প্রযুক্তিব্যবসা ও বাণিজ্যহোমপেজ স্লাইড ছবি
৫০ ডলার খরচ করে পাঁচ মাসে মিলিওনিয়ার!

মুনির হাসান: দক্ষিণ ইংল্যান্ড এর উইয়লশায়ারের ছাত্র অ্যালেক্স টিউ । ২০০৫ সালে ২১ বছর বয়সে অ্যালেক্স এমন একটি কাজ করে যা তাকে কেবল মিলিওনিয়ার বানায়নি, একইসঙ্গে জায়গা করে দিয়েছে ইন্টারনেটের ইতিহাসেও। ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে অ্যালেক্স টিউ একটি ধারণা নিয়ে মাঠে নামে। এর কিছুদিন পরে তার ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামে তিন বছর মেয়াদী বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্সে ভর্তি হওয়ার কথা। তার চিন্তা হলো পাশ করতে করতে তার অনেক টাকা স্টুডেন্ট লোন হয়ে যাবে। কাজে সে একটা ভিন্ন চিন্তা করে। সে চেয়েছে এমনভাবে টাকাটা যোগাড় করতে সেটা যেন দীর্ঘমেয়াদী কোন ঋণ না হয়। যেহেতু সালটা ২০০৫ তাই ফেসবুক ও তখনও প্রভাব বিস্তার করেনি বিশ্বে।
অ্যালেক্সের ধারণাটা ছিল আসলে যে milliondollarhomepage.com নামে একটা ওয়েবসাইট বানাবে সে এবং এটি বানিয়েও ফেলে সে। এতে ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) পিক্সেল আছে (১০০০ বাই ১০০০)। সে প্রতিটি পিক্সেল ১ ডলারে বিক্রি করবে ঠিক করে। ন্যূনতম ১০ বাই ১০ বা ১০০ পিক্সেলের একটি ব্লকে লোগো বসানো যায়। কাজে ১০০ ডলার দিলে আপনি ১০০ পিক্সেল কিনতে পারেন। এবং সেই ব্লকে আপনার ওয়েবসাইটকে লিংক করতে পারেন। খুব সহজ একটা বিজ্ঞাপনী সাইট। ওর হিসাব হলো এতে তার এক মিলিয়ন ডলার আয় হবে! অ্যালেক্স ৫০ ডলার খরচ করে ডোমেইন আর হোস্টিং কিনলো এবং ২ দিন খেটে ওয়েবসাইটটি সে তৈরি করেছিলো। কিন্তু কিভাবে সে মার্কেটিং করবে সে চিন্তায় সে পড়লো । তারপর প্রথমে সে সকল নবীন উদ্যোক্তাদের মত বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয় স্বজনকে এপ্রোচ করে। সবার কাছে বিজ্ঞাপনের জন্য কিছু টাকা চায় । আর সে কারও কাছে বেশি টাকা চায়নি – মাত্র ১০০ ডলার! এভাবে দুই সপ্তাহে সে ৪৭০০ ডলার যোগাড় করতে সক্ষম হলো। কিন্তু এত কম টাকায় সে কিভাবে মার্কেটিং করবে?
সে ভাবলো যেহেতু তার আইডিয়াটি ইউনিক তাই হয়তো মিডিয়া আগ্রহী হতে পারে। কাজে সে একটি পিআর কোম্পানি হায়ার করলো। ওরাই তার হয়ে তার আইডিয়ার কথা লিখে-লিখে লন্ডনের সব মিডিয়াতে পাঠিয়ে দিল। সেই পিআর নজরে পড়লো বিবিসি এবং গার্ডিয়ানের। তারা নিউজ করলো। নিউজ প্রকাশ হওয়ার পড় বিভিন্ন ব্লগার এই নিয়ে লিখালিখি করলো। এতো কিছু হতে থাকলে গ্লোবাল মিডিয়া কি বসে থাকবে?
অ্যালেক্স পেয়ে গেল ৩৫টি দেশে তার কাঙ্ক্ষিত মিডিয়া কভারেজ। শুরু করার ১৩৮ দিন পর, ৩১ ডিসেম্বর ৯ লক্ষ ৯৯ হাজারে পৌঁছে যায় সে। বাকী ১০০০ পিক্সেল বিক্রির জন্য অ্যালেক্স ই-বেতে নিলামের ব্যবস্থা করে। ১১ দিন পর MillionDollarWeightLoss.com ঐ ১০০০ পিক্সেল কিনে নেয় ৩৮ হাজার ডলারে। তার মানে অ্যালেক্সের মোট বিক্রি হলো ১,০৩৭,০০০ ডলার (১০ লক্ষ ৩৭ হাজার ডলার)। এখনকার বাজার মূল্যে এটি মাত্র সাড়ে আট কোটি টাকা!!! মাত্র ৫০ ডলার খরচ করে মিলিয়নিয়ার গল্প পৃথিবীতে আর আছে কিনা বলা কঠিন।



