চলতি হাওয়াপ্রযুক্তিব্যবসা ও বাণিজ্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

ডিজিটাল মুদ্রা লিব্রা বৃত্তান্ত!

২০১৯ সালে ফেসবুক তাদের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা “লিব্রা” চালুর ঘোষণা দেয়। এই মুদ্রার মাধ্যমে শুধু ফেসবুক একাউন্ট থাকলেই কোন সঞ্চয় কার্ড (ডেবিট কার্ড), ঋণ কার্ড (ক্রেডিট কার্ড) বা ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া সরাসরি পণ্য বা সেবা ক্রয় বিক্রয়, প্রচার এবং আয় করা যাবে। তাছাড়া প্রয়োজন মাফিক লিব্রা ভেঙ্গে টাকা, ডলার বা অন্য যেকোনো মুদ্রায় রুপান্তর করা সম্ভব। এই সকল সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রশাসন লিব্রার এখনও অনুমোদন দেয়নি। লিব্রার অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে এর মজুদ ব্যবস্থা যা ফেসবুককে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী এবং ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানে রুপান্তর করতে পারে।

অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেমন কাগুজে মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ মজুদ রাখতো তারই একটি আধুনিক সংস্করণ অনুসরণ করছে লিব্রা। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার যাক; মনে করেন আপনার হাতের কাগুজে মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সমপরিমাণ স্বর্ণ গচ্ছিত আছে, কিন্তু আপনি কাগুজে মুদ্রা ব্যবহারে এতই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন যে স্বর্ণ হাতে না রেখে বরং টাকা রাখতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেশে যেই পরিমাণ টাকা আছে তার বিপরীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ মজুদ করতে হবে না।

ব্যাংক বিনা মজুদে টাকা ছাপতে পারবে। লিব্রার গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে মার্ক জাকারবার্গের হাতেও এই ক্ষমতা চলে আসবে। অর্থাৎ, নিজের টাকা নিজেই ছাপাতে পারবে। দ্বিতীয়ত, কোন সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে নতুন মুদ্রা বাজারে আসলে মুদ্রানীতির উপরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা কমে যাবে।

আর তাছাড়া কর ফাঁকি দেওয়া, অবৈধ পণ্য ক্রয় বিক্রয় এবং প্রতারণার সুযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন এবং বিশেষজ্ঞরা লিব্রাকে পূর্ণ অনুমোদন দিতে সংকোচ বোধ করছে। অবশ্য ফেসবুক লিব্রার অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং রেকর্ড পরিমাণ অর্থ তদবির বা লবিং এর পেছনে ব্যয় করেছে এবং আমেরিকায় সম্ভব না হলে সুইজারল্যান্ড থেকে চালু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তারা এই অনুমোদন অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে ফেসবুক কতটা ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় তা নির্ভর করছে লিব্রার গ্রহণযোগ্যতার উপর।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker