বিনোদনসিনেমা ও টেলিভিশনহোমপেজ স্লাইড ছবি
রিয়েল লাইফ ইন্সপায়ার্ড : মরীচিকা’র হাত ধরে এগিয়ে

সাইদুর বিপু: গত কয়েক বছর ধরে আমাদের উপমহাদেশের বেশিরভাগ চলচিত্র/ফিকশনাল ডকুমেন্টারি/ শর্ট ফিল্ম এখন একটা বিশেষ বেইজের উপরই নির্ভর করছে। সেটা হলো বায়োপিক কিংবা রিয়েল লাইফ ইন্সপায়ার্ড থেকে ফিকশনাল ভিজ্যুয়াল বানানো। কন্টেন্টের বিচারে সেইফ গেম আবার প্রযোজকের পকেটও বেশ ভালোভাবেই ভরে যায়। দুইয়ে দুইয়ে চার হওয়ার কারণে কয়েক বছর ধরেই সোনার ডিম পাড়া হাঁস হয়ে আছে এই রিয়েল লাইফ ইন্সপায়ার্ড কন্টেন্ট।
আমাদের দেশেও হওয়া শুরু হয়েছে অল্প বিস্তর। তবে ফুল ফর্মে না। অথচ আমাদের দেশে কন্টেন্টের অভাব কোনোদিনই ছিলো না। যতটা কন্টেন্ট আছে তার তুলনায় বানানোর তুলনা আসলে সেটা সামান্যই উত্তর আসে। পরিচালক শিহাব শাহীন এর আগে ১৪ই আগস্ট বানিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। সেটাও রিয়েল লাইফ ইন্সপায়ার্ড ছিলো। তখনই হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন আমাদের দেশের দর্শকরাও ভালো কাজ পেলে লুফে নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নিয়ে আসছেন “মরীচিকা’।
মরীচিকা’র গল্প আমাদের দেশের এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল তিন্নি হত্যা রহস্য নিয়েই তৈরি হয়েছে বলে বোঝা গিয়েছে ট্রেলার দেখে। যদি নির্মাতা থেকে কোন রুপ স্বীকারোক্তি বা কোনো কিছুই আসেনি। তবে সাধারণ দর্শক হিসেবে এইটুকু বুঝতে পারা তো আর অসাধ্য সাধন করা নয়! ট্রেলারে বলা গল্প সেটাই ইঙ্গিত দেয় আরকি।
সিনেমায় আছেন আফরান নিশো, সিয়াম আহমেদ, মাহিয়া মাহি আর জোভান। প্রত্যেকেই যার যার কাজের ক্ষেত্রে পরীক্ষিত। একসাথে চার জন্য তারকার নিয়ে বিশাল ক্যানভাসে সিনেমা বানানোর কাজটা শিহাব শাহীন ভালোই পারেন। সিনেমার নিশো গ্রে শেডের ক্যারেক্টারের ঝলক ইতিমধ্যেই দর্শক মহলে দারুন সাড়া পেয়েছে। গ্ল্যামার গার্ল যেহেতু প্রয়োজন সেখানে মাহিয়া মাহি ভালো চয়েজ বলেই আমার বিশ্বাস। আশারাখি তিনি আস্থা রাখবেন। জোভান যে এই সিনেমার তুরুপের তাস হিসেবে থাকবে সেটা বলা যায়। এমনকি সে’ই সিনেমার টার্নিং পয়েন্ট গুলোতে থাকবে।
তবে অবাক লাগছে সিয়াম-এর এমন গোবেচারা পুলিশের অভিনয়ের চরিত্র দেখে। সিয়াম কে দেখে আমার পাতাল লোকের জয়দ্বীপ আহ্লাওয়াত এর কথা মনে পরে গেলো। যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চায় ভালো কিছু করতে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে পুলিশ হিসেবে সিনেমা হয় সুপারকপ কিংবা সিনেমার শেষ “হ্যান্ডস আপ’ বলা ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে সেভাবে দেখায় হয়নি। সিয়াম এর এই প্রথা ভাঙ্গার খেলা কে স্বাগত জানাই। কন্টেন্ট আসবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “চরকি’ তে। কেমন কাজ হয়েছে সেটা দেখার পর বলা যায়। সিনেমার সবগুলো সূতো গাঁথা হয়েছে কি না ঠিক ভাবে? নাকি বরাবরের মতোই মূলা ঝুলানোর কাজ হবে, সেটা কাজ আসুক তারপর বিচার করি।



