টেক টকট্রেন্ডিং খবরপ্রযুক্তিহোমপেজ স্লাইড ছবি

ব্লকচেইন প্রযুক্তি : কি? কেন? কিভাবে?

রায়হান আতাহার: ব্লকচেইন টেকনোলজি সম্পর্কে মানুষ প্রথম আগ্রহী হয় ২০০৮ সালে, যখন Satoshi Nakamoto নামের একজন জাপানি উদ্ভাবক বিটকয়েনের লেনদেনের বিষয়টি নিরাপদ করার জন্য এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। ‘ব্লকচেইন’ শব্দটি দুইটি শব্দের সমন্বয়ে তৈরি- ‘ব্লক’ এবং ‘চেইন’। এ থেকে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া যায় যে, ব্লকচেইন হল ব্লক দিয়ে তৈরি চেইন বা ব্লকের চেইন। অর্থাৎ, অনেকগুলো ব্লককে একটির সাথে আরেকটি জোড়া দেওয়ার মাধ্যমে ব্লকচেইন তৈরি করা যায়।

যে ব্লকগুলোর দ্বারা এই চেইনটি তৈরি করা হয় সেই ব্লকগুলো মূলত ইনফরমেশন বা তথ্য স্টোর করে। যেহেতু ব্লকগুলো একটি আরেকটির সাথে চেইনের মাধ্যমে সংযুক্ত, তাই এর কোন পরিবর্তন করতে গেলে তা সহজে ধরা পড়ে যায়। অর্থাৎ, ব্লকচেইন টেকনোলজির মাধ্যমে ডেটা বা তথ্যের নিরাপত্তা বিধান করা যায়। এবার একটু ডিটেইলসে যাই। ব্লকচেইন হচ্ছে আসলে একটি ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার (অফিস আদালতের লেজারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে), যা সকলের জন্য উন্মুক্ত।

ব্লকচেইনের ব্লকগুলোর মধ্যে যখন একটি ডেটা ইনপুট দেয়া হয়, তখন ওই ডেটাটিকে ডিলিট করা বা ডেটাটির কোন ধরনের পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, সম্পূর্ণ ব্লকচেইনের প্রত্যেকটি ব্লকে মূলত তিনটি জিনিস থাকে- ডেটা, হ্যাশ এবং চেইনে তার আগের ব্লকটির হ্যাশ। অর্থাৎ, ব্লকচেইনের থাকা প্রত্যেকটি ব্লকে থাকে সেই ব্লকটির নিজস্ব ডেটা, ব্লকটির নিজের হ্যাশ এবং ঠিক তার পেছনে যুক্ত থাকা আগের ব্লকটির হ্যাশ। ডেটাতো সবাই বুঝি। তাই ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না।

হ্যাশ হচ্ছে মূলত একটি আইডেন্টিফায়ার। প্রত্যেকটি ব্লকের জন্য একটি হ্যাশ সুনির্দিষ্ট। দুটি ব্লকের হ্যাশ কখনোই একই হতে পারবে না। এই বিষয়টি অনেকটা মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মত। দুটি মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট যেমন কখনো এক হতে পারে না, তেমনি দুটি ব্লকের হ্যাশও কখনো এক হবে না। এই হ্যাশগুলো জেনারেট হয় প্রত্যেকটি ব্লকের স্টোর করা ডেটা অনুযায়ী। যার মানে, একটি ব্লকের ডেটা যদি পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ওই ব্লকটির হ্যাশও চেঞ্জ হয়ে যাবে। যেহেতু প্রত্যেকটি ব্লকে তার আগের ব্লকের হ্যাশও থাকে, তাই ব্লকচেইনে ইন্টার করা প্রত্যেকটি ডেটা ডিলিট করা বা চেঞ্জ করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, এক্ষেত্রে কেউ যদি একটি ব্লকে থাকা ডেটা চেঞ্জ কর‍তে চায়, তাহলে তাকে ওই ব্লকটির সাথে তার আগের সবগুলো ব্লকের ডেটা পরিবর্তন করতে হবে, যা আদতে অসম্ভব।

এখন পর্যন্ত এই ব্লকচেইন কেউ ভাঙতে পারেনি। ক্রিপ্টোকারেন্সি কিংবা বিটকয়েন দিয়ে ব্লকচেইন টেকনোলজির ব্যবহার শুরু হলেও আজ সারাবিশ্বে এর ব্যবহার বেড়ে চলেছে। ব্যাংকিং, শেয়ার মার্কেটে লেনদেন, কপিরাইট প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্লকচেইনের ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে৷ তাই বলা যায়, ব্লকচেইন টেকনোলজি আমাদের বর্তমান বিশ্বের জন্য আসলেই একটি রেভ্যুলেশন। বিকল্প কোন টেকনোলজি আবিষ্কার না হলে কিংবা ব্লকচেইনের কোন দুর্বলতা ধরা না পড়লে, সামনের দিনগুলোতে সারাবিশ্ব এই টেকনোলজির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হবে বলে ধরে নেয়া যায়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker