বাক্য
যেভাবে আঁকা হয়েছিলো চিত্রকর্ম ‘গুয়ের্নিকা’

ওয়ারিদ আহমেদ তরিন: ৭০০ বছরের প্রাচীন শহর গুয়ের্নিকা। স্পেনে ১৯৩৬ সালের জুলাই থেকে ১৯৩৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় তিন বছর এক গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। ২ পক্ষের ক্ষমতা নিয়ে নিজ দেশ দখলের লড়াই। একদিকে রিপাবলিকানরা ভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষ নিয়েছিল আর অন্য দিকে জাতীয়তাবাদীরা ছিল এর বিরুদ্ধে। জাতি তখন ২ ভাগে বিভক্ত ছিল। সেসময় শিল্পী পাবলো পিকাসোর সমর্থনও ছিল রিপাবলিকানদের পক্ষে।
জাতীয়তাবাদীদের পক্ষ নিয়ে জার্মান ও ইতালির ফ্যাসিস্ট বিমানবাহিনী গুয়ের্নিকা শহরে বিমান হামলা চালায়। মারা যায় শত শত বেসামরিক নাগরিক। আহত ও পঙ্গু হয়ে যায় অসংখ্য মানুষ। ১৯৩৭ সালে ফ্রান্সে যখন আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘প্যারিস ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজিশন’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, স্পেন তখন গৃহযুদ্ধের মধ্যে। স্পেনের পক্ষ থেকে একটি ম্যুরাল তৈরি করে সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য দেশটির প্রজাতন্ত্রী সরকার দায়িত্ব দিয়েছিল পিকাসোকে।
২৬ এপ্রিলের গুয়ের্নিকায় ভয়ংকর বিমান হামলার নিউজ দ্য টাইমস ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হলে পিকাসো দেখে থমকে যান। প্যারিস প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি যে ম্যুরাল আঁকার পরিকল্পনা করেছিলেন, তা সঙ্গে সঙ্গে বাদ দেন। প্রদর্শনীর তখন মাত্র মাস খানেক বাকি। তাঁর মাথায় ঘুরছে গুয়ের্নিকার ভয়াবহ ঘটনা। মে মাসের ১ তারিখ, তিনি এই বিষয় নিয়ে একটি পেইন্টিংয়ের স্কেচ করা শুরু করেন। এভাবেই জন্ম নেয় পৃথিবীর বিখ্যাত ছবি ‘গুয়ের্নিকা’।
পিকাসোর সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি। মানুষ ও প্রাণীর আর্তনাদ, দুর্দশা আর হাহাকারের ছবি গুয়ের্নিকা। যেখানে সহিংসতায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে বাড়িঘর। মনোযোগ দিয়ে দেখলে এ ছবিতে নারী, মৃত শিশু, ষাঁড়, ঘোড়া, মানুষের মাথার খুলি, মৃত যোদ্ধা, তরবারি, নির্যাতনকেন্দ্র! যুদ্ধবিরোধী ছবি হিসেবে দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি পেয়ে যায় গুয়ের্নিকা।



