খেলাট্রেন্ডিং খবর
মেসির শিরোপা খরা ঘুচবে কি?

মিরাজুল ইসলাম: আগামীকাল মেসি এবং আর্জেন্টিনার জন্য জটিল সমীকরণ মেলাবার দিন। দল হিসেবে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা খরা মেটাবার হিসাব নিকাশ থাকলেও মেসির ক্ষেত্রে বিষয়টা আরো জটিল। কল্পনা করুন, ক্লাসের সেরা ছাত্রটিকে প্রতিবার প্রমাণ দিতে হচ্ছে কেন সে সেরা! একটা পরীক্ষায় দ্বিতীয় হলেই তাকে ‘শূণ্য’ নম্বর দেয়া হচ্ছে। কি পরিমাণ ভয়াবহ মানসিক চাপ! ফাইনালে স্বাগতিক দেশ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সুবিধা পায়। এটা সবাই জানেন। এটা নিয়ে হৈচৈ করার কিছু নেই। মেসিও জানে, খোদ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট চান ব্রাজিল কাপ জিতুক।
সুতরাং আয়োজক প্রশাসন প্রস্তুত কোপা নিয়ে। এক্ষেত্রে রেফারির ছোট্ট একটা সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গতি-প্রকৃতি। VAR নামের প্রযুক্তিও অনেক সময় নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। মেসি এবং তার সতীর্থরা সবই জানে এই সব কিছু বাধা ডিঙাতে হবে। কোন অজুহাত কেউ শুনবে না।তাই সাধারণ পারফরমেন্স যথেষ্ট নয়, অতি-মানবীয় কিংবা দানবীয় শৈলী ছাড়া নিজের শ্রেষ্ঠত্বের পরীক্ষায় আরেকবার উত্তীর্ণ হওয়া ‘অসম্ভব’ মেসির পক্ষে।
নেইমার জানে ব্রাজিলে প্রচুর মেসি ভক্ত আছেন যারা নেইমারের আলগা স্টাইল অপছন্দ করেন। তারা বংশানুক্রমে পাঁড় ‘জোগো বনিতা’র ভক্ত। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফুটবলপ্রেমী ব্রাজিলিয়ানরা রিও ডি জেনারিও’র নাম বদলে উপমা দিয়েছিলো ‘লিও ডি জেনেরিও’! যদিও নেইমার প্রিয় বন্ধুর বিপক্ষে মুখোমুখি হবার অস্বস্তি প্রকাশ আড়াল করতে ‘উদ্দীপনামূলক’ আচরণ করছে, বন্ধুত্ব ঐ সময়ের জন্য বন্ধ ইত্যাদি বলে মাঠ গরম করছে কিন্তু সে জানে মেসি’র সক্ষমতা।
তবে মন্দের ভালো, মেসিকে তাতালে ভালো হয় না ফল প্রতিপক্ষের জন্য। সেটা ঐতিহাসিক সত্য। বরং মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে রাখলে ‘অ্যাভারেজ’ মেসিকে হয়তো দেখা যেত ফাইনালের মাঠে। মেসি এখন চোয়ালশক্ত করে অপেক্ষায় আছে। সেরাটা দেবে সে তারপর যা হবার হবে!



