বই Talk

নিকোলাই গোগলের গল্প

আহমাদ ইশতিয়াক: ফিওদর দস্তয়েভস্কি তাঁর বিশ্বখ্যাত “ওভারকোট” গল্প নিয়ে বলেছিলেন,  “আমরা সবাই গোগলের ওভারকোট থেকেই বের হয়ে এসেছি।” তাঁকে বলা হয় আধুনিক রুশ সাহিত্যের জনক।

“দ্যা নোজ”, দ্যা ওভারকোট, ডায়েরী অব অ্যা  ম্যাড ম্যান,  মিসট্রিয়াস পোট্রেট  এর মতো গল্পের জন্ম তাঁর হাতে। কিংবা বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ  উপন্যাস “ডেড সোল”,  ইভেনিং অন অ্যা ফার্ম নিয়ার দিকানকা”; বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্বক রচনা ” দ্যা  ইন্সপেক্টর জেনারেল” এর মতো মাস্টারক্লাস সাহিত্যের জন্ম তাঁর হাতে। 

ছিলেন ভীষণ পাগলাটে। তাঁর বাবা ছিলেন ইউক্রেনীয়৷ বাবা কবিতা লিখতেন রুশ ভাষায়। ছোটবেলার গোগল ছিলেন সম্পূর্ণ অন্য ধাঁচের৷ মিশুক নন, বন্ধুদের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার শক্তিও ছিলোনা।  দুই তিনজন বন্ধু ছিলো তাঁর। বন্ধুরা ক্ষেপাতো তাঁকে। এক রহস্যের চাদরে মোড়া তিনি। তাঁর মধ্যে এক ধরনের পরিপক্কতার ছাপ তখন থেকেই। স্কুল শেষ করার পর চলে এলেন সেন্ট পিটার্সবার্গে। সঙ্গে জার্মানির বিখ্যাত রোমান্টিক কবিতা সংকলন ‘হান্স কুচেলগার্টেন’। এটিই প্রকাশ করলেন গাঁটের টাকা খরচ করে। 

এবার সেই কবিতার বই পত্রিকা অফিসে বিলি করলেন।  কিন্তু প্রায় সব পত্রিকা অফিসে প্রচন্ড সমালোচনা ও ভয়ংকর বাজে প্রতিক্রিয়া ছাপানো হয়। অনেকে লিখেছেন এগুলো কোন কবিতাই নয়৷ কবিতার জাতের মধ্যেই পড়েনা এগুলো। কবিতা লিখতে জানেন না লিখেন কেন?  রাগে গা কাঁপতে লাগলো গোগলের। বইয়ের দোকান থেকে নিজের কবিতার সব বই কিনে তিনি নষ্ট করে ফেলেন এবং প্রতিজ্ঞা করেন আর  জীবনে কোনো দিন কবিতা লিখবেন না। 

তবে সাহিত্যিকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নষ্ট হয়নি কখনোই। তখন তিনি অনুভব করেন তাঁর পরিধি বাড়ানোর। বহু বিখ্যাত সাহিত্যিদের সাথে তাঁর পরিচয় হয় তখন। আন্তন দেলভিগের ‘নর্দার্ন ফ্লাওয়ার্স’ পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ছাপা হয়। এই লেখার পরই কিংবদন্তি দুই সাহিত্যিক ভাসিলি ঝুকোফস্কি ও  পিওতর প্লেতনিয়ভ তাঁর লেখা নিয়ে প্রশংসা করেন এবং উপদেশ দেন।

ক বছরের মধ্যে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক পুশকিনের। দস্তয়ভস্কির ‘পুওর  হাউস’ এবং ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’-এর মতো মাস্টারক্লাস উপন্যাসে গোগলের কথা উল্লেখ আছে। আজ পর্যন্ত গোগলের লেখা গল্প ও উপন্যাসের উপর নির্মিত হয়েছে প্রায় ১৫০ চলচ্চিত্র৷ নিকোলাই গোগলের মৃত্যুটা খুবই করুণ৷ ১৮৫২ সালের ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি রাতে গোগল তাঁর কয়েকটি পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন। এরমধ্যে আছে তাঁর লেখা  সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস ডেড সোল এর দ্বিতীয় খন্ড!  যা গোগল নিজ হাতে পুড়িয়ে ফেলেন

কেন৷ পুড়িয়েছিলেন? তিনি বলেছিলেন, শয়তান তাঁর সাথে৷ বাজে আচরণ করছে৷ তাঁকে অনুসরণ করছে প্রতিনিয়ত। এর কয়েকদিন পরেই তিনি বিছানায় পড়ে ছিলেন।  খাওয়াদাওয়া সব বাদ। বহু চেষ্টা করেও কেউ তাঁকে খাওয়াতে পারতোনা। ৯ দিনের মাথায় ঢলে পড়েন তিনি চির প্রশান্তির ঘুমে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker