বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

সংগীত জগতের অনন্য এক মহাতারকা মাইকেল জ্যাকসন

শুধু তাঁর জীবনের উপর অনুপ্রাণিত নির্মিত হয়েছে ৪০টিরও বেশী চলচ্চিত্র।

পৃথিবীতে সংগীতের জনপ্রিয়তায় তাঁর ধারে কাছেও কেউ যেতে পারেন নি। তিনি অনন্য, যেন মানুষের স্পন্দনটা বুঝতে পারতেন। রেল স্টেশনের কুলি থেকে দেশের প্রেসিডেন্ট, মুচি থেকে রাজা সর্বত্রই তিনি একক। যে জীবনে গানও শুনেনি তিনিও জানেন কে তিনি।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সবাই একসঙ্গে ব্রাউজ করায় ওয়েব ট্রাফিকে পড়ে অস্বাভাবিক চাপ। অপ্রত্যাশিত এত ব্যবহারকারী দেখে গুগল ধরেই নেয় তাদের সার্চ ইঞ্জিনে কেউ সাইবার হামলা চালিয়েছে। ইউটিউব, উইকিপিডিয়া সহ অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের সার্ভার ক্র্যাশ করে।

“Michael Jackson” শব্দটি এত বেশি(মিলিয়ন মিলিয়ন) ইনপুট হবার কারনে তারা ভেবেই বসে DDoS Virus এ তাদের সার্চ ইঞ্জিন আক্রান্ত হয়েছে যার ফলে তারা প্রায় ৩০ মিনিট গুগল বন্ধ রাখে। উইকিপিডিয়া তে ১ ঘন্টার মধ্যে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ মাইকেলের বায়োগ্রাফি দেখে, আর এই চাপ উইকিপিডিয়ালোড নিতে সক্ষম না হওয়াতে ক্র্যাশ করে।

তখন প্রতি মিনিটে ৬ হাজারের বেশি টুইটের চাপ নিতে পারেনি সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম টুইটার। ৪০ মিনিট টুইটার ছিলো ক্র্যাশড অবস্থায়। তাঁর শেষ কৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠান পৃথিবীর ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ সরাসরি টেলিভিশন ও অনলাইনে দেখেছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী তিনি। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বহুল বিক্রি হয়েছে তাঁর অ্যালবাম! কেবল আজ অব্দি তাঁর অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে ২ হাজার মিলিয়নের বেশী!

ইন্ডিয়ানার গ্যারিতে এক বর্ধিষ্ণু কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারে মাইকেল জ্যাকসনের জন্ম। দারিদ্রপীড়িত পরিবারটির কর্তা ও মাইকেলের বাবা জোসেফ ওয়াল্টার জ্যাকসন তার ছেলেদের সঙ্গীত প্রতিভা নিয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন। ছেলেদের দিয়ে গানের দল বানিয়ে আয়ের পথও বের করে ফেলেন তিনি।

পাঁচ ভাইকে নিয়ে গড়া সেই ব্যান্ডের নাম ‘জ্যাকসন ফাইভ’, সর্বকনিষ্ঠ মাইকেল সেই দলের প্রাণভোমরা। ধীরে ধীরে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল। সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মাইকেল আলোচনায় আসেন এই ব্যান্ডের কারণেই। বড় ভাইদের সাথে মঞ্চে তার সরব উপস্থিতি দর্শকদের অভিভূত করে। কে জানতো এই বিস্ময় বালক একদিন পৃথিবীতে সঙ্গীতের জগতে রাজত্ব করবেন!

আশির দশকে ১৪ মিনিটের থ্রিলার ভিডিও তৈরি করতে খরচ হয়েছিল তখনকার সময়ের পাঁচ কোটি ডলার। ইউএস বিলবোর্ড চার্টে টানা ৩৭ সপ্তাহ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল অ্যালবামটি। সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবামের রেকর্ডও গড়েছে ‘থ্রিলার’। বিশ্বব্যাপী অ্যালবামটির ৫০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে

একইসঙ্গে সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, গান লেখক,অভিনেতা তিনি। শিক্ষা চিকিৎসার প্রয়োজনে পৃথিবীজুড়ে চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে দান করছেন ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশী।

২০০৯ সালের আজকের দিনে চলে গিয়েছিলেন
পপ কিং দ্যা মাইকেল জ্যাকসন। আজ মাইকেল জ্যাকসনের প্রয়াণ দিবস। বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker