বিনোদনসিনেমা ও টেলিভিশন
বাংলা সিনেমার কান যাত্রা প্রসঙ্গে

রাজীব সালেহীন: একটি দেশকে সারাবিশ্বের কাছে গৌরবের সাথে পরিচিতি দিতে পারে যে সকল বিষয় তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশের শিল্প সংস্কৃতি, ক্রীড়া। ১৯৯৭ এ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হবার সাথে সাথে সারা বিশ্বে (অন্তত ক্রিকেট ভক্ত আছে এমন একটা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম সুপরিচিত হয়ে উঠেছে)। বাংলাদেশের আপামর মানুষ, দল মত নির্বিশেষে সবাই ক্রিকেট কে দিয়েছে অনন্য সম্মান, ক্রিকেট হয়েছে আমাদের আলোচনার প্রথম সারির টপিক, এ ছাড়াও ক্রিকেট নিয়ে, ক্রিকেট কে উৎসাহিত করতে হয়েছে অনেক কিছু।
রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গুলোতে কখনো নিজেরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে ক্রিকেট নিয়ে তাদের আশাবাদ, তাদের আগ্রহের ফলে ক্রিকেট তো অনুপ্রাণিত হয়েছেই তার সাথে সাথে দর্শক হিসেবে আমাদের কাছে ক্রিকেটের গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ, আমরা বুঝেছি ক্রিকেট শুধু পাড়ার মাঠে খেলার বিষয় না, এ এক অনন্য দক্ষতা, ডিসিপ্লিন, চর্চা যা দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়। ঠাঁই নেয়া যায় বিশ্ব-মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায়, শ্রদ্ধা আর ভালবাসায়। আসলে বলতে এসেছি আমাদের সিনেমার কথা, গাইছি শিবের গীত।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অফিসিয়াল সিলেকশন হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের নাম সিনেমা বিশ্বে জানা হয়ে গেছে, এরপর প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শকের উচ্ছ্বসিত অভিবাদনের ভিডিও, বাংলাদেশ তো বটেই সারা বিশ্বেই হাজার হাজার নতুন স্বপ্নের বীজ বোনে, বাংলাদেশকে সিনেমাপ্রেমী বিশ্ব-মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় অন্তরে জায়গা দেবে নিসন্দেহে। তবে আমরা যেন শুধু ফেসবুকে সাধুবাদ দিয়েই বসে না থাকি, খুব ভাল লাগবে যদি রাষ্ট্রীয় ভাবে এই সিনেমার দলকে সম্মানিত করা হয় তাহলে সিনেমার মানুষজন অনুপ্রাণিত হবে আরো।
ঘরে ঘরে নির্মাতার দেশের সবাই বুঝবে সিনেমা আসলে কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে শুধু একশন বলা না বরং আরো গুরুত্বপূর্ণ, অনন্য এক দক্ষতা, ডিসিপ্লিন, নিষ্ঠা, সততা এবং আরো বহু কিছুর যোগ-বিয়োগ-ভাগ-গুনফল; যা দিয়ে জয় করা যায় বিশ্ব, স্থান নেয়া যায় বিশ্ব-মানুষ হৃদয়ের মনি কোঠায়, শ্রদ্ধায় ভালবাসায়। আশা করি সাদের রেহানা মরিয়ম নূর আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন নিয়ে দেশে ফিরবে। আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে বাংলাদেশের সিনেমাকে।



