বাক্যসাহিত্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

ফ্রিদা কাহলো’র ও দিয়াগো রিভেরার প্রেমের গল্প

মিরাজুল ইসলাম: ফ্রিদা কাহলো’র সাথে দিয়াগো রিভেরার প্রথম যখন চোখাচোখি হলো ফ্রিদা তখন বারো বছরের বালিকা। ছেলেবেলা থেকেই কিংবদন্তী ম্যুরাল শিল্পী রিভেরা’র ভক্ত ফ্রিদা। সারা মেক্সিকো যাকে এক নামে চেনে। ন্যাশনাল প্রিপেরেটোরি স্কুলের অডিটোরিয়ামে রিভেরা ম্যুরাল পেইন্টিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এক রাতে দলবল সাথে করে স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে বালিকা ফ্রিদা তাঁর কাজ দেখতে এসেছিলেন। বাড়ন্ত শরীরের মেয়েটি সরাসরি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলো, ‘আমি যদি আপনার কাজ করা দেখি তবে কি বিরক্ত হবেন?’ ‘না ইয়াং লেডি। আমার ভালোই লাগবে।’ এরপর তিন ঘন্টা রিভেরার ছবি আঁকা দেখলেন ফ্রিদা। তারপর যাবার সময় ছোট্ট করে বললেন, ‘গুড নাইট..’।

তখনো রিভেরা টের পান নি এই মেয়েটি ভবিষ্যতে তাঁর বউ হবেন। এরপর ফ্রিদা যখন দ্বিতীয়বার দেখা করলেন দিয়াগো রিভেরার সাথে, তাঁর বয়স তখন আঠারো। সেই সময় রিভেরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে ম্যুরাল আঁকছিলেন। চটপটে ফ্রিদা তাঁকে বলেছিলেন, ‘দিয়াগো একটু নেমে আসবেন নীচে? আপনার সাথে আমার গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।’ ‘কি ব্যাপার?’ ‘আমার আঁকা কয়েকটি পেইন্টিং এনেছি। সেগুলো দেখে সত্যি করে বলতে হবে আমি কি জীবিকার জন্য আঁকাআঁকি চালিয়ে যাবো নাকি অন্য কিছু করবো?’ এরপর দিয়াগো আগ্রহের সাথে ফ্রিদার তিনটি কাজ খুঁটিয়ে দেখলেন। একই সাথে দেখলেন সেই তরুণীর পরিণত সৌন্দর্য। দুটোই দিয়াগোর দারুন পছন্দ হলো। শিল্পী ও শিল্প দুটোকেই ভালোবেসে ফেললেন তিনি। ফ্রিদা বাকী কাজগুলো দেখার জন্য রিভেরাকে আমন্ত্রণ জানালেন তাঁর বাসার ঠিকানায়।

‘কোয়াকান, অ্যাভেনিডা লণ্ড্রেস, ১২৬’.. পরের রোববার রিভেরা পৌঁছে গেলেন ফ্রিদার ঠিকানায়। তাঁর অন্যান্য কাজগুলো দেখে মুগ্ধ হলেন। আরো আঁকতে উৎসাহ দিলেন। ফ্রিদার বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়ার ফাঁকে অসম বয়সের পার্থক্য ভুলে প্রথমবারের মতো ফ্রিদাকে চুমু খেলেন। তাঁদের শরীর বিনিময় হয়ে উঠলো অনিবার্য। ফ্রিদার পিতা ডন গুইলার্মো বুঝতে পারলেন সবকিছু। সরাসরি জিজ্ঞাসা করলেন রিভেরা’কে, ‘আমি লক্ষ্য করছি তুমি আমার মেয়েকে বেশী সময় দিচ্ছো, তাই না?’ ‘জ্বী’, রিভেরা সরাসরি স্বীকার করলেন। ‘তা নাহলে এই এতো দূরে কি আমি তাকে দেখতে আসি?’ ‘সে কিন্তু সাক্ষাৎ শয়তান,’ ডন রসিকতা করলেন। ‘তা আমি জানি।’ ‘জানলে ভালো, তাও তোমাকে সাবধান করে দিলাম।’ ফ্রিদার পিতা মুচকি হেসে চলে গেলেন। এই আলাপের কিছুদিন পর ফ্রিদা-রিভেরার বিয়ে সম্পন্ন হলো আনুষ্ঠানিকভাবে। এই দুই শিল্পীর বিবাহ বহির্ভূত প্রেম এবং দাম্পত্য ভালোবাসা ও একই সাথে শিল্পের জন্য টানাপড়েনের সংসার জীবনের গল্প অল্প বিস্তর সবাই জানেন।

আমার ধারনা, মানুষ ও শিল্পী হিসেবে ফ্রিদাকে চিনতে হলে দিয়াগো রিভেরা’কেও জানা সবচেয়ে জরুরী। সময়ের স্রোতে ভেসে একজন সাধারণ ফ্রিদা কিভাবে কিংবদন্তী শিল্পী ফ্রিদা কাহলো’তে রূপান্তরিত হলেন, তার অন্তর্গত গল্পগুলো রিভেরা ছাড়া কেউ ভালো জানে না।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker