বিনোদন

মনপুরা’র কারিগরের গল্প

হৃদয় সাহা: ২০০৯ সাল, ফেব্রুয়ারি মাস। বাংলা চলচ্চিত্র থেকে নানা কারনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল মধ্যবিত্ত শ্রেনীর দর্শকরা। এমন সময় মুক্তি পেলো গ্রাম- বাংলার আবহমানের প্রেমের গল্প ‘মনপুরা’। যাও পাখি বলো তারে, নিধুয়া পাথারে গানের মাঝেও দর্শকরা বিমোহিত হয়েছিল সোনাই- পরীর প্রেমে। এই ছবির সাফল্যই বলে ছিল ছবির প্রাণ এর গল্প,আর ঠিকঠাক প্রচারণা। গল্প, অভিনয়, সংগীত, নির্মাণশৈলীর যথাযথ ব্যবহারে ‘মনপুরা’ হয়ে উঠল জনপ্রিয় চলচ্চিত্র।

ছবিটি সর্বস্তরের জনগণ এতটাই গ্রহণ করলো যে,ছবিটি গত দুই দশকের সর্বোচ্চ ব্যবসা সফল ছবি ত বটেই, নাম লিখালো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল ছবির তালিকায়। সংগীতের জনপ্রিয়তায় ছিল একটা মাইলফলক, ‘যাও পাখি বলো তারে’ গানটি নি:সন্দেহে জায়গা করে নিয়ে স্মরণকালের জনপ্রিয় গানের তালিকায়। ছবির এলব্যামের সফলতা ছিল অকল্পনীয়। শুধু ব্যবসা সফল নয় পুরস্কারের আসরেও ছবিটি ছিল আলোচিত। সেরা চলচ্চিত্র,অভিনেতা সহ মোট ৬ টি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করার পাশাপাশি বেসরকারী পুরস্কারের আসরেও বাজিমাত করেছিলো এই ছবিটি।

বাংলা চলচ্চিত্রের এই মাইলফলক ছবিটির পিছনে যিনি কান্ডারী ছিলেন, যার নির্দেশনায় দর্শকরা পেয়েছিল আবহমানের স্বাদ। তিনি জননন্দিত পরিচালক ‘গিয়াসউদ্দিন সেলিম’। ছাত্রবস্থায় যুক্ত হন থিয়েটারের সঙ্গে, সেইখান থেকে নব্বইয়ের দশকে যুক্ত হন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়, বেশকিছু বিজ্ঞাপন তৈরি করেন, শুরুটা নাট্যকার হয়েই। তাঁর লিখা প্রথম নাটক ‘পৌনঃপুনিক’, প্রথম পরিচালনা করেন ‘বিপ্রতীপ’। যা ছিল তখনকার বেশ আলোচিত নাটক। একুশে টিভিতে তখন তাঁর বেশ কয়েকটি নাটক প্রচার হয়েছিল এর মধ্যে পাপ- পূণ্য ,হাউজওয়াইফ অন্যতম। বিটিভির জন্য নির্মাণ করেন জনসচেতনতা মূলক নাটক ‘এনেছি সূর্যের হাসি’। জয়া আহসানের বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকার পিছনে এই নাটকটি হচ্ছে অন্যতম কারণ।

এছাড়া তাঁর রচনা ও পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে স্বপ্নসিঁড়ি, ভয়, সহোদরা, দোকানীর বউ অন্যতম। এই সময়ের নন্দিত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর প্রতিভার বিকাশ তিনিই করেছিলেন। বর্তমানে অবশ্য নাটক নির্মাণ থেকে দূরে আছেন। চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত কাহিনীকার হিসেবেই, তেভাগা আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ছবি ‘আধিয়ার’ এর রচয়িতা তিনি, ছবিটি বেশ প্রশংসিত ও পুরস্কার লাভ করে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছবি ‘মনপুরা’ হচ্ছে তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি। কাহিনীকার(আধিয়ার) ও সেরা চিত্রনাট্যকার(মনপুরা) বিভাগে দুইবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।

প্রথম ছবির সাফল্যে যেইখানে তাঁর ছবি নির্মাণে নিয়মিত থাকার কথা, সেইখানে ঘটেছে উল্টো, যেটা হতাশাজনক। মাঝে ‘কাজলরেখা’ নির্মার্ণের প্রস্তুতি নিলেও, এটা স্থগিত আছে। প্রায় নয় বছর বিরতি দিয়ে আবার এসেছিলেন ‘স্বপ্নজাল’ ছবিটি নিয়ে,পরিমনির ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সেরা ছবি,পেয়েছিলাম নতুন তারকা ইয়াশ রোহান। সামনেই আসছে তারকাবহুল ছবি ‘পাপ পূর্ণ্য’,চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে আবার অনেকদিন পর সিনেমা করছেন, আরো আছে সিয়াম, আফসানা মিমি, শাহনাজ সুমি।

আশার কথা হলো, স্থগিত হয়ে যাওয়া কাজলরেখার জন্য এইবার সরকারী অনুদান পেয়েছেন, আলোর মুখ দেখবে ছবিটি। আজ এই নির্মাতার জন্মদিন। শুভ জন্মদিন! গিয়াসউদ্দিন সেলিম।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker