বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

জর্জিনা হক : দেশের প্রথম নারী ড্রামার!

গৌতম কে শুভ: জর্জিনা হক কে চেনেন তো? বাংলাদেশের প্রথম নারী ড্রামার। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে ‘স্পন্দন’ এর সাথে ড্রামস বাজিয়েছিলেন তিনি। তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ১৬ বছর। ড্রামসের প্রতি তার ভালোবাসা তৈরি হয় ১২ বছর বয়সেই, অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম ব্যান্ড ‘আইওলাইটস (উইন্ডি সাইড অব কেয়ার)’ এর ড্রামার সাব্বির কাদেরের বাজানো দেখে। তখন অবস্থা এমন ছিলো যে রান্না ঘরের বাসনপত্র দিয়েও ড্রামস প্র‍্যাকটিস করতেন।

জর্জিনা হকের ১১ ভাই-বোনের সবাই কমবেশী গান-বাজনার মানুষ। আর এই সম্ভ্রান্ত হক পরিবারের কাছে বাংলা ব্যান্ড মিউজিক খানিকটা হলেও ঋণী, এমনটা বলা যায়। নিচে জর্জিনা হকদের কয়েকজন ভাই-বোনের নামগুলো পড়ুন

* পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় পপস্টার আলমগীর হক এদের মধ্যে সবচেয়ে নাম করেছেন, যিনি স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড ‘আইওলাইটস’ এর প্রথম ভোকালিস্ট।

* বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট নয়ন মুন্সী যিনি আজম খানের উচ্চারণেও বাজাতেন। সম্ভাবনাময় এই মায়েস্ত্রো কানাডায় ২০ বছর বয়সে গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যান।

* স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের প্রথম ব্যান্ড ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভার’ এর ভোকালিস্ট এবং ড্রামার দস্তগীর এদের আরেক ভাই।

* জর্জিনা আন্টিদের তিন বোন মিলে সেসময় গঠন করেছিলেন ‘থ্রি হক সিস্টার্স’। বড়বোন সুলতানা হক ছিলেন ভোকাল এবং রিদম গিটারিস্ট। ছোটোবোন রোকসানা হক বাজাতেন পিয়ানো একরডিয়ান আর মাঝেমাধ্যে গিটারও। রোকসানা হক খুব ভালো তবলা বাজাতেন, সেতারেও ছিলো খুব ভালো দখল।

* আরেক ভাই জামাল মুন্সীও ভালো তবলা বাজান। আলি আকবর খান, রবিশংকরদের বন্ধু-স্নেহধন্য ছিলেন। ৭১ এর কনসার্ট ফর বাংলাদেশ করাতে তারও কিঞ্চিৎ অবদান ছিলো।

জর্জিনা হক অনেকদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরেছেন কিছু বছর আগে। এসে ৪৪ বছর পর স্টেজে উঠে আবার ড্রাম বাজিয়েছেন টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে। এরপর আরও গেয়েছেন-বাজিয়েছেন দুই-একটা স্টেজে, স্পেশালি।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker