বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

ববিতা : রুপালি পর্দার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র

ববিতা সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ৭০ ও ৮০-র দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। ববিতার আসল নাম “ফরিদা আখতার” আর ডাক নাম পপি। পৈতৃক বাড়ি যশোরে। ববিতার পরিবার একসময় বাগেরহাট থেকে পুরো পরিবার চলে আসে ঢাকার গেন্ডারিয়াতে। তাঁর মা ডাক্তার হওয়ায় ববিতা চেয়েছিলেন ডাক্তার হতে।

জহির রায়হান প্রযোজিত সিনে ওয়ার্কশপের ব্যানারে নির্মিত ‘সংসার’ নামক ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে আগমন ১৯৬৮ সালে। এই ছবিতে তিনি রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। তার প্রাথমিক নাম ছিল সিনেমার জন্য সুবর্ণা। ১৯৬৯ সালে ‘শেষ পর্যন্ত’ সিনেমাতে অভিনয় করেন তিনি প্রথম নায়িকা চরিত্রে। তার কর্মজীবনের শুরুতে ভগ্নিপতি জহির রায়হানের পথ প্রদর্শনে চললেও পরে তিনি একাই পথ চলেছেন। ৭০-এর দশকে শুধুমাত্র অভিনয় দিয়ে তিনি ঐ দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

গ্রামীণ,শহুরে চরিত্র কিংবা সামাজিক অ্যাকশন অথবা পোশাকী সব ধরনের ছবিতেই তিনি সাবলীলভাবে অভিনয় করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি ফ্যাশনের ক্ষেত্রে শহরের মেয়েদের ভীষণ প্রভাবিত করেন। নগরজীবনের আভিজাত্য তার অভিনয়ে ধরা পড়েছিল। সত্তর দশকের প্রথমার্ধে রুচিশীল সামাজিক সিনেমা মানেই ছিল ববিতা। ‘টাকা আনা পাই’ সিনেমাটা ছিল তাঁর জন্য টার্নিং পয়েন্ট যা পরিচালনা করেছিলেন জহির রায়হান।

এরপর তিনি নজরুল ইসলামের ‘স্বরলিপি’ সিনেমাতে অভিনয় করেন যা ছিল সুপারহিট সিনেমা। ববিতা পরপর তিন বছর টানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন। সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত ছবিতে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফ্লিম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান। এছাড়াও সরকারী ও বেসরকারী অসংখ্য পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এজন্য তাঁকে ‘পুরস্কার কন্যা’ বলা হত। ববিতা। তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সবচেয়ে বেশিবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker