জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি
লরেন্স অব এরাবিয়া : মুক্তিদাতার ছদ্মবেশে এক ব্রিটিশ মাস্টার স্পাই

আহমেদ রফিক: বিখ্যাত ব্রিটিশ চলচ্চিত্রকার ডেভিড লীন পরিচালিত লরেন্স অব অ্যারাবিয়া মুভিটি অনেকেই দেখেছেন। ঐ ছবিতে লরেন্সকে আরব জাতীয়তাবাদের এক মহান বীর হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
পাশ্চাত্য শক্তিগুলি সবসময় সচেষ্ট ছিল মুসলিমদের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সামরিক শক্তি ওসমানী খেলাফতকে দুর্বল করতে। বিশেষ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানিদের সাথে তুর্কিদের ঘনিষ্ঠতায় ব্রিটিশরা চিন্তিত হয়ে পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে মক্কা-মদিনা তুর্কি খেলাফতের অধীনে থাকায় মুসলিমদের ভেতর তাদের প্রভাব ছিল সর্বোচ্চ। চতুর ব্রিটিশরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তুর্কি প্রভাব শেষ করে দিতে আরব জাতীয়তাবাদ উস্কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রিটিশরা টমাস এডওয়ার্ড লরেন্স নামে এক ব্রিটিশ স্পাইকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রেরণ করে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূপ্রকৃতি , রাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে লরেন্সের ভালো ধারণা থাকায় তিনি খুব সহজেই স্থানীয়দের সাথে মিশে যান।
ছবিতে বিস্তারিত ভাবে দেখানো হয়েছে কিভাবে তিনি স্থানীয় ছোট ছোট শক্তিগুলিকে তুর্কিদের বিরুদ্ধে উস্কে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের বিতাড়িত করেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো ওই ঘটনার পর লরেন্স কিছুদিন ভারত বর্ষ ও আফগানিস্তানেও ব্রিটিশ সেনাবাহিনী হয়ে কাজ করেন।
ভূ-প্রাকৃতিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত কৌশলগত অবস্থানে থাকা আফগানিস্তান দখলের একাধিক চেষ্টা করেও ব্রিটিশরা ব্যার্থ হয়। রুশ বিপ্লবের সাফল্যের পর ব্রিটিশদের সাথে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
স্যাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে আফগানিরা ব্রিটিশদের পছন্দ করতোনা । এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রুশরা আফগানিস্তানের তৎকালীন বাদশা আমানুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হয়।
ব্যাপারটি লক্ষ করে ব্রিটিশরা ভীত হয়ে পড়ে কারণ আফগানিস্থান নিয়ে রুশদের পরিকল্পনা তাদের জানা ছিল। বিষয়টি সামাল দিতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে সফল স্পাই লরেন্সকে আফগানিস্থানে প্রেরণ করে।
বাদশা আমানুল্লাহ পশ্চিমা সীমা ধারায় প্রভাবিত ছিলেন। তিনি আফগানিস্থানে ব্যাপক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার করেন। বিশেষ করে তিনি পশ্চিমা ধারায় ব্যাপক নারী শিক্ষার প্রচলন করায় মূল ধারার কট্টর মোল্লারা তাকে পছন্দ করত না।
এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই লরেন্স স্থানীয়দের উস্কে দেন। প্রয়োজনীয় অর্থ অস্ত্র ও সমর্থন পেয়ে কট্টরপন্থী মোল্লারা আমানুল্লাহ কে উৎখাত করতে সক্ষম হন। উৎখাতের কয়েকদিন আগে লরেন্স গোপনে আফগানিস্থানে ত্যাগ করেন।



