবার জন্য না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নেটওয়ার্কের বাইরে আমার প্রত্যাশা মিটিয়েছে, ভালো লাগা অনুভব হয়েছে মনের মধ্যে আর ভাবিয়েছে। বাংলাদেশের ওয়েব প্লাটফর্মে এই কাজ বিশেষ হয়ে থাক।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker