চলতি হাওয়াজাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় এক গেরিলা যোদ্ধা

শাফী ইমাম রুমী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন গেরিলা যোদ্ধা। তিনি ছিলেন ‘শহিদ জননী’ খ্যাত জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র৷ শহিদ রুমী অত্যন্ত সাহসী ও বীর একজন যোদ্ধা ৷ তিনি সেক্টর-২ এর সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও রশিদ হায়দারের অধীনে মেলাঘরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি ঢাকায় ফেরত আসেন এবং ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দেন।

ক্র্যাক প্লাটুন হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একটি সংগঠন। রুমী ও তাঁর দলের ঢাকায় আসার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন হামলা করা। এ সময় তাঁকে ঝুঁকিপূর্ণ আক্রমণ পরিচালনা করতে হয় যার মধ্যে ধানমন্ডি রোডের একটি আক্রমণ ছিলো উল্লেখযোগ্য। অসংখ্য পাকবাহিনীর ধ্বংস করা ধানমন্ডি রোডের অপারেশন সংঘটিত করার পর শহিদ রুমী জনপ্রিয় ও বীর যোদ্ধা হয়ে উঠেন৷

একাত্তরের ২৯ আগস্ট তিনি তাঁর নিজের বাড়িতে কাটান, এবং এই রাতেই বেশকিছু গেরিলা যোদ্ধাকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে যান ৷ যার মধ্যে ছিলেন বদি, চুন্নু, আজাদ, জুয়েল এবং সুরকার আলতাফ মাহমুদও প্রমুখ । পাকবাহিনী তাকে অকথ্য নির্যাতনের সাথে তাকে স্বীকারোক্তিতে বাদ্য করলেও তাঁদের কর্মকান্ড সম্পর্কে কোনো কথা স্বীকার করে না রুম৷ যার ফলে ৩০শে আগস্টের পর রুমী ও তাঁর সহযোদ্ধা বদী ও চুন্নুকে আর দেখা যায়নি। পাকবাহিনীর নৃশংসতায় শহিদ হতে হয় তাকে৷

আজ এই বীর গেরিলা যোদ্ধার জন্মবার্ষিকী ৷ শহিদ শাফী ইমাম রুমী ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের এইদিনে, শরীফ ও জাহানারা ইমামের প্রথম সন্তান পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে জানাই অন্তর্লীন শ্রদ্ধার্ঘ্য ও স্যালুট৷

  • রকি সরকার

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker