বিনোদনসিনেমা ও টেলিভিশনহোমপেজ স্লাইড ছবি
লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান: এই সময়ের দলিল

হৃদয় সাহা: কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানি পুরো পৃথিবীজুড়েই এক মহাব্যাধি। অফিসের বস থেকে সহকর্মীদের লোলুপ দৃষ্টিতে তাদের জীবন দুর্বিষহ উঠে। কেউ বাধ্য হয়ে মানিয়ে নেন বা কেউ প্রতিবাদ করেন। তেমনি সব সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক এই গল্পভাবনা নিয়ে মুস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান’।
সাবিলা একজন সংগ্রামী নারী, অসুস্থ বাবা আর স্বামীকে নিয়ে তার সংসার। স্বামীর থেকে তার সংসারে অবদান বেশি, কাজ করেন সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রে। সেখানকার প্রধান কর্মকর্তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সাবিলার উপর, সে বিচার চায়। এরমাঝে ঘটে যায় এক আশ্চর্যজনক ঘটনা, যার দোষ এসে পড়ে সাবিলার উপর। ফারুকীর এই ওয়েব সিরিজের গল্প ভাবনা দারুণ, যার জন্য তিনি সাধুবাদ পাবেন। ‘No Means No’ এই ওয়েব সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী সংলাপ। মুখ্য চরিত্রে তাসনিয়া ফারিণের উপর ভরসা রেখেছেন ফারুকী,আর ফারিণ ও সুযোগ পেয়ে নিজের সেরাটা দিতে চেষ্টা করেছেন।
ফারুকী সুযোগ দিয়ে ভুল করেন নি, ফারিণের ক্যারিয়ারে এই কাজটি অবশ্যই মাইলফলক হয়ে থাকবে, আফজাল হোসেন কে অনেকদিন বাদে পেলাম, দর্শকদের কাছে নতুনভাবে পরিচিতি পাচ্ছেন তিনি, যার জন্য ফারুকীকে ধন্যবাদ। হাসান মাসুদ বেশ আলো কেড়েছেন, মুকিত জাকারিয়াকেও ভালো লেগেছে, বাবার চরিত্রে মামুনুর রশীদের দক্ষ অভিনেতা। ভালো লেগেছে ক্যামেরার কাজ,শব্দের কাজ আরো মনোযোগ দেয়া যেত। বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই কস্টিউম ডিজাইনারকে, ফারিণ সাজসজ্জা বেশ ভালো লেগেছে। মাশা ইসলামের গান টা তো দারুণই।
চিত্রনাট্য বেশ ধীর গতির,অনায়সে আট পর্বের এই সিরিজ পাঁচ- ছয় পর্বে আনা যেত, তাতে আরো প্রাঞ্জল হত। তাও মানা যেত, তবে ব্যক্তিগত ভাবে চার পর্বের পর যে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়, ঐ ব্যাপার টা ভালো লাগে নি কিংবা পরের ঘটনা বা তদন্তগুলো জমে উঠেনি। যার কারনে অত্যন্ত আশাপ্রদ আর দারুণ দর্শনের কাজ হয়েও যেন শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ হলো না। ধারাবাহিক নাটক বা ওয়েব সিরিজের অন্যতম গুণ হচ্ছে শুধু মুখ্য চরিত্র না,পার্শ্ব চরিত্রগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে,তার উপর সেইসব চরিত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পীরা থাকেন তাতে আশা আরো বাড়ে। কিন্তু এইখানে হতাশ ই হতে হলো,পার্থ বড়ুয়ার মত তারকাও মন কাড়লেন না,ইরেশ যাকের আরো নিষ্প্রভ।
মোস্তফা মনোয়ার দারুণ অভিনেতা, চরিত্রটাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তিনি আরো ভালো করার ক্ষমতা রাখেন। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের মত অভিনেতা থেকে নাদের চৌধুরী, নূর ইমরান মিঠু, রিফাত চৌধুরী, সাবেরী আলমেরাও আছেন, কিন্তু তারা যেন চেহারা দেখানোর জন্য। বরং শরাফ আহমেদ জীবনের স্বল্প অভিনয় চমকপ্রদ লেগেছে, ভেবেছিলাম মারিয়া নূর অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন, তা নাও মিললেও তার নীরব অভিব্যক্তি গুলো ভালো লেগেছে। চঞ্চল চৌধুরীর অতিথি উপস্থিতি পুরো সিরিজ টা দেখে যেতে সাহায্য করেছে,যদিও এটা কাল্পনিক চরিত্র।
লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান একটা কারনে বিশেষ হয়ে থাকবে, সেটা হচ্ছে সময়কে ধারণ করার জন্য। সাম্প্রতিক কালের আমাদের দেশের কিছু ইস্যুকে উপস্থাপণ করা। নাস্তিক, ফরাসী পণ্য বয়কট সহ আরো কিছু। নির্মাতা হিসেবে ফারুকীকে খুব মিস করি, টিভি নাটকে তো দেখা যায় না, সিনেমাও আটকে থাকে। তাই ওয়েবের জগতে উনাকে স্বাগত, আমি বিশ্বাস করি আপনি যদি আপনার দর্শন, নির্মাণ গুণের সেরাটা দিয়ে কাজ করেন তাহলে সেই ফিকশনগুলো হয়ে উঠবে একেক টা মাইলফলক।



