প্রযুক্তিহোমপেজ স্লাইড ছবি
লুনার ভিআর দেবে চাঁদে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা

মঞ্জুর দেওয়ান: পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে অজানাকে জানার আগ্রহ ভর করেছে মানুষকে। নতুন কিছুকে জানার উদ্দেশ্যে, নিজের মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিতেও পিছু পা হয়নি মনুষ্যকূল! অকুতোভয়ের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বারংবার। আজ থেকে ৫০ বছর আগে এমনই আগ্রহ পেয়ে বসেছিলো মানুষকে। যে আগ্রহের বদৌলতে মানুষ চাঁদে যাওয়ার সাহস করেছিলো। ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই অ্যাপোলো ১১ মিশনে স্যাটার্ন ৫ এ করে চন্দ্রলোকে যাত্রা করেছিলো তিন মার্কিন। ২০ জুলাই চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখে অনন্য নজির স্থাপন করেছিলো নিল আর্মস্ট্রং। প্রথমবারের মতো মানুষের পদচিহ্ন পড়েছিলো পৃথিবী থেকে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪’শ মাইল দূরের এক উপগ্রহে।
১৯৬৯ সালের পর সবমিলিয়ে ১২ জন মানুষ চাঁদের বুকে পা রাখতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি ভারত চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) এই মিশনের কর্ণধার। ১৯৬৯ এ নাসা কিংবা ২০১৯ এ ইসরো চাঁদে মিশন চালিয়েছে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে। ইচ্ছে করলে আপনি এই মিশনের অংশ হতে পারবেন না। কিন্তু দুধের স্বাদ ঘোল দিয়ে পূরণের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন স্বপ্নবাজ যুবক।
ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের দলটি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আয়োজিত স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জে ‘লুনার ভিআর’ তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছে। নাসার দেয়া তথ্য ব্যবহার করে এই অ্যাপটি তৈরি করেছেন টিম অলিক। ছয়টি বিভাগের মধ্যে ‘বেস্ট ইউজ অব ডাটা’ বিভাগে জাপান, ক্যালিফোর্নিয়া ও কুয়ালালামপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সাস্ট অলিক।
শাবিপ্রবির ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মাইনুল ইসলাম, আবু সাদিক মাহদি ও সাব্বির হাসান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম রাফি আদনান। আর মেন্টর হিসেবে নেতৃত্বে ছিলেন শাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী। অ্যাপটির মাধ্যমে চাঁদে ভ্রমণের স্বাদ পাবেন ব্যবহারকারীরা। নাসার অ্যাপোলো ১১ মিশনের ল্যান্ডিং এরিয়া, চাঁদ থেকে সূর্যগ্রহণ, চাঁদ থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবর্তন করা এই তিনটি ভিন্ন পরিবেশকে ভার্চুয়ালভাবে তৈরি করেছে শাবিপ্রবির স্বপ্নবাজরা।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, অ্যাপলিকেশনটির ব্যবহারকারীরা ‘লুনা’ নামের একজন ভয়েস অ্যাসিস্টান্টের সহযোগীতা পাবেন। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে চলাফেরা ও প্রতিক্রিয়াও করতে পারবেন লুনার ভিআর ব্যবহারকারীরা। ভিআর বক্স চোখে দিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন নিল আর্মস্টংয়ের পা রাখা সে স্থান থেকে। এছাড়া চাঁদের বুকে গিরিখাদ, নুড়িপাথরে ছেয়ে থাকা অংশ কিংবা ধুলোমিশ্রিত জায়গাকে বানাতে পারেন নিজের গন্তব্য।
মার্কিন পতাকার দিকে সামান্য হেঁটে আসলেও মানা করবে না কেউ। অক্সিজেন ফুরোনোর কোনো বালাই নেই! নেই কোনো সময়ের বাঁধা। টেক অফের ঝামেলা তো নেই বললেই চলে। বিছানায় বসেই ঘুরতে পারবেন চাঁদের মাটিতে! ফিরে আসার সময়ও বিছানার দেখাই মিলবে। তাহলে আর দেরি কিসে; যাওয়া যাক চন্দ্রাভিজানে।



